1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনে কেন জিতল বিএনপি | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনে কেন জিতল বিএনপি

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো বিপ্লব হয়ে ওঠেনি; বরং এটি ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের মীমাংসা।

ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে ক্ষমতায় ফিরেছে। টানা ১৫ বছর শেখ হাসিনার শাসনামলের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় প্রান্তিক অবস্থায় থাকার পর এটি ছিল দলটির প্রত্যাবর্তন।

অনেক শিরোনামে একে ‘নাটকীয় কামব্যাক’ বলা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আবেগের জোয়ার নয়; বরং ছিল ক্ষোভ, বাস্তবতা এবং ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (এফপিটিপি) পদ্ধতির অঙ্কে গড়া একটি ফলাফল। এই ব্যবস্থায় ভোটের শতকরা হার বাড়লেই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয় না।

জামায়াত প্রসঙ্গ: সাফল্য, কিন্তু সীমাবদ্ধতা

নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর দেখা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত) এককভাবে ৬৮টি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। ১৯৯১ সালে ১৮টি আসন ছিল তাদের আগের সেরা অর্জন। সে তুলনায় এবারের ফল ঐতিহাসিক। অনেক বিশ্লেষক আগে থেকেই বলেছিলেন, জামায়াতের সমর্থন বেড়েছে-ফলাফলে তার প্রতিফলনও দেখা গেছে।

তবে ৩০০ আসনের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ১৫১টি আসন জিততে হলে কেবল ভোটের হার বাড়লেই হয় না; প্রয়োজন সমানভাবে ছড়িয়ে থাকা জাতীয় ঢেউ। সেই ঢেউ তৈরি হয়নি।

এটি কি ‘বিপ্লবের নির্বাচন’ ছিল?

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটে। কিন্তু তার পরবর্তী নির্বাচন আদর্শিক পুনর্বিন্যাস ঘটায়নি। ভোটারদের মানসিকতায় মৌলিক পরিবর্তন বা দীর্ঘস্থায়ী আনুগত্য-বদল দেখা যায়নি।

এটি ছিল আংশিকভাবে স্বাভাবিক নির্বাচন, কিছু ব্যতিক্রমসহ-তবে ফলাফল ছিল পূর্বানুমেয়।

দলীয় সমর্থকদের বড় অংশ ভোটকেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে দোদুল্যমান ভোটারদের গুরুত্ব বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় ভোটাররা সাময়িকভাবে জামায়াত বা নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিকে ঝুঁকেছেন।

ক্ষোভ, কিন্তু পতন নয়

৫ আগস্টের পর বিএনপির তৃণমূল সাংগঠনিক কাঠামোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। গ্রামগঞ্জের হাট-বাজার থেকে শহরতলিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভোটার প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এই ক্ষোভই জামায়াতের উত্থানের একটি বড় কারণ। বিএনপির কিছু সমর্থক ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দোদুল্যমান ভোটার ‘সৎ বিকল্প’-এর আশায় জামায়াতের দিকে সরে যান।

তবে বিএনপির ঐতিহাসিকভাবে বিস্তৃত ও গভীর সাংগঠনিক ভিত্তি ভেঙে পড়েনি। প্রার্থী বাছাইয়ে দলটি কৌশলী ছিল। যেখানে জামায়াত তুলনামূলক কম পরিচিত কিন্তু আদর্শিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিয়েছে, সেখানে বিএনপি দিয়েছে পরিচিত মুখ- যাদের স্থানীয় নেটওয়ার্ক শক্তিশালী।

গ্রামীণ বাস্তবতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শহুরে শিক্ষিত ভোটারদের কাছে নৈতিকতার ভাষ্য আকর্ষণীয় হলেও, গ্রামীণ ভোটাররা বাস্তববাদী। তাদের কাছে সংসদ সদস্য কেবল আদর্শের প্রতীক নয়; তিনি নিরাপত্তা, কাজ, সহায়তা ও সালিসি ব্যবস্থার মধ্যস্থতাকারী। সততা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পরিচিতি ও নেটওয়ার্ক অনেক সময় বেশি কার্যকর।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা ‘অজানা সততার’ চেয়ে ‘পরিচিত দুর্বলতাকে’ বেছে নিয়েছেন।

নারীর প্রশ্ন ও ১৯৭১: কৌশলগত ভুল

নারী অধিকার বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান- কখনো আশ্বাস, কখনো রক্ষণশীল ইঙ্গিত-নারী ভোটারদের বড় অংশকে আস্থায় নিতে পারেনি। বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে নারীর ভূমিকা এখন কেন্দ্রীয়। শ্রমবাজার, শিক্ষা ও ক্ষুদ্রঋণ অর্থনীতিতে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি অস্বীকার করা যায় না।

একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে সংশোধনবাদী অবস্থানও অনেক ভোটারকে দূরে সরিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ দেশের নৈতিক ভিত্তি। এ প্রসঙ্গে নমনীয়তা দেখানোর চেষ্টা ভোটারদের একাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

তবুও জামায়াতের ৭৭ আসন অর্জন ঐতিহাসিক। রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগে তাদের সাংগঠনিক শক্তি কার্যকর ছিল। কিন্তু সমর্থন ছিল অঞ্চলভিত্তিক-জাতীয় ঢেউয়ে রূপ নেয়নি।

আওয়ামী লীগের ‘নীরব ভোট’

অনেক বিশ্লেষণে আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট ভোটব্যাংককে অবমূল্যায়ন করা হয়। জরিপ বলছিল, একটি কোর সমর্থকগোষ্ঠী দল ছাড়বে না। এর বাইরে ছিল উল্লেখযোগ্য ‘নীরব’ ভোটার- যারা মত প্রকাশে অনীহা দেখালেও নির্বাচনে ভূমিকা রাখেন।

মাঠপর্যায়ের গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, এদের বড় অংশ কৌশলগতভাবে বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে- আদর্শগত কারণে নয়, বরং সম্ভাব্য বিজয়ীর সঙ্গে থাকার বাস্তব হিসাব থেকে।

এনসিপির উত্থান

এই নির্বাচনের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো এনসিপির পাঁচ আসন জয়। অত্যন্ত মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দলের জন্য এটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এমন দল আরও বড় পরিসর পেতে পারত। তবে এফপিটিপি ব্যবস্থায় পাঁচ আসনই একসঙ্গে অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতার প্রতীক।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ