একটি দেশকে ধনী বলা হবে কি না, তা নির্ধারণের জন্য একাধিক অর্থনৈতিক সূচক ব্যবহার করা হয়। কেবলমাত্র অর্থনীতির আকার দিয়ে কোনো দেশকে ধনী বলা সঠিক নয়। কারণ একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি বোঝার জন্য জনগণের জীবনমান, আয়, সম্পদ এবং উন্নয়নের মান সবকিছু মিলিয়ে দেখতে হয়। সাধারণভাবে চারটি সূচক সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করা হয়।
১. মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)
জিডিপি হলো একটি দেশের এক বছরে উৎপাদিত সব পণ্য ও সেবার মোট মূল্য। অর্থনীতির আকার বড় হলে সেই দেশকে অনেক সময় ধনী বলা হয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান বা জার্মানি। তবে শুধু জিডিপি দেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না।
২. মাথাপিছু আয়
জনগণের মাথাপিছু আয় কোনো দেশের প্রকৃত ধনসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একটি দেশের মোট আয়কে জনগণের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু আয়ের হিসাব পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, লুক্সেমবার্গ, কাতার ও সিঙ্গাপুর জনসংখ্যায় ছোট হলেও মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
৩. ক্রয়ক্ষমতা
ক্রয়ক্ষমতা মানে হলো একটি দেশের নাগরিকরা তাদের আয় দিয়ে আসলে কতটুকু পণ্য ও সেবা কিনতে পারছে। অনেক দেশে আয় তুলনামূলকভাবে কম হলেও স্থানীয় বাজারে জিনিসপত্রের দাম সস্তা হওয়ার কারণে জীবনযাত্রার মান ভালো থাকে। যেমন ভারত বা ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি প্রযোজ্য।
৪. জাতীয় সম্পদ ও উন্নয়ন সূচক
একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন তেল, গ্যাস, খনিজ, কিংবা শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও ধনী হওয়ার অন্যতম ভিত্তি। আবার সুইজারল্যান্ড বা জাপানের মতো দেশ প্রযুক্তি, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও অবকাঠামোর কারণে সমৃদ্ধ। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানব উন্নয়ন সূচকও একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি নির্ধারণ করে।
অতএব, বিশ্বের ধনী দেশ নির্ধারণে একক কোনো মানদণ্ড যথেষ্ট নয়। অর্থনীতির আকার, মাথাপিছু আয়, ক্রয়ক্ষমতা এবং সামগ্রিক জীবনমান -সবকিছু মিলিয়েই একটি দেশের প্রকৃত ধনী হওয়ার চিত্র ফুটে ওঠে।