1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে রহস্যময় ফ্লাইট | ঢাকা আওয়ার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে থাই উদ্যোক্তাদের প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রীর আহ্বান পুলিশের আরও ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন, সংবিধানে সেই সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই ছাত্র বিক্ষোভে অচল দিল্লি, হস্তক্ষেপের হুুঁশিয়ারি প্রধান বিচারপতির এবার জুলাই গণহত্যায় গ্রেপ্তার মোজাফফর, জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দুই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ১৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত সংসদের চিঠির পর : ইসি মাছউদ ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী ৪-৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত বাংলাদেশ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে রহস্যময় ফ্লাইট

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে রহস্যময় ফ্লাইট, পেছনে ‘ইসরায়েলি গ্রুপ’

গত নভেম্বরে গাজা থেকে আসা প্রায় ১৫০ জন ফিলিস্তিনিকে নিয়ে একটি উড়োজাহাজ যখন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবতরণ করল, সেখানে উপস্থিত সবাই বিস্মিত হলেন।

তবে এরকম ঘটনা আরো ঘটেছে। বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট লিখেছে, গত মে মাস থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ছাড়তে নিবন্ধন করা বাসিন্দাদের নিয়ে অন্তত তিনটি ফ্লাইট ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অবতরণ করেছে।

আর এপির অনুসন্ধান বলছে, এসব ফ্লাইটের পেছনে রয়েছে এক ইসরায়েলি গোষ্ঠী, যারা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্য জায়গায় পুনর্বাসনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে এসেছে।

ফলে গাজা থেকে শত শত মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার এই উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা সে সময় বলেছিলেন, এই ফ্লাইটগুলোর আসল উদ্দেশ্য হল, ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার নামে গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে তাদের মুছে ফেলা।

চুক্তিপত্র, যাত্রী তালিকা, টেক্সট মেসেজ, আর্থিক নথি এবং দুই ডজনের বেশি ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এপি বলছে, ইসরায়েলি সৈন্য ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন এড কান ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ আড়াল করতে অন্য একটি কোম্পানির মাধ্যমে এসব ফ্লাইটের আয়োজন করে।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর গাজা থেকে পালিয়ে এসেছেন– এমন কয়েকজন যাত্রী বলেছেন, তাদের সরিয়ে নেওয়ার পেছনে কারা ছিল, তা তারা জানতেন না। তবে তা নিয়ে তাদের খুব একটা মাথাব্যাথাও নেই। তারা গাজা থেকে বের হতে চাইছিলেন, সেই সুযোগ পাওয়াটাই ছিল তাদের কাছে মুখ্য।

নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানো ৩৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি বলেন, “গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছিল, আমাদের বাঁচার আর কোনো উপায় ছিল না। আমার সন্তানরা প্রায় মারা যাচ্ছিল। দুই বছর ধরে চারদিকে শুধু মৃত্যু আর ধ্বংস দেখেছি, কেউ উদ্ধার করতে আসেনি।”

সহযোগিতার চেষ্টা?

এসব ফ্লাইট আয়োজনের ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করে গেছে এড কান। ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার কাজটি করা হয়েছে আল-মজিদ নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে। ওয়েবসাইটে তারা নিজেদের পরিচয় দিয়েছে ‘ফিলিস্তিনিদের সমর্থনকারী’ এবং ‘সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মুসলমানদের সহায়তাদানকারী মানবিক সংস্থা’ হিসেবে।

তবে এপির অনুসন্ধান বলছে, এড কান এবং এর প্রতিষ্ঠাতা গিলাদ আখ–এর অতীত কার্যক্রম খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এ উদ্যোগের পেছনে অন্তত আংশিকভাবে হলেও ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

হিব্রু ভাষায় ‘এড কান’ অর্থ ‘আর নয়’ বা ‘যথেষ্ট হয়েছে’। সংগঠনটি বহু বছর ধরে গোপনে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে অনুপ্রবেশ করে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ‘ইহুদিবিরোধী’ বা ‘ইসরায়েলবিরোধী’ কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে আসছে।

ইসরায়েলি কমব্যাট রিজার্ভ সদস্য আখ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্দোলনের একজন কর্মী এবং গত বছর গাজা থেকে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের প্রস্তাবের জোরালো সমর্থক ছিলেন।

ট্রাম্প সেই প্রস্তাব দেওয়ার পর আখ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছায় প্রস্থান’ প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সেখানে বলা হয়, ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব এবং এ কাজে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় বিভিন্ন দেশকে যুক্ত করা যেতে পারে, যারা ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেবে।

সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়া ‘খুবই সম্ভব’, কারণ তারা গাজা ছাড়তে চায়। আর ইসরায়েলের স্বার্থেই গাজাকে ‘ফিলিস্তিনিমুক্ত’ করা দরকার।

আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র সমালোচনা হওয়ায় পরে ট্রাম্প তার ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন, এমনকি জাতিসংঘ মহাসচিবও বলেছিলেন, এমন প্রস্তাব ‘জাতিগত নির্মূলের’ শামিল হতে পারে। ট্রাম্প পরে বলেন, ফিলিস্তিনিরা গাজাতেই থাকতে পারবে।

তবে ইসরায়েলের ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো, যাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের সদস্যরাও আছেন, তারা এখনও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার ধারণাকে সমর্থন করেন, যাতে ইসরায়েল ওই এলাকায় একদিন নিজেদের লোকজনের বসতি তৈরি করতে পারে।

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে ইসরায়েল সরকার সোমালিল্যান্ড, দক্ষিণ সুদান ও সুদানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিল, আর যুক্তরাষ্ট্রও তা জানত।

এ কাজের জন্য গত বছরের শুরুতে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন ব্যুরো’ নামে একটি উইংও খোলা হয়।

মানবিক উদ্যোগ?

২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ‘দ্য ইসরায়েলি রিজার্ভিস্ট জেনারেশন অব ভিক্টরি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন আখ।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী সংবাদমাধ্যম আরুৎজ সেভাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাদের বার্তার একটি অংশ হল–“আমাদের শত্রুদের অভিবাসন।”

আখের সংগঠন ইসরায়েলের বিভিন্ন বাসে বিজ্ঞাপনও দিয়েছি, যেখানে ট্রাম্পের ছবির পাশে হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল: ‘বিজয়=স্বেচ্ছা অভিবাসন… এই বাস গাজাবাসীতে পূর্ণ হতে পারত। ট্রাম্পের কথা শুনুন, তাদের বের হতে দিন!’

যুদ্ধ শুরুর পর ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম জুইশ নিউজ সিন্ডিকেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আখ বলেন, গাজায় ইসরায়েলের বিজয় তখনই আসবে, যখন ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সীমান্ত খুলে দেওয়া যাবে, যাতে মানুষ চলে যেতে পারে।

“ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূখণ্ড হারাবে, তাদের জনসংখ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে–সেটাকেই বলা যাবে স্পষ্ট বিজয়।”

এপি লিখেছে, এই প্রতিবেদনের জন্য তারা আখের সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিল। কিন্তু আখ তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যারা নিরাপদ জায়গায় যেতে চায়, তাদের অধিকার সমর্থনকারী সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে পেরে তিনি গর্বিত।

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের মুছে দিতে ফ্লাইট পরিচালনার যে অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকা করেছে, তা অস্বীকার করেন আখ। তিনি দাবি করেন, এসব ছিল মানবিক ফ্লাইট। যারা গাজা ছেড়েছেন, তারাই সহায়তার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন এবং কেউ কেউ খরচের অংশও দিয়েছেন।

অনেক দেশ যে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিতে রাজি নয়, সেটাকে তাদের ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে দেখার কথাও আখ তার বার্তায় বলেন।

তার ভাষায়, “গাজায় ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ফিলিস্তিনিদের থাকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে,যা হামাসকে এই দুর্ভোগে থাকা জনগণের ওপর শাসন বজায় রাখতে সাহায্য করছে।”

তবে আল-মজিদকে ব্যবহার করে এ উদ্যোগের সঙ্গে ইসরায়েলের সংযোগ আড়াল করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নের জবাব দেননি আখ।

সমালোচকদের প্রশ্ন

সমালোচকদের মতে, যুদ্ধের কারণে গাজার বড় অংশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় এ ধরনের স্থানান্তরকে ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ বলা কঠিন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সতর্ক করে বলেছে, যারা গাজা ছাড়ছে তাদের ফিরে আসার সুযোগ থাকতে হবে। আর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে তারা ফিলিস্তিনিদের গাজায় ফিরে আসা কঠিন করে তোলে।

কীভাবে পরিচালিত হয়েছে ওই ফ্লাইট

গাজা থেকে এসব ফ্লাইটে দেশান্তরী হওয়া ছয়জন ফিলিস্তিনির সঙ্গে কথা বলেছে এপি।

তাদের কয়েকজন বলেছেন, ২০২৫ সালের শুরুতে তারা শুনতে পান যে একটি কোম্পানি গাজা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিচ্ছে। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখেছেন, কেউবা বন্ধুদের মাধ্যমে আল-মজিদ এর ওয়েবসাইটের খোঁজ পেয়েছেন।

তখনও গাজায় যুদ্ধ চলছিল এবং অনেক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। কোথায় যাচ্ছেন তা না জেনেই অনেকে শুধু গাজা থেকে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

গত বছরের নভেম্বরে জোহানেসবার্গে ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মাস আগে, মে মাসে একটি ফ্লাইট প্রায় ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েল থেকে হাঙ্গেরি হয়ে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ে যায়।

অক্টোবরে দ্বিতীয় আরেকটি ফ্লাইট প্রায় ১৭০ জন ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েল থেকে কেনিয়া হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যায়।

ছয়জন ফিলিস্তিনির সঙ্গে কথা বলেছে এপি। তারা বলেছেন, ফ্লাইটে জায়গা পেতে ব্যাংক ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন তারা।

ওয়েবসাইটে বলা হয়েছিল তাদের দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ায় নেওয়া হতে পারে, তবে গন্তব্য বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

ফ্লাইট প্রস্তুত হলে তাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে যেতে বলা হত। সেখান থেকে বাসে করে গাজা থেকে ইসরায়েলে নেওয়া হত, তল্লাশি শেষে সীমিত কিছু জিনিস নিয়ে উঠতে দেওয়া হত ফ্লাইটে।

ফ্লাইট আয়োজনের চুক্তি

এপির অনুসন্ধান বলছে, আমেরিকান-ইসরায়েলি ব্যবসায়ী মোটি কাহানা গত অগাস্টে এড কান এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

আফগানিস্তান, ইউক্রেইন ও সিরিয়ার মত সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকা কাহানা জানান, দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দর থেকে তিনশর বেশি ফিলিস্তিনিকে ইন্দোনেশিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার কথা তাকে বলা হয়েছিল।

চুক্তিতে বলা ছিল, ‘ফ্লাইট রেসকিউ সার্ভিস’ দেবার বিনিময়ে তার কোম্পানি কমপক্ষে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাবে।

তবে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার সময় গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া থেকে পাল্টে হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর তিনি এই কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ান।

নভেম্বরে দ্বিতীয় ফ্লাইট দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পর দেশটির সরকার ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের জন্য ৯০ দিনের ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা বাতিল করে। কারণ হিসেবে বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত অভিবাসন প্রচেষ্টায় ইচ্ছাকৃতভাবে ওই ভিসা সুবিধার ‘অপব্যবহার’ করা হচ্ছে।

কাহানা বলেন, আখ তার কাছে দাবি করেছিলেন, আল-মজিদ আরব ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত, তবে তারা ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা প্রকাশ করতে চায় না।

কাহানার ভাষায়, “একই লোক, একই কোম্পানি—শুধু নাম আলাদা। তাদের ওখানে ফোন করলে আরবি ভাষাভাষী লোকজন ফোন ধরে। যাতে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা দেখা না যায়, সেজন্য আরব চেহারা তারা ব্যবহার করে।”

কাহানা জানান, আখের দল তাকে যাত্রীদের একটি স্প্রেডশিট দিয়েছিল, যেখানে ফ্লাইটের জন্য অর্থ দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা ছিল।

এপি সেই নথিতে অন্তত ১৩ জনের নাম দেখেছে, যাদের পরিবার বলেছে তারা আল মজিদের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অর্থ দিয়েছিলেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছেন।

আল-মজিদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে জার্মানিতে এ প্রতিষ্ঠানের শুরু। পূর্ব জেরুজালেমে তাদের একটি অফিস রয়েছে, যদিও ঠিকানা দেওয়া হয়নি। জার্মানির নিবন্ধিত দাতব্য বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ডেটাবেজে আল-মজিদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এপি বলছে, এড কান সরাসরি ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে কাজ করছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়তে হলে ইসরায়েলের অনুমতি প্রয়োজন।

আল-মজিদ এর ওয়েবসাইটে গাজার ‘মানবিক প্রকল্প’ ব্যবস্থাপক হিসেবে নাম থাকা মুয়াইয়াদ সাইদাম এপিকে ফোনে বলেন, তিনি এড কান বা গিলাদ আখ সম্পর্কে জানেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, ফিলিস্তিনিদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।

ইসরায়েল সরকারের মন্তব্য নেই

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের যাতায়াতের অনুমতি তদারকি করা প্রতিরক্ষা সংস্থা সিওজিএটি ওই ফ্লাইটগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সিওজিএটি আগে বলেছিল, গাজা থেকে কেউ যদি অন্য দেশে যাওয়ার ভিসা পায়, তাহলে ইসরায়েল হয়ে তাদের বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে গাজা থেকে যারা বেরিয়ে গেছেন, তাদের আবার ফিরে আসতে দেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর দপ্তর, সিওজিএটি কিংবা আখ কেউই এপির প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়া কয়েকটি পরিবার এপিকে বলেছে, তারা জানতেন না যে ফ্লাইটগুলোর পেছনে ইসরায়েলিরা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণও ছিল না।

এক ফিলিস্তিনি বলেন, “কোথায় নিয়ে যাবে না জেনেই আমি রাজি হয়েছিলাম। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার পরিবারকে গাজা থেকে বের করে আনা, তাদের বাঁচানো।”

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ