সাংবাদিকতায় একুশে পদক বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য একটি জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৬ সাল থেকে এই ক্ষেত্রে একুশে পদক প্রদান করা হচ্ছে। প্রত্যেক পদকপ্রাপ্তকে একটি পদক, একটি সম্মাননা সনদ, একটি রেপ্লিকা এবং পুরস্কারের অর্থমূল্য প্রদান করা হয়ে থাকে। একুশে পদকে ১৮ ক্যারেটের সোনা দিয়ে তৈরি ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি মেডেল প্রদান করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুরস্কারের অর্থমূল্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো, বর্তমানে এটি ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
১৯৭৬ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক পেয়েছেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবদুস সালাম। ১৯৭৭ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান খন্দকার আব্দুল হামিদ। ১৯৭৮ সালে শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন মরণোত্তর বিজয়ী হন। ১৯৭৯ সালে সাংবাদিক আবদুল ওয়াহাব ও মোহাম্মদ মোদাব্বের সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান। ১৯৮০ সালে মুজীবুর রহমান খাঁ, ১৯৮১ সালে ওবায়েদ উল হক ও জহুর হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান।
সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরী একুশে পদক পান ১৯৮২ সালে। ১৯৮৩ সালে পান শহীদুল্লা কায়সার মরণোত্তর বিজয়ী, সৈয়দ নূরুদ্দীন মরণোত্তর বিজয়ী ও
আবু জাফর শামসুদ্দীন। ১৯৮৪ সালে পান সিকান্দার আবু জাফর মরণোত্তর বিজয়ী, ১৯৮৭ সালে নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী ও এস এম আহমেদ হুমায়ুন সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান। ১৯৮৯ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান মোহাম্মদ আসফ-উদ-দৌলা ও একেএম শহীদুল হক।
১৯৯০ সালে আবদুল গনি হাজারী সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান। ১৯৯১ সালে ফয়েজ আহমদ, ১৯৯২ সালে গিয়াস কামাল চৌধুরী ও আতাউস সামাদ সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান। ১৯৯৩ সালে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ১৯৯৪ সালে হাসানউজ্জামান খান, ১৯৯৫ সালে নিজামউদ্দিন আহমদ মরণোত্তর বিজয়ী, ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, ১৯৯৭ সালে সন্তোষ গুপ্ত, মোনাজাত উদ্দিন মরণোত্তর বিজয়ী, ১৯৯৮ রোকনুজ্জামান খান, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ মরণোত্তর বিজয়ী হন। ১৯৯৯ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান এ বি এম মূসা ও কে জি মুস্তফা।
দুই বছর না দেওয়ার পর ২০০২ সালে সিরাজুর রহমান, ২০০৩ সালে আবদুল হামিদ ও নাজিম উদ্দিন মোস্তান একুশে পদক পান। ২০০৪ আ জ ম এনায়েতউল্লাহ খান, ২০০৫ সালে মোঃ মাশির হোসেন, ২০০৬ সালে গাজীউল হাসান খান ও শাহাদত চৌধুরী মরণোত্তর বিজয়ী একুশে পদক পান।
২০০৭ ও ২০০৮ সালে দেওয়া হয়নি, ২০০৯ সালে আশরাফ-উজ-জামান খান, মানিক চন্দ্র সাহা ও হুমায়ুন কবীর বালুকে একুশে পদক দেওয়া হয়। ২০১০ সালে মোহাম্মদ আলম ও ২০১১ সালে নূরজাহান বেগমকে সাংবাদিকতায় একুশে পদক দেওয়া হয়। ২০১২ সালে এহতেশাম হায়দার চৌধুরী ও মিশুক মুনীরকে সাংবাদিকতায় একুশে পদক দেওয়া হয়।
এক বছর না দিয়ে ২০১৪ সালে গোলাম সারওয়ার, ২০১৫ সালে কামাল লোহানী, ২০১৬ সালে তোয়াব খান, ২০১৭ সালে আবুল মোমেন
স্বদেশ রায় এবং ২০১৮ সালে রণেশ মৈত্রকে সাংবাদিকতায় একুশে পদক দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে দেওয়া হয়নি। ২০২০ সালে আলী ওয়াজেদ জাফর, ২০২১ সালে অজয় দাশগুপ্ত, ২০২২ সালে এম এ মালেক, ২০২৩ সালে মো. শাহ আলমগীর (মরণোত্তর) সাংবাদিকতায় একুশে পদক দেওয়া হয়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালে মাহফুজ উল্লাহকে (মরণোত্তর) সাংবাদিকতায় একুশে পদক দেওয়া হয়।