1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
ঢাকায় কখন, কীভাবে শুরু হয়েছিল তাজিয়া মিছিল? | ঢাকা আওয়ার
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন

ঢাকায় কখন, কীভাবে শুরু হয়েছিল তাজিয়া মিছিল?

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

কালো পোশাক পরে, নিজের বুকে হাত দিয়ে চাপড়িয়ে ‘ইয়া হোসেন, ইয়া হোসেন’ শোকের মাতম তুলে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবারা থেকে বের হয় বাংলাদেশে মহররমের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল।

তবে শুধু এই ইমামবারাই নয়, বরং বাংলাদেশে শিয়া অধ্যুষিত আরো বেশ কিছু ইমামবারা যেমন মোহাম্মদপুর, মিরপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে এই মিছিল বের হওয়ার রীতি বেশ পুরোনো।

আররি বর্ষপঞ্জী বা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এখন চলছে মহররম মাস। এই মাসেরই ১০ তারিখকে আশুরা হিসেবে করা হয়।

আশুরা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটিও থাকে বাংলাদেশে।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, হিজরি ৬১ সনের মহররম মাসের এই দিনেই ইসলামের নবী মোহাম্মদের দৌহিত্র ইমাম হোসাইন ও তার পরিবারের সদস্যরা যুদ্ধ করতে গিয়ে কারবালার ময়দানে ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে নিহত হন।

তবে এই দিনটি ইসলামে নবী-রাসুলদের জীবনে আরো বিভিন্ন কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের নবী মোহাম্মদের সময়ের আগেও এই মাসের দশম দিন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। ওইদিন আদম ও হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছিল; আবার ফেরাউনের হাত থেকে মুসা নবীর অনুসারীদের মুক্তি পাওয়ার দিনও বলা হয় এটিকে।

বিশ্বজুড়ে দিনটি ভিন্ন ভিন্নভাবে পালন করেন সুন্নি ও শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।

সুন্নিরা প্রধানত নফল রোজা পালন করেন। তবে শোক পালনকেই বড় করে দেখেন শিয়ারা।

কারবালার ঘটনার স্মরণে শোক প্রকাশের অন্যান্য রীতির পাশাপাশি তাজিয়া মিছিল করেন বাংলাদেশের শিয়া মুসলিমরা। ইরান-ইরাকসহ শিয়া প্রধান ও মুসলিম বিভিন্ন দেশেও এ ধরনের মিছিল দেখা যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এবার রাজধানীর লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর অঞ্চলের ইমামবারা থেকে মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল বের হবে।

এসব মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

কিন্তু এই তাজিয়া শব্দের অর্থ কী, কখন এবং কীভাবে বাংলাদেশের ঢাকায় এই তাজিয়া মিছিলের সূচনা হয়, সেটি নিয়েও মানুষের মনে রয়েছে বেশ কৌতুহল।

তাজিয়া অর্থ কী?
আরবি ভাষা থেকে এসেছে ‘তাজিয়া’ শব্দটি। যার অর্থ শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা। উর্দু ও ফারসি ভাষায়ও শব্দটি প্রচলিত।

আমেরিকান শিক্ষাবিদ, ধর্মতাত্ত্বিক ও লেখক জন নরম্যান হলিস্টারের “দ্য শিয়া অব ইন্ডিয়া” বইয়ে বলা হয়েছে, মহররমের অনুষঙ্গগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তাজিয়া।

“শব্দটি শোক বা সান্ত্বনা বোঝায়। মূল অর্থে শব্দটি সহানুভূতি প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং সেই কারণে এটি হোসাইনের শোকগাঁথা প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য,” বলা হয়েছে মি. হলিস্টারের এই বইটিতে।

কারবালার ময়দানের ঘটনায় শিয়াদের কাছে মহররমের প্রথম দশদিন শোকের উল্লেখযোগ্য দিন হয়ে ওঠে বলে লিখেছেন মার্কিন লেখক জন নরম্যান হলিস্টার।

এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলা পিডিয়াতে তাজিয়া বিষয়ে বলা হয়েছে, কারবালার যুদ্ধে নিহত ইমাম হোসাইনের সমাধির প্রতিকৃতি হলো তাজিয়া।

সাধারণ অর্থে শোক বা সমবেদনা প্রকাশ করা বোঝালেও বিশেষ অর্থে শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের আবেগ সৃষ্টি করে যে অনুষ্ঠান, সেটিকে তাজিয়া বলা হয়। অর্থাৎ, ইমাম হোসাইনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পালিত হয় তাজিয়া।

দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম (১০ম খণ্ড), দ্য শিয়া অব ইন্ডিয়া এবং বাংলাপিডিয়া এই তিনটি উৎস থেকে মোটামুটিভাবে তাজিয়া মিছিল সম্পর্কে জানা গেছে।

মুহররম মাসের প্রথম দশদিন জুড়েই কারবালার ঘটনা উপলক্ষে শোক পালন করে শিয়া সম্প্রদায়।

আর আশুরা বা দশম দিনে ইমাম হোসাইনের সমাধির প্রতিকৃতি বা তাজিয়া নিয়ে মিছিল করার কারণেই এর নাম হয়েছে তাজিয়া মিছিল।

তাজিয়া মিছিলের বৈশিষ্ট্য কী?
বাংলা পিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত তাজিয়া মিছিলে ইমাম হোসাইনের বহন করা সমাধির প্রতিকৃতি বা তাজিয়া কাঠ, কাগজ, সোনা, রূপা, মারবেল পাথর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয়।

তবে, ঢাকার হোসেনী দালানের তাজিয়াটি কাঠ ও রূপার আবরণ দিয়ে তৈরি, যেটি নবাব সলিমুল্লাহ দান করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাপিডিয়ায়।

এই তাজিয়া মিছিলের লক্ষণীয় দিক হলো, মাতম করা, বুক চাপড়ানো ও জিঞ্জির দিয়ে পিঠের ওপর আঘাত করে রক্তাক্ত করা।

তাজিয়া মিছিলের আরেকটি লক্ষনীয় দিক হলো, মিছিলের একেবারে অগ্রভাগে থাকে ‘আলম’ বহনকারী বাহিনী। তাদের পেছনে থাকে বাদ্যকর।

জন নরম্যান হলিস্টারের দ্য শিয়া অব ইন্ডিয়া বইটিতে বলা হয়েছে, এই ‘আলম’ হচ্ছে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের হাতে দেখা যায়, বিশাল দণ্ড, যেটির মাথায় ক্রেস্ট বা চূড়া, ব্যানার কিংবা পতাকা বসানো থাকে।

পাঁচ আঙুলের একটি খোলা হাতের আকৃতি, যেটি পাঞ্জতন অর্থাৎ ইসলামের নবীর পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে নির্দেশ করে। এই দণ্ডের নামই ‘আলম’।

তাদের পেছনে কয়েকজন লোক লাঠি ঘোরাতে ঘোরাতে এবং তরবারি চালাতে চালাতে অগ্রসর হয়।

‘দ্য শিয়া অব ইন্ডিয়া’ বইটিতে বলা হয়েছে, তাজিয়া মিছিলের এই দিকটি ১৯২৭ সালের অনেক আগে, দিল্লির শাসক নিজাম তার রাজ্যে “মহররমের শোক পালনের সময় চেইন এবং কাঁটাযুক্ত তক্তা দিয়ে বুক ও পিঠে আঘাত করার” প্রথা নিষিদ্ধ করে একটি ফরমান জারি করেছিলেন।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে এই বছর তাজিয়া মিছিলে ছুরি, চাকু, লাঠি, তরবারি, বর্শা বহন করা যাবে না বলে বুধবার জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

বাংলাদেশের তাজিয়া মিছিলের লক্ষণীয় দিকের মধ্যে আরো রয়েছে, তরবারি দলের পেছনে এ সময় দুইটি শিবিকাসহ(দুইটি পালকি, বর বা বধু বহন করার যান) অশ্বারোহী সৈন্যের সাজে কয়েকজন লোক শোক প্রকাশ করতে করতে অগ্রসর হয়।

মিছিলের পেছনে সুসজ্জিত ঘোড়াটির নাম ‘দুলদুল’, যেটি টেনে নিয়ে আসা হয় মিছিলে, সেটির পায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শোক প্রকাশ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে জন নরম্যান হলিস্টারের বইয়ে।

তার পেছনে একদল গায়ক শোকগান গাইতে থাকে এবং পরে থাকে ইমাম হোসাইনের সমাধির প্রতিকৃতি।

এভাবে মিছিলটি নিয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন সামনে এগিয়ে চলে এবং একটি পূর্ব নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয় তাজিয়া মিছিল, বলছে বাংলাপিডিয়া।

ঢাকায় কার আমলে, কখন থেকে তাজিয়া মিছিলের প্রচলন?
বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞান কোষ বাংলা পিডিয়ায় বলা হয়েছে, শিয়া মতবাদের উদ্ভব ইরাকে ও ইরানে হলেও সেখানে শোক মিছিলে এমন তাজিয়া বহন করা হয় না।

তবে, ইসলামিক স্কলার অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানে শিয়া মুসলিমরা রয়েছেন, সেখানেই ইমাম হোসাইনের স্মরণে ঐতিহ্য হিসেবে তারা শোক মিছিল বা তাজিয়া মিছিল বের করেন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “এটা শিয়াদের একটা ঐতিহ্য। শিয়া যারাই যেখানে আছেন ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, ভারত যেখানেই আছেন, সেখানেই ইমাম হোসাইনের স্মরণে, আহলে বাইতের শাহাদাতের স্মরণে তারা শোক মিছিল বা তাজিয়া মিছিল বের করেন।”

ইসলামে এটি প্রচলিত বা অনুমোদন নেই উল্লেখ করে অধ্যাপক রশিদ বলেন, শিয়া মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, শোক মিছিলে যত বেশি শোক প্রস্ফুটিত করতে পারবেন ইমাম হোসাইনের প্রতি তত বেশি ভালোবাসা বোঝাতে পারবেন।

“এই মিছিল থেকে যারা পিপাসার্ত তাদের পানি খাওয়ানো হয়, এইজন্য যে, কারবালার ময়দানে ইমাম হোসাইন পানি পান করতে পারেননি এবং তার ছোট্ট শিশু পানি না পেয়ে তীরবিদ্ধ হয়েছে,” বলেন অধ্যাপক রশীদ।

এই ইসলামিক স্কলার জানান, মুঘল আমলে শাহ সুজা বাংলার সুবেদার থাকার সময়ে শিয়াদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

একই কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞান কোষ বাংলা পিডিয়াতেও।

“মুঘল আমলে বিশেষত শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৫৯) বাংলার সুবেদার থাকাকালে শিয়াদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। সম্ভবত তখনই এখানে তাজিয়া মিছিলের প্রচলন হয়” বলে বাংলা পিডিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, বাদশা আকবরের আমলে আগ্রা দুর্গ থেকে তাজিয়া বের হতো যা মুঘল তাজিয়া নামে পরিচিত।

শাহ সুজার সময়ে সৈয়দ মীর মুরাদ ১০৫২ হিজরি সনে (১৬৪২ খ্রিস্টাব্দ) ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনি দালান নির্মাণ করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলা পিডিয়ায়।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকার নায়েব-নাজিমদের অধিকাংশ ছিলেন শিয়া। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা ইমামবারা নির্মাণ করেন।

ঢাকা, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, অষ্টগ্রাম, সৈয়দপুর, সিলেট ইত্যাদি স্থানে ইমামবারা আছে বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আমেরিকান লেখক জন নরম্যান হলিস্টারের “দ্য শিয়া অব ইন্ডিয়া” বইটিতে বলা হয়েছে, মহররম মাসের দশদিনে শিয়াদের এই স্মারক অনুষ্ঠানের কোনো অংশই মসজিদে হয় না।মসজিদ নামাজের জন্য আলাদা রাখা হয়েছে।

অনেক জায়গায় কেবল ইমাম হোসাইনদের স্মরণে মজলিস করার উদ্দেশ্যেই ইমামবারা নির্মাণ করা হয়েছে।

ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের ‘ঢাকা স্মৃতি-বিস্মৃতির নগরী-১’ বইটিতে বাংলাদেশের ইমামবারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবারা থেকে বের হয় তাজিয়া মিছিল। মুনতাসীর মামুনের এই বইটিতে বলা হয়েছে, “মহররম উৎসবের কেন্দ্র, শিয়া সম্প্রদায়ের ইমামবড়ি হলো হুসেনী দালান বা হোসেনী দালান।”

তবে এখানে কবে থেকে মহররম পালিত হচ্ছে সেটি জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক মামুন।

প্রখ্যাত মুসলিম ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক আহমদ হাসান দানীর কথা উল্লেখ করে মুনতাসীর মামুন তার বইতে লিখেছেন, জনশ্রুতি অনুযায়ী, ঢাকায় বেশ কিছু পুরোনো ইমামবারার সন্ধান পাওয়া গেছে।

তিনি লিখেছেন, “তা থেকে অনুমান করে নেওয়া যায়, প্রাচীনকাল থেকেই ঢাকায় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গে উৎসবটি (মহররম) পালিত হতো।”

যদিও ইতিহাসবিদ দানীর মতে, ঢাকার সবচেয়ে পুরোনো হোসেনী দালান ছিল ফরাশগঞ্জের বিবি কা রওজা।

স্মৃতি-বিস্মৃতির নগরে বইটিতে বলা হয়েছে, জনৈক আমীর খান ১৬০০ সালে এটি নির্মাণ করেছিলেন, অর্থাৎ সুবাদার ইসলাম খাঁর ঢাকায় আসার আগেই বিবি কা রওজা ইমামবারা নির্মিত হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রশীদ বলছেন, ইতিহাসের মতান্তরে সেই হিসেবে বাংলা বা বাংলাদেশে মীর সুজার আরো আগে মহররমের উৎসব বা তাজিয়া মিছিল পালিত হতো বলে ধারণা করা যায়।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের বইতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কাছেও ছিল একটি হোসেনী দালান।

“১৮৬৯ সালের ঢাকার মানচিত্রে একে পুরনো হুসেনী দালান বলে উল্লেখ করা হয়েছে,” লিখেছেন অধ্যাপক মামুন।

পুরান ঢাকার এই হোসেনী দালানটি উনিশ শতকেই শিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছিলো বলে লিখেছেন তিনি।

বাংলাপিডিয়াতে ১৬৪২ খ্রিস্টাবে মীর মুরাদের তৈরি করা হোসেনী দালানের কথাও উল্লেখ করেছেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

তিনি তার বইতে লিখেছেন, ১৮৩২ সালে জেমস টেলর লিখেছিলেন, ঢাকায় মুসলমানদের উপাসনার প্রধান দু’টি স্থান ঈদগা (ধানমন্ডি) ও হোসেনী দালান (বর্তমানের)।

“কথিত আছে, শেষোক্তটি নির্মাণ করেছিলেন মীর মুরাদ যিনি সুলতান মোহাম্মদ আজমের সময় ছিলেন নওয়ারা মহলের দারোগা ও অট্টালিকাসমূহের তত্ত্বাবধায়ক। মীর মুরাদ মহরমের সময় দুঃখীদের এখানে অন্নদান করতেন,” লিখেছেন অধ্যাপক মামুন।

সেই সময় থেকেই মহররমের উৎসব বা তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে শোক পালন করা হতো বলেও উল্লেখ করা হয়েছি বইটিতে।

“টেলর আরো লিখেছেন, কোম্পানি সরকার, ঢাকার নায়েব নাজিমদের বছরে আড়াই হাজার টাকা দিতেন মহরমের সময় হুসেনী দালানে উৎসব পালনের জন্য,” স্মৃতি-বিস্মৃতির বইতে লিখেছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ