1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
১২ জেলায় বন্যার আশঙ্কা | ঢাকা আওয়ার
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
ঢাকায় বাড়তে পারে তাপমাত্রা, বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইওর পদত্যাগ মৌচাকে ছুরিকাঘাতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা টিকে থাকতে উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ জরুরি: প্রধানমন্ত্রী কাজের স্বীকৃতি পেলে আরও অনুপ্রাণিত হবে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘১০০ দিনে ৬০৫ খুন, ১৯৬ অপহরণ,’ সংসদে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ বছরে ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী পুশইন ঠেকাতে ভারতকে ১৩ চিঠি : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিকে ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থী পাবে ইউনিফর্ম, জুতো ও পাটের ব্যাগ

১২ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

প্রতিবেদকের নাম
  • শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। বিশেষ করে তিস্তা, পদ্মা ও যমুনার পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি বা এর উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে অন্তত ১২ জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় ডুবে গেছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও চরাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বুধবার সর্বশেষ বুলেটিনে বলেছে-লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তলিয়ে গেছে আমন ধান ও সবজির খেত। ঘরের ভেতরে পানি ঢোকায় দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

রাজশাহী মহানগরীর বস্তিতে পানি : রাজশাহী মহানগরীতে পদ্মার পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহরের উত্তর প্রান্তের এলাকাগুলোতে একটু বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে থাকছে পথঘাট। দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার পানি উপচে ঢুকেছে অনেক বসতবাড়িতে।

মহানগরীর পঞ্চবটি খড়বোনার বাসিন্দা হালিমা বেগমের ঘরে এখন হাঁটুপানি। রান্নার জন্য চুলা উঠিয়ে রেখেছেন চৌকির ওপর। পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি। এলাকার বাসিন্দা মাজেরা বিবি বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে পানির ভেতরেই আছি। কিছু করার নেই। তাকিয়ে আছি, কবে পানি নামবে। পানিতে থেকে হাত-পা সব ঘা হয়ে গেছে।’

শ্রীরামপুর এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধসংলগ্ন বস্তিতে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মার পানি ঢুকে পড়েছে ঘরে। স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা শহরেই থাকি, কিন্তু বাস করি গ্রামের মতো। নদীতে পানি বাড়লেই ঘরবাড়ি ডুবে যায়-এটা প্রতিবছরের দুর্ভোগ।’ আম চত্বরসংলগ্ন রায়পাড়া এলাকায় বাতেনের বিল উপচে পড়া পানিতে ভাসছে আশপাশের বস্তি।

স্থানীয় শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ড্রেন নেই। সব পানি বিলে নামে। বিল ভরে গেলে ঢুকে পড়ে বাড়িঘরে। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ।’ রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান অভিযোগ করেন, ‘মধ্য শহরে উন্নয়ন হলেও শহরতলির অবস্থা করুণ। বড় প্রকল্প ও টাকা পড়ে আছে, কিন্তু উন্নয়ন হচ্ছে না। শুধু ট্যাক্স বাড়ানো হচ্ছে। আমরা চাই শহরের উন্নয়নটা যেন সুষমভাবে হয়।’

বাঘায় পদ্মার ১৫ চরে বিশুদ্ধ পানির সংকট : রাজশাহীর বাঘায় পানিবন্দি পদ্মার ১৫টি চরে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ১৫ চরে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি। অধিকাংশ বাড়ির টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে আছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

বগুড়ায় বন্যা আতঙ্কে যমুনা পারের মানুষ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ মাসের শেষ সপ্তাহে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন যমুনা পারের মানুষ। বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান বলেন, বন্যার আশঙ্কা থাকলেও এলাকাবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

লালপুরে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার

নাটোরের লালপুরে পদ্মার পানি বেড়ে চরাঞ্চলের প্রায় ৫১৮ হেক্টর ফসল ডুবে গেছে। প্লাবিত হয়েছে ১৮টি গ্রামের ৫ শতাধিক বসতবাড়ি। নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির লেভেল ১২ দশমিক ৯০ মিটার ছিল। বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সরেজমিন পদ্মার চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিন পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নওশারা সুলতানপুর, চাকলা বিনোদপুর, দিয়াড়শংকরপুর, আরাজি বাকনাই, রসুলপুর ও মোহরকয়া আংশিকসহ প্রায় ১৮টি চর এলাকা প্লাবিত হয়ে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ডিমলায় আরও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা

ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও গজলডোবা থেকে পানি ছাড়ার রেশে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা নদী আরও ফুঁসে উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেলা ৩টায় ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তা অববাহিকা এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। সূত্রমতে, উজানে ভারতের গজলডোবা তিস্তা ব্যারাজ থেকে বৃহস্পতিবার প্রায় ৪ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়। পানি ছাড়া অব্যাহত থাকলে তিস্তার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।

কুড়িগ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কুড়িগ্রামে তিস্তা, দুধকুমার, ধরলা, বহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে চরাঞ্চলের কৃষি জমি। বন্যা মোকাবিলায় বন্যাপ্রবণ ৬ উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খুলেছে জেলা প্রশাসন।

কুষ্টিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার নদী তীরবর্তী ৪ ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। তলিয়ে গেছে অধিকাংশ রাস্তাঘাট। বিশেষ করে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার অবস্থা খুবই করুণ। বুধবার এই দুই ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার আরও ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্ত করে মোট ২১টি বিদ্যালয়ে পাঠ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বন্যার্ত পরিবারের সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, বন্যার্তদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তলিয়ে গেছে ভোলার ফেরি ও লঞ্চ ঘাট

ভোলায় পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে ইলিশার লঞ্চ ও ফেরিঘাট। এতে ভোলা-লক্ষ্মীপুর, ভোলা-ঢাকা রুটের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো ঘাট এলাকার অ্যাপ্রোচ সড়ক জোয়ারের পানিতে ৮ ঘণ্টা ডুবে থাকে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ প্রায় ২১ জেলার যাত্রীদের লঞ্চে ওঠা-নামায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ইলিশা ফেরিঘাট ডুবে যাওয়ায় ফেরির লোড-আনলোড বন্ধ থাকে। সাগর বৈরী ও লঘুচাপের কারণে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর, ভোলা-মনপুরা, বেতুয়া-ঢাকাসহ জেলার ১০ রুটের নৌ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ