ব্ল্যাক ফ্রাইডে হলো যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাংকসগিভিং দিবসের পরবর্তী শুক্রবার, যা ঐতিহ্যগতভাবে বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুমের সূচনা হিসেবে পরিচিত। এ দিনটিকে বলা হয় বছরের সবচেয়ে ব্যস্ততম কেনাকাটার দিন। ভোরবেলা -কখনো কখনো ঠিক রাত ১২টা থেকেই বড় বড় খুচরা দোকানগুলো বিশাল ছাড়ের ঘোষণা দেয়, আর সেই সুযোগ নিতে মানুষ ভিড় জমায় দোকানের সামনে। অনেক দোকান আবার ব্ল্যাক ফ্রাইডের অফার কয়েকদিন বা এক সপ্তাহ পর্যন্ত চালিয়ে যায়, যার ধারাবাহিকতায় এসেছে “সাইবার মানডে” ও “সাইবার উইক”।
তবে “ব্ল্যাক ফ্রাইডে” শব্দটির ইতিহাস শুধু কেনাকাটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রথম দিকে এ শব্দটি ব্যবহার করা হতো ভয়াবহ দিন বোঝাতে। ১৮৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া এক বড় আর্থিক বিপর্যয় -সেদিন স্বর্ণের দাম হঠাৎ ধসে পড়ে, বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিনিয়োগকারীরা -সেটিকেই বলা হয় প্রথম ব্ল্যাক ফ্রাইডে। পরে ১৯৫০-এর দশকে এই শব্দটি আবার ব্যবহৃত হতে থাকে, এবার আমেরিকান খুচরা ব্যবসায়। থ্যাংকসগিভিংয়ের পরদিন অনেক কর্মী কাজে অনুপস্থিত থাকায় দিনটিকে প্রথমে ‘সমস্যাজনক’ দিন হিসেবে উল্লেখ করা হতো। কিন্তু ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ ছিল ভিন্ন সমস্যায়- শহরের রাস্তায় তখন এত বেশি ভিড় ও যানজট হতো যে তারা দিনটিকে নেতিবাচক অর্থে “ব্ল্যাক ফ্রাইডে” বলে ডাকতে শুরু করে।
দোকানিরা চেষ্টা করেছিল শব্দটি বদলে “বিগ ফ্রাইডে” করতে, কিন্তু তা জনপ্রিয় হয়নি। বরং ১৯৮০-এর দশকে এসে “ব্ল্যাক ফ্রাইডে” একটি ইতিবাচক অর্থ পায়: বছরের ওই দিনটিকে ধরা হতো যখন খুচরা বিক্রেতারা লাভের মুখ দেখে, অর্থাৎ ‘লাল’ ঘর থেকে বেরিয়ে ‘কালো’ ঘরে ফেরে, লাভের প্রতীক হিসেবে।
আজ ব্ল্যাক ফ্রাইডে শুধু আমেরিকার নয়, বিশ্বের বহু দেশেই উদযাপিত হয় এক বিশাল কেনাকাটার উৎসব হিসেবে। অনলাইন শপিং, সাইবার মানডে ও দীর্ঘ সপ্তাহব্যাপী অফারের কারণে ব্ল্যাক ফ্রাইডে এখন একটি দিন নয়, বরং পরিণত হয়েছে পুরো মৌসুমজুড়ে চলা বাণিজ্যিক উচ্ছ্বাসে। তবে যেভাবেই পরিবর্তন হোক- ব্ল্যাক ফ্রাইডে এখনও কেনাকাটাপ্রেমীদের জন্য বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় সময়, আর ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক দিনগুলোর একটি।