1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
সড়ক আন্দোলন থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতারা এখন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলছেন না | ঢাকা আওয়ার
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

সড়ক আন্দোলন থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতারা এখন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলছেন না

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পড়ে ২০১৮ সালে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা সে আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পড়ে ২০১৮ সালে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা সে আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি করে সড়ক আইন পাস করে তৎকালীন সরকার। সড়ক নিরাপত্তায় নেয়া হয় বিভিন্ন উদ্যোগ। সেগুলোর বেশির ভাগই এখনো রয়ে গেছে অবাস্তবায়িত অবস্থায়।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২০১৮ সালের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মূলত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারাই ২০২৪ সালে ছিলেন বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। তাদের নেতৃত্বেই জুলাইয়ে গড়ে ওঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পতন হয় আওয়ামী লীগের। গঠন হয় অন্তর্বর্তী সরকার, যাতে শিক্ষার্থীদের প্রভাব দৃশ্যমান। যদিও দেশে এখনো অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে সড়ক। প্রাণহানি-বিশৃঙ্খলার পরিসংখ্যানও ঊর্ধ্বমুখী। তবে সড়ক আন্দোলন করে উঠে আসা ছাত্রনেতারা এখন আর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কথা বলছেন না।

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে টানা ১০ দিন রাস্তায় ছিলেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা উপেক্ষা করে দাবি আদায়ে তৎকালীন সরকারকে বাধ্য করেছিলেন। ওই আন্দোলনের জেরেই পাস করা হয় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৮টি নির্দেশনা দেয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট। পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। যদিও কিছুদিন পরই উদ্যোগগুলো একে একে হারিয়ে যায়। সড়ক আইন সংশোধন করে কমানো হয় দুর্ঘটনায় দায়ী চালকের শাস্তি। ছাত্রদের আন্দোলন তাৎক্ষণিকভাবে সফল হলেও সড়ক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

এর ফলে একদিনে যেমন সড়কে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে, ২০১৭-১৮ অর্থবছর সারা দেশে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছিল ২ হাজার ৫১৩ জনের। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৭১ জনে। আর বিআরটিএর তথ্য পর্যালোচনায় সর্বশেষ ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৩৮০ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে।

lead
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়লেও ২০১৮-পরবর্তী সময়ে ও ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর এ নিয়ে আর তেমন কথা বলেননি নিরাপদ ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত থাকা নেতারা। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন সদ্যগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। কোটা আন্দোলনের কিছুদিন পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তাতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ওই আন্দোলনের সঙ্গী ছিলেন তার অনেক সহপাঠীও।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কোনো পরামর্শ বা প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নে সামান্তা শারমিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা সরকারি দল নই। আমাদের থেকে সরকার কোনো প্রস্তাব চায়নি। আমরাও কোনো প্রস্তাব দিইনি। যদি চাওয়া হয় তাহলে অবশ্যই আমরা দলগত জায়গা থেকে সরকারকে সহযোগিতা করব।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকারের যতগুলো কাজ আছে তার মধ্যে সড়ক ব্যবস্থাপনা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেটি সরকারের কার্যক্রমে দেখতে পাইনি। আমরা আশা করি, অন্যান্য কাজের পাশাপাশি সরকার সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্যোগী হবে।’

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কমিশন গঠনে গুরুত্বারোপ করে সামান্তা শারমিন বলেন, ‘কমিশন থাকলে যেকোনো কাজ এগিয়ে যায়। অন্তত কমিশনের প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।’

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন ইনজামুল হক। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নামে প্লাটফর্মটি এখনো সক্রিয় রয়েছে। তবে বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন তিনি। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্লাটফর্মটির কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এখনকার সময় আগের চেয়ে ভিন্ন। বর্তমান সরকার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তাই মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমরা সরকারের সঙ্গে নীতি নির্ধারণে কাজ করছি। আমরা চেষ্টা করছি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করার।’

আমলাদের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গতি পাচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি।

২০১৮ সালের এপ্রিলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, পরে যা ছাত্র অধিকার পরিষদ নামে পরিচিতি লাভ করে। সে বছর ৪ আগস্ট নিরাপদ সড়কের জন্য নয় দফা দাবিতে সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দেয় সংগঠনটি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা। বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গত বছরের ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের পরও ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে এ মুহূর্তে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই জানিয়ে বিন ইয়ামিন মোল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌২০১৮ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে সড়ক নিরাপত্তায় আমাদের নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে এ মুহূর্তে নিরাপদ সড়ক নিয়ে আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই।’

ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলছেন, এখন তাদের ‘‌ফোকাস’ একটি বিষয়ের মধ্যে সীমিত নেই, তা বিভিন্ন বিষয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক ছিলেন আরিফুল ইসলাম আদিব। সে সময় প্রতিদিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। পরে তিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হন। চব্বিশের অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখায় তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হন। বর্তমানে তিনি ছাত্রদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘‌শুধু নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কিংবা কোটা সংস্কার আন্দোলন নয়, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম-খুন-ধর্ষণ, পুলিশি হেফাজতে হত্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ পাঁচ-ছয়টি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের এ প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে। সর্বশেষ স্বৈরাচারকে তাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তাই আমাদের ফোকাস এখন শুধু নিরাপদ সড়ক নয়, এর সঙ্গে আরো বিভিন্ন বিষয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।’

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মূলে ছিলেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রশিবিরের সদস্য আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন সংগঠনটির বর্তমান কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাদিক কায়েম। ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে নিরাপদ সড়ক নিয়ে ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, বিচার ও প্রশাসন ব্যবস্থার সংস্কার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরের সংস্কারের বিষয় রয়েছে। সড়কের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে জননিরাপত্তা—সব বিষয় নিয়েই আমরা কথা বলছি। অর্থাৎ র‍্যাডিক্যাল চেঞ্জ আনতে ম্যাক্রো লেভেলে কাজ করছি। কিন্তু আগে ছিল মাইক্রো লেভেলে।’

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলাকালে ভূমিকা ছিল ছাত্রদলের। সে সময় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ছাত্রদল নেতাদের আগ্রহ থাকলেও ইস্যুটি নিয়ে তারা আর সরব নন। বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আন্দোলনের ফসল হিসেবে যে আইন করা হয়েছিল, তা কেবল ফ্যাসিবাদী সরকারকেই লাভবান করেছে; জনগণকে নয়। আমরা এখনো সড়কের নিরাপত্তার দাবিতে ছাত্র-জনতার পক্ষে আছি। কিন্তু খুনি হাসিনার পালানোর পর দেশের বৃহত্তর পরিসরে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সড়কের দিকে কেউ নজর দিতে পারছে না। কিন্তু এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছাত্র-জনতার যেকোনো উদ্যোগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পাশে থাকবেন।’

অভ্যুত্থানে রূপ নেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। তাদেরই একজন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কৌশিক ঘোষ দ্বীপ। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলাকালে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। সে সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে গুরুত্ব সহপাঠীদের সঙ্গে সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।

দেশে সড়ক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ‘‌খুবই প্রয়োজন’ মনে করলেও বিষয়টি তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন সরকারের আন্তরিকতার ওপর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তো সরকারের আন্তরিকতা ছাড়া সমাধানের কোনো রাস্তা নেই। সরকার ও প্রশাসন শক্ত না হলে আমাদের জায়গা থেকে কিছু করার নেই।’ সূত্র: বনিক বার্তা

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ