1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা | ঢাকা আওয়ার
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করেছেন। রাতেই বই হাতে ফিরতে হয়েছে এটিএম বুথের ডিউটিতে। আর পরদিন সকালে বসতে হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এমন সংগ্রামের গল্প এখন বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের।

বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা সদ্য প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়ার ছেলে ইকন। বাবাকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই তাকে সামলাতে হচ্ছে সংসারের দায়িত্ব, চাকরি এবং পড়াশোনা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৫ বছর বয়সী ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে ইমন ও ইকনকে রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ইসরাফিল মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাতেন। জোহরের নামাজের পর মুনিগঞ্জ দোতলা জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

বিবাহবার্ষিকীর কয়েক ঘণ্টা পরই নিভে গেল সেনাসদস্যের প্রাণ

ইসরাফিলের বড় ছেলে ইমন একসময় বাবাকে সহযোগিতা করতে মোটরসাইকেল চালাতেন। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ফলে পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন।

বিছানায় পড়ে ছিল স্বামী-স্ত্রীর লাশ, পাশেই মিলল শিশুসন্তান ও চিরকুট

ইকন চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন।

বাবার দাফন শেষে মঙ্গলবার রাতেই তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান। রাত ১০টার দিকেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। চোখে বাবাকে হারানোর অশ্রু, বুকভরা শোক; তবু থেমে থাকেননি তিনি। কারণ পরদিন, ২৩ জুলাই তার এইচএসসি পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা।

একদিকে প্রিয় বাবাকে হারানোর অসহনীয় বেদনা, অন্যদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই, সংসারের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ গড়ার সংগ্রাম- সব মিলিয়ে ইকনের জীবন এখন কঠিন বাস্তবতার এক নির্মম উদাহরণ।

তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও ইকনের দায়িত্ববোধ ও শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার অদম্য প্রত্যয় স্থানীয়দের মুগ্ধ করেছে। তার এই সংগ্রামের গল্প অনেককে আবেগাপ্লুত করেছে। স্থানীয়রা ইকন ও তার পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ