দীর্ঘ ২৭ বছর পর নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ছাত্রদলের ইউনিট কমিটি গঠন প্রক্রিয়া। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ ও কবি নজরুল কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটিও ঘোষণা হতে পারে। ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ এসব কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রদলের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা তৎপর হয়ে উঠেছে। সংগঠনটির এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হঠাৎ আলোচনা-সামালোচনায় উঠে এসেছে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাসেলের নাম।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছে, গঠিত হতে যাওয়া ঢাকা কলেজ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য তৎপর দেলোয়ার হোসেন রাসেল ছাত্রদলে একজন অনুপ্রবেশকারী। তিনি (রাসেল) ছাত্র জীবনে ছাত্র শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্র শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন রাসেল। পরবর্তিতে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর রাসেল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। এরপর বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার হাত ধরে ছাত্রদলে প্রবেশ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিতে দেলোয়ার হোসেন রাসেল দলের সিনিয়র নেতাদের বাসায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে অথচ এই রাসেল আমাদের সংগঠনের কেউ না। তিনি (রাসেল) দলে অনুপ্রবেশকারী। তার নামে ছিনতাই, অস্ত্র ও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হয়ে মারামারি করার মামলা রয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন রাসেলের নিজ জেলা পাবনার জেলা ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা জানান, দেলোয়ার হোসেন রাসেল পাবনা সরকারি বুলবুল কলেজের ছাত্র ছিল। সে সময় রাসেল ছাত্র শিবিরের ‘সাথী’ ছিল। তার পরিবারের অনেকেই জামাতের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়। এছাড়া রাসেলের বাবা হাফেজ মওলানা শাহদাহত হোসেন জামায়াতে ইসলামীর ‘রুকন’।

ঢাকা কলেজের নর্থ হলের এক ছাত্রদল নেতা জানান, ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন দেলোয়ার হোসেন রাসেল। তিনি হলের ১২০ নম্বর রুমে থাকতেন। সেখানে সাবেক ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা গালিবের সাথে পরিচয় হয় এবং তার হাত ধরেই ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন রাসেল। গালিবের বাড়ি পাবনা হওয়ায় খুব দ্রুত রাসেল তার (গালিব) আস্থাভজন হয়ে উঠেন।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সামনে ২০০৯ সালে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই করে রাসেল। এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা হয় রাসেলের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় গ্রেফতার হয় রাসেল। পরে সে সময়ের নিউমার্কেট থানা পুলিশের সহায়তায় ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেফতার রসেলকে মুসলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনে ছাত্রলীগ নেতা গালিব।
এছাড়া রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তারই ঢাকা কলেজের সহপাঠী। তিনি নাম প্রকাশ না করার সর্তে বলেন, ২০১০ সালের জানুয়রি মাসের দিকে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ ও টিচার্স ট্রনিং কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সে সময়ে রামদা হাতে সামনের সারিতেই মারমুখি ভূমিকায় ছিল রাসেল। ওই ঘটনায় কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে রাসেলের ছবিসহ ছাপা হয়।
তিনি আরও বলেন, ওই বছরেরই (২০১০) মার্চ মাসে ঢাকা কলেজে আরও একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের শিহাব-রনি ও তারেক-গালিব-টিটো গ্রুপের সংঘর্ষ ছিল সেটি। ওই ঘটনায় পুলিশি অভিযানে সে সময়ের ছাত্রলীগের নেতা আব্দুল বাছেদ গালিব ও দেলোয়ার হোসেন রাসেলসহ ৭১ জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ওই ঘটনায় গালিবের কাছ থেকে অস্ত্রসহ ৫২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘আমার সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সবই ভিত্তিহীন। আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি খুবই সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে। আমার বাব-দাদা সবাই আলেম-ওলামা। আমি এগুলা চিন্তাই করতে পারিনা। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায়, তাকে সামনে রেখে এখন আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।’
এসএসআর