1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্থাগুলোর ১০ গোপন ভবন | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্থাগুলোর ১০ গোপন ভবন

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
ছবি: গেটি ইমেজেস/ওয়িভিন্দ ব্রেইহোল্টজ

এমআইসিক্স (MI6) থেকে ভ্যাটিকানের গোপন আর্কাইভ। যেখানে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় রহস্য, ইতিহাস আর অজানা কাহিনি।

বিশ্বের এমন কিছু ভবন আছে, যেগুলো দেখার সুযোগ পেয়েছে খুবই সীমিত সংখ্যক মানুষ। এসব স্থাপনা ক্ষমতা, গোপনীয়তা আর ইতিহাসের স্তরে স্তরে মোড়ানো একেকটি রহস্যভান্ডার। কোথাও মাইলের পর মাইল জুড়ে সংরক্ষিত গোপন নথি, কোথাও বিজ্ঞানীদের জন্য সীমাবদ্ধ গবেষণাগার। সব মিলিয়ে এগুলোই পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

কৌতূহল বাড়ায় আরও একটি বিষয় -এই ভবনগুলোর নকশা আর অবস্থান। কিছু ভবন পুরোপুরি আড়ালে, সাধারণ মানুষের চোখের বাইরে। আবার কিছু স্থাপনা শহরের আকাশরেখায় দৃশ্যমান, তবু তাদের ভেতরের জগত অজানাই থেকে যায়। ব্রিটেনের ডোনাট-আকৃতির GCHQ সদরদপ্তর থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের পাহাড়ের ভেতরে লুকানো সামরিক কমান্ড সেন্টার। এই সব স্থাপনার ইতিহাস যেমন চমকপ্রদ, তেমনি রহস্যময় তাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম।

ছবি: গেটি ইমেজেস

এমআইসিক্স (লন্ডন)

লন্ডনের টেমস নদীর দক্ষিণ তীরে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্সহল ক্রস। এটাই ব্রিটেনের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা MI6-এর সদরদপ্তর। ১৯৯৪ সালে নির্মিত এই বিশাল ভবনটি ডিজাইন করেছিলেন স্থপতি স্যার টেরি ফ্যারেল। আধুনিক এই কমপ্লেক্সে রয়েছে ট্রিপল-গ্লেজড জানালা, দুটি পরিখা এবং মাটির নিচে বিস্তৃত অংশ।

জনপ্রিয় জেমস বন্ড চলচ্চিত্রে এই ভবনটি ‘০০ সেকশন’ -এর ঘাঁটি হিসেবে দেখা গেছে। তবে বাস্তবেও এটি একবার হামলার শিকার হয় ২০০০ সালে। একটি রকেট হামলায় ভবনের অষ্টম তলার একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ছবি: গেটি ইমেজেস

সিআইএ (ল্যাংলি, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গোপনীয় স্থানগুলোর একটি হলো সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা CIA -এর সদরদপ্তর। ২৫৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই কমপ্লেক্সে রয়েছে দুটি প্রধান ভবন, অরিজিনাল ও নিউ হেডকোয়ার্টার্স।

১৯৬১ সালে নির্মিত মূল ভবনটির সঙ্গে ১৯৯১ সালে যুক্ত হয় নতুন অংশ। এখানে রয়েছে একটি গোপন জাদুঘর, যেখানে সংরক্ষিত আছে গুপ্তচরবৃত্তির ইতিহাস, অস্ত্র এবং নানা সরঞ্জাম। যদিও এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়।

ছবি: গেটি ইমেজেস

এমএসএস (বেইজিং, চীন)

চীনের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি বা MSS প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে। MSS -এর অফিসিয়াল ঠিকানা তিয়ানানমেন স্কয়ারের কাছাকাছি, প্রকৃত সদরদপ্তরটি বেইজিংয়ের হাইডিয়ান জেলায় একটি সম্পূর্ণ ব্লকজুড়ে অবস্থিত। এটি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে পরিচালিত।

প্রায় ১০ হাজার কর্মী এখানে কাজ করেন। সংস্থার কর্মীদের সংখ্যা তাদের বিশাল পরিসরকে নির্দেশ করে।

 

ছবি: গেটি ইমেজেস

বুন্ডেসনাখরিশটেনডিন্স্ট (বার্লিন, জার্মানি)

জার্মানির ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা বিএনডি পরিচালিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা সদরদপ্তর থেকে। বার্লিনে অবস্থিত এই বিশাল ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.২৩ বিলিয়ন ডলার।

২০০৮ সালে নির্মাণ শুরু হয়ে ২০১৯ সালে এটি চালু হয়। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইস্পাত ও কংক্রিট। তবে নির্মাণের সময় ‘ওয়াটারগেট’ নামে পরিচিত একটি ঘটনায় চুরি করতে গিয়ে টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো ভবনে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

ছবি: গেটি ইমেজেস

ডিজিএসই (প্যারিস, ফ্রান্স)

ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএসই -এর সদরদপ্তর প্যারিসের একটি পুরনো সামরিক ব্যারাকে অবস্থিত। তিনটি ভবন নিয়ে গড়ে ওঠা এই কমপ্লেক্সটি বাইরের দুনিয়া থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন।

‘সুইমিং পুল’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি কাছাকাছি একটি অলিম্পিক সুইমিং সেন্টারের কারণে এমন নাম পেয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখানে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু হয়, যা পরে ডিজিএসই নামে পরিচিতি পায়।

ছবি: গেটি ইমেজেস

শিয়েন মাউন্টেন কমপ্লেক্স (কলোরাডো, যুক্তরাষ্ট্র)

শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র পাহাড়ের ভেতরে গড়ে তোলে একটি সুরক্ষিত কমান্ড সেন্টার। যার নাম শিয়েন মাউন্টেন কমপ্লেক্স।

প্রায় ৬৯৩,০০০ টন গ্রানাইট সরিয়ে তৈরি করা এই স্থাপনাটির ভেতরে রয়েছে ১৫টি আলাদা ভবন। ১৯৬৬ সালে এটি নোরাড (NORAD)-এর অপারেশন সেন্টার হিসেবে চালু হয়। একবার ভুলবশত একটি মহড়া বাস্তব হামলা হিসেবে ধরা পড়ায় সামরিক বাহিনী কয়েক মিনিটের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতায় চলে যায়।

জিসিএইচকিউ (চেলটেনহ্যাম, যুক্তরাজ্য)

ডোনাট আকৃতির জন্য পরিচিত GCHQ -এর নতুন সদরদপ্তর ২০০৩ সালে চালু হয়। বিশাল এই গোলাকার ভবনটি প্রায় ১০ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।

স্থানীয় পাথর, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ দিয়ে নির্মিত এই স্থাপনায় রয়েছে একটি বড় আঙিনা এবং চারতলা উচ্চতার কাচের এট্রিয়াম।

ছবি: গেটি ইমেজেস

ভ্যাটিকান অ্যাপোস্টোলিক আর্কাইভস (ভ্যাটিকান সিটি)

একসময় ‘ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভ’ নামে পরিচিত এই আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমা হওয়া গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

৮ম থেকে ২০শ শতাব্দীর নথিপত্র এখানে ৫২ মাইলের বেশি শেলফজুড়ে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজা অষ্টম হেনরির চিঠি, মার্টিন লুথারের বিরুদ্ধে পোপের আদেশ এবং গ্যালিলিওর বিচার সংক্রান্ত দলিল। প্রতিদিন মাত্র ৬০ জন গবেষক এখানে প্রবেশের অনুমতি পান।

ছবি: গেটি ইমেজেস

পিওনেন হোয়াইট মাউন্টেন ডাটা সেন্টার (স্টকহোম, সুইডেন)

মাটির ১০০ ফুট নিচে অবস্থিত এই ডাটা সেন্টারটি যেন সিনেমার ভিলেনের গোপন ঘাঁটি। একসময় এটি ছিল একটি প্রতিরক্ষা বাঙ্কার।

মজবুত ধাতব দরজা পেরিয়ে ঢুকতে হয় এই কেন্দ্রে। যেখানে রয়েছে কৃত্রিম জলপ্রপাত, গ্রিনহাউস এবং সামুদ্রিক মাছের ট্যাংক। একসময় এখানে উইকিলিকসের সার্ভারও রাখা হয়েছিল।

ছবি: গেটি ইমেজেস/ওয়িভিন্দ ব্রেইহোল্টজ

সভালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট (নরওয়ে)

পৃথিবীর সবচেয়ে নির্জন অথচ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি হলো এই সিড ভল্ট। আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এই স্থাপনাটি বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বীজের নমুনা সংরক্ষণ করে।

প্রায় ১২ লাখের বেশি বীজ এখানে রাখা আছে। পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এই ভল্টটি এমনভাবে তৈরি যে বিদ্যুৎ না থাকলেও প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা থেকে বীজগুলো সংরক্ষিত থাকে। এখানে প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিদের জন্য।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ