1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
চুক্তি বাতিলের সুযোগ নেই, দাম কমানোর চেষ্টা চলছে : সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী | ঢাকা আওয়ার
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন

চুক্তি বাতিলের সুযোগ নেই, দাম কমানোর চেষ্টা চলছে : সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে ‘সভরেইন গ্যারান্টি’ থাকায় চাইলেই তা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যেসব বিদ্যুৎ প্রাইভেট কোম্পানিকে দিয়েছিল এবং তাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল, সেখানে সভরেইন গ্যারান্টি দেওয়া হয়। সভরেইন গ্যারান্টি মূলত রাষ্ট্রের গ্যারান্টি, যা বাতিল করা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।তবে সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিশেষ করে লেট পেমেন্ট ফি না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে একটি ফলপ্রসূ আলোচনার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র যখন উৎপাদন কার্যক্রমে প্রবেশ করে, তখন সিস্টেমকে সচল রাখার জন্য কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গেই জোড়াতালি দেওয়া যায় না কিংবা শক্ত নেগোসিয়েশন করা যায় না। সেইজন্য যতদিন পর্যন্ত এদের সঙ্গে চুক্তি বহাল আছে, সরকার চেষ্টা করবে যেন বিদ্যুতের দাম কমিয়ে নিয়ে আসা যায় এবং সহজ মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলমান নেই এবং তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তিও বিদ্যমান নেই। তবে দুটি রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে, যা বর্তমানে সচল রয়েছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলমান না থাকায় এখন কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে দৈনিক প্রায় ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ঢাকা শহরেও প্রকৃত চাহিদার বিপরীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস বরাদ্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। এই ঘাটতির কারণেই মূলত সব এলাকায় গ্যাস বিতরণ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

যশোর-৪ আসনের গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লস ছিল ৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং বিতরণ লস ছিল ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অপরদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সঞ্চালন লস দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং বিতরণ লস কমে হয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

রংপুর-৩ আসনের মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পেতে শুরু করেছে। তবে এই মূল্য হ্রাসের পরেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো ব্রেক-ইভেন্টের ওপরে রয়েছে। ফলে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রয়ে বিপিসিকে এখনো দৈনিক ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ হতে ২৩ জুন পর্যন্ত বিপিসিকে সর্বমোট ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য আরও হ্রাস পেয়ে সহনশীল পর্যায়ে এলে জনজীবনে স্বস্তি আনার লক্ষ্যে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।

সংরক্ষিত আসনের সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০ এর অধীনে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করার জন্য গঠিত দুটি কমিটি ইতোমধ্যে পৃথক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বর্তমানে ওই প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ