গণঅভ্যুত্থানের পর যে নির্বাচন বাংলাদেশকে আরও বদলে দিতে পারে, সেখানে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই যেমন হবে, তেমনি দলের ‘বিদ্রোহী’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও চমকে দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
দেশের সবচেয়ে পুরনো দল আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকলেও সারাদেশে অন্তত একশত আসনে দ্বিমুখী, ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের প্রচার ও ভোটারদের সাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে এমন লড়াইয়ের আবহ গড়ে তুলেছেন।
এসব আসনে কে পাশ করবেন, তা আগে থেকে আন্দাজ করা কঠিন মনে করছেন ভোটার, স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল জানতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে বৃহস্পতিবার। সে দিন একইসঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট হবে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রায় ২৫ মাস পর হতে যাওয়া এই নির্বাচনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডিসহ ৫০টি দল ও তাদের কয়েকটি জোট নির্বাচন করছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে শেরপুরে একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট হচ্ছে ২৯৯টিতে। এসব আসনে প্রার্থী সংখ্যা ২০২৮। ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। পুরুষ ৬,৪৮,২৫,৩৬১ জন; নারী ৬,২৮,৮৫,২০০; হিজড়া ১,২৩২।
‘সরল-সমীকরণের সুযোগ নেই’
গেল ২২ জানুয়ারি অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মাধ্যমে প্রচার শুরু হয়, তারপর দিন যত গড়িয়েছে ভোটের মাঠে কার কেমন সমর্থন, তা সামনে থাকে।
তবে প্রচারে নিষ্ক্রিয় থাকা, কারাগারে থেকে প্রার্থী হওয়া, আবার ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব তৈরি করেছে।
এর মধ্যেও কিছু কিছু আসনে প্রতিদিন ‘ভোটের রাজনৈতিক-সমীকরণ’ বদলেছে, বদলাচ্ছে। যেখানে দ্বিমুখী লড়াইয়ের কথা ভাবা হচ্ছিল, সেখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আবার যেখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের কথা ভোটাররা ভাবছিল, সেখানে এখন দুই প্রার্থী সামনে-সমানে লড়ে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও প্রার্থীরা বসে গিয়ে, অন্য প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠকে নতুন মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ আসনে বিএনপি ও জামায়াত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। কিছু কিছু আসনে এই দুটি দলের প্রার্থীরা যে অনায়াসেই পাশ করে যাবেন, এমনটাও ভোটারদের ভাষ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে অনেক জায়গায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও লড়াইয়ের ময়দান পাল্টে দিয়েছেন। তারাও অনেক জায়গায় জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এসব আসনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের ‘ভোট ব্যাংক’ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘সংখ্যালঘু’ সম্প্রদায়ের ভোট।
ভোটাররা বলছেন, ‘সরল-সমীকরণের’ সুযোগ নেই। কারণ, অনেক জায়গায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির হিসাব-নিকাশ ও টিকে থাকার প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সুবিধামত প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতা এবং ভোট দেওয়ার অঙ্গীকারের বিষয়টিও দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সব স্বতন্ত্র ‘বিদ্রোহী’ নয়
জয়ের আভাস দিয়ে যেসব স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন তারা যে সবাই ‘বিদ্রোহী’, তা নয়। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়েই তাদের কেউ কেউ নিজের অবস্থানের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দল-মত নির্বিশেষে মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন।
যেমন নরসিংদী-৩ আসন; এখানে বিএনপি প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী। তাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বেশ কয়েকবারের ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা। তিনি বিএনপির নন, কিন্তু বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার রাজনৈতিক শিষ্য। আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া স্মৃতি পরিষদের সদস্যসচিব আরিফুল। এখানে এনসিপির সারোয়ার তুষারও লড়াই করছেন। ভোটারদের ধারণা, এখানে আরিফুল ইসলাম মৃধাই বিএনপি প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।
সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধানকে। শিখা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন, গার্মেন্ট ব্যবসায়ী পরিবারের এই নারী স্বতন্ত্র নির্বাচন করেই ২০২৪ সালে পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছিলেন। এলাকার গার্মেন্টে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জায়গা করে নিয়েছেন।
বিএনপির জয়পুরহাট জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধানের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের ফজলুর রহমান সাঈদ। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা কমিটির আমির। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
একই অবস্থা ফরিদপুর-৪ আসনেও। সদরপুর, চরভদ্রাসন এবং ভাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির শহিদুল ইসলাম বাবুলের ভোটের মাঠকে কঠিন করে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার বেগ পরিবারের সদস্য, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন তিনি চাননি। এখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. মিজানুর রহমান মোল্যা এবং জামায়াতের মো. সরোয়ার হোসেনও প্রার্থী। ভোটাররা এখানে জমজমাট ভোট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফলাফল প্রত্যাশা করছেন।
এরকম আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, যারা ভোটারদের সমর্থন পাচ্ছেন।
আলোচনায় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী
দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটের মাঠে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অধিকাংশই বিএনপির। জামায়াতের একজন মাত্র ভোটের মাঠে ‘বিদ্রোহী’। তিনি ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের জসিম উদ্দিন। তিনি জেলা কমিটির সাবেক আমির। তবে জামায়াত জোটের প্রার্থী আছেন, এমন কয়েকটি আসনে শরিক দলের প্রার্থী রয়েছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিএনপির প্রার্থী, ২৯১ জন। তাদের বড় প্রতিদ্বন্দন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আছে ২২৮ আসনে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন ২৫৮ ও জাতীয় পার্টি ২০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
তফসিলের পর মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপির প্রায় পৌনে ২০০ নেতা ‘বিদ্রোহী’ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তখন অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। প্রচার মাঠ থেকেও সরে গেছেন অনেকে। তবে এখনো প্রায় ৫০ জন ভোটে রয়েছেন।
যেমন- নাটোর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল। মনোনয়ন না পেয়ে লালপুর-বাগাতিপাড়ার এই আসনে পুতুলের ভাই ইয়াসির আরশাদ রাজনও প্রার্থী হন। পরে বোনকে সমর্থন দিয়ে সরে গেলেও ব্যালটে তার নাম থাকছে।
ভাই সরে গেলেও এই আসনে পুতুল ‘ঝামেলামুক্ত বা ঝুঁকিমুক্ত’ নন বলেই মনে করছেন ভোটাররা। তারা বলছেন, সেখানে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।
বিএনপি ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর মধ্যে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতায় ময়মনসিংহ-১ আসনে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সেখানে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। কিন্তু তার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির সদস্য ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল। ভোটারদের ধারণা, এখানে দ্বিমুখী লড়াই হবে এই দুই বিএনপি নেতার মধ্যে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিএনপি নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। আমাদের দল এবারের নির্বাচনে দলের ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একাট্টা। যে বা যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা এখন বিএনপির কেউ নন।
“ধানের শীষে ভোট দিতে দেশের জনগণ উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করি, ধানের শীষের প্রার্থীরা জনগণের রায় পাবেন।”
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “এরকম আসন খুব বেশি নয়, চার-পাঁচটি আসন আছে এরকম, যেখানে জোটের বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা রয়ে গেছেন। ওইটাও চেষ্টা করা হচ্ছে সেটেল করার জন্য।
“প্রথম ছিল দশ বা এগারোটি আসনে, এখন আলোচনার পর কমে কমে চার-পাঁচটিতে এসেছে। মনে হয় না খুব সমস্যা হবে, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের কারণে জামায়াত জোট কোনো সুবিধা পাবেন কিনা-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “স্বাভাবিকভাবে আমরা সুবিধা পাব। যেখানে তাদের লোক বেশি থাকবে, বা যেখানে আমাদের থেকে যাবে, সেখানে তো তারা সুবিধা পাবেই। শেষ পর্যন্ত যদি প্রত্যাহার না হয় তাহলে তো সবার জন্য একটু উদ্বেগের বিষয় আছেই। এতে দুই পক্ষই সুবিধা পাবে বলে মনে হয়।”
যেসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
আমাদের সারাদেশের প্রতিনিধিরা যেসব আসনে দ্বিমুখী বা ত্রিমুখী তুমুল লড়াইয়ের তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো হল-
পঞ্চগড়-২: বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজদ ও জামায়াতের শফিউল্লাহ শফির মধ্যে লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
ঠাকুরগাঁও-২: বিএনপির আব্দুস সালাম ও জামায়াতের আব্দুল হাসিমের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
দিনাজপুর-২: বিএনপির সাদিক রিয়াজ চৌধুরী ও জামায়াতের এ কে এম আফজালুল আনামের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। এখানে বিএনপির মধ্যে বিভক্তি রয়েছে।
দিনাজপুর-৪: বিএনপির প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান মিয়া ও জামায়াতের মো. আফতাবউদ্দীন মোল্লার মধ্যে লড়াই হবে।
দিনাজপুর-৫: এখানে বিএনপির প্রার্থীকে এ কে এম কামরুজ্জামানকে ‘বিদ্রোহী’ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এবং বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাচ্চুকে মোকাবিলা করতে হবে। এ ছাড়া এখানে এনসিপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল আহাদ।
দিনাজপুর-৬: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনেরে বিরুদ্ধে জামায়াতের মো. আনোয়ারুল ইসলাম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন।
নীলফামারী-১: এখানে বিএনপি জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন। জামায়াতের প্রার্থী জেলা কমিটির আমির মাওলানা আব্দুস সাত্তারের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির অবসরপ্রাপ্ত মেজর তসলিম উদ্দিন মাঠে আছেন। তিনজনের মধ্যে লড়াই হবে, বলছেন ভোটাররা।
নীলফামারী-২: ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সঙ্গে জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতিফের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।
লালমনিরহাট-১: এই সংসদীয় এলাকায় বিএনপির হাসান রাজীব প্রধানের সঙ্গে জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
রংপুর-১: বিএনপির প্রার্থী জেলা কমিটির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি রায়হান সিরাজীর মধ্যে এখানে লড়াই হবে। এই আসনে উচ্চ আদালতের আদেশে ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন জাতীয় পার্টির মঞ্জুম আলী।
রংপুর-৫: এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গোলাম রব্বানী; বিএনপি প্রার্থীর নামও গোলাম রব্বানী। দুই দলের প্রার্থীর নাম একই হওয়ায় ভোটাররা বেশ কৌতুহল বোধ করছেন। তারা বলছেন, দুই রব্বানীর দেখা যাবে।
কুড়িগ্রাম-১: এই আসনে বিএনপির সাইফুর রহমান রানা, জাতীয় পার্টির এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান ও জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলামের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
গাইবান্ধা-১: এখানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জামায়াতের মাজেদুর রহমান এবং ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার জিয়াউল ইসলামের মধ্যে লড়াইয়ের আশা করছেন ভোটাররা।
গাইবান্ধা-২: বিএনপির আনিসুজ্জামান খান বাবু ও জামায়াতের ইসলামীর আব্দুল করিমের মধ্যে জমজমাট লড়াই হচ্ছে। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রশিদ সরকার।
গাইবান্ধা-৫: বিএনপির ফারুক আলম সরকার ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ নাহিদুজ্জামান নিশাদ মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩: বিএনপির সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ ও জামায়াতের মো. নুরুল ইসলামের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথা বলছেন ভোটাররা।
নওগাঁ-৬: এখানে বিএনপির রেজাউল ইসলাম রেজু শেখ ও বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবিরের মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারণা। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম।
রাজশাহী-৪: বিএনপির ডি এম ডি জিয়াউর রহমান জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বারী সরদারের মধ্যে তীব্র লড়াই হচ্ছে।
নাটোর-৩: সাবেক উপমন্ত্রী বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের ধানের শীষের সঙ্গে জামায়াতের মোহাম্মদ ইউনুস আলীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের লড়াই হবে।
নাটোর-৪: এখানে বিএনপির আব্দুল আজিজ ও জামায়াতের আব্দুল হাকিমের মধ্যে মূল লড়াই।
সিরাজগঞ্জ-৪: সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির এম আকবর আলীর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। এই আসনে বিএনপির মধ্যে কোন্দল রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৫: এই আসনে বিএনপির আমিরুল ইসলাম খান আলীম ও জামায়াতের আলী আলমের মধ্যে লড়াই হবে।
পাবনা-১: বিএনপির শামসুর রহমান এবং জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেনের মধ্যে লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। মোমেন দলের সাবেক আমির ও একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে।
পাবনা-৩: এই আসনে কৃষকদল সভাপতি হাসান জাফির তুহিন বিএনপির প্রার্থী। তার সঙ্গে দলের ‘বিদ্রোহী’ কে এম আনোয়ারুল ইসলামের লড়াই হতে পারে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আছগার।
পাবনা-৪: জামায়াতের আবু তালেব মণ্ডল ও বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিবের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা মনে করেন।
পাবনা-৫: সদরের এই আসনে জামায়াতের ইকবাল হোসাইন এবং বিএনপির শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কুষ্টিয়া-২: বিএনপির প্রার্থী রাগীব রউফ চৌধুরী এবং জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির আব্দুল গফুরের মধ্যে লড়াই হবে।
কুষ্টিয়া-৪: এখানে বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি এবং জামায়াতের আফজাল হোসেনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।
চুয়াডাঙ্গা-১: জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের মধ্যে লড়াই হবে, বলছেন ভোটাররা।
চুয়াডাঙ্গা-২: বিজিএমইএর সভাপতি, বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ ও জেলা শাখার সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর প্রধান প্রতিপক্ষ জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন।
যশোর-১: জামায়াতের মুহাম্মদ আজীজুর রহমান এবং বিএনপির নুরুজ্জামান লিটনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।
যশোর-২: বিএনপির সাবিরা সুলতানা, জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলামের মধ্যে লড়াই হবে।
যশোর-৫: এখানে বিএনপির শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রশীদ আহমাদ (ধানের শীষ), জামায়াতের গাজী এনামুল হক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবালের মধ্যে লড়াইয়ের কথা বলছেন ভোটাররা।
যশোর-৬: জামায়াতের মোক্তার আলী এবং বিএনপির আবুল হোসেন আজাদের মধ্যে ভোটের লড়াই জমে ওঠেছে।
বাগেরহাট-২: বিএনপি প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। জামায়াতের শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমও জয়ের জন্য লড়ছেন।
বাগেরহাট-৩: বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখের মধ্যে লড়াই হবে।
বাগেরহাট-৪: বিএনপির প্রার্থী মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে এবং জামায়াতের মো. আব্দুল আলীম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন।
খুলনা-১: বিএনপির আমীর এজাজ খান ও জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দীর মধ্যে লড়াই হচ্ছে।
খুলনা-৫: এখানে লড়াই হবে দুই সাবেক এমপি, বিএপির আলী আসগার লবি ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মধ্যে।
সাতক্ষীরা-১: বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং জামায়াতের ইজ্জত উল্লাহর মধ্যে লড়াই হবে বলছেন ভোটাররা।
সাতক্ষীরা-৩: বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে আছেন শহিদুল আলম। আর এখানে জামায়াতের হয়ে মাঠে আছেন দলের জেলা শাখার সাবেক আমির রবিউল বাশার।
সাতক্ষীরা-৪: জামায়াতের প্রবীণ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে তরুণ বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামানের।
বরগুনা-১: বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর মধ্যে জমজমাট লড়াই হবে।
বরগুনা-২: এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনির সঙ্গে জামায়াতের মো. সুলতান আহমেদের লড়াই হওয়ার কথা বলছেন ভোটাররা।
পুটয়াখালী-২: বিএনপির মো. শহিদুল আলম তালুকদার এবং জামায়াত প্রার্থী সফিকুল ইসলাম মাসুদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারণা।
ভোলা-১: এখানে বিএনপি জোটের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জাময়াতের নজরুল ইসলামের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ভোলা-২: এখানে বিএনপির হাফিজ ইব্রাহিমের সঙ্গে জামায়াতের ফজলুল করিমের লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারণা।
বরিশাল-২: এখানে বিএনপির সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এবং জামায়াতের আব্দুল মান্নান মাস্টার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
বরিশাল-৪: বিএনপির রাজীব আহসান এবং জামায়াতের আব্দুল জব্বারের মধ্যে লড়াই হবে।
পিরোজপুর-৩: বিএনপির মঠবাড়িয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন দুলাল এবং চার বারের সাবেক এমপি ইসলামী আন্দোলনের রুস্তম আলী ফরাজীর ভাল অবস্থানে আছেন। তাদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী শামীম হামিদী।
টাঙ্গাইল-৪: এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে লড়ছেন বিএনপির লুৎফর রহমান মতিন।
টাঙ্গাইল-৫: এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এবং দলের ‘বিদ্রোহী’ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ ফরহাদ ইকবালের মধ্যে লড়াই হতে পারে বলে ভোটারদের ধারণা।
টাঙ্গাইল-৮: বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ আযম খান এবং বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের মধ্যে লড়াই দেখতে পাচ্ছেন ভোটাররা। এখানে জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান।
শেরপুর-১: এখানে বিএনপি প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ শফিকুল ইসলাম মাসুদের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে।
ময়মনসিংহ-৩: গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ এবং বিএনপির এম ইকবাল হোসাইনের মধ্যে জমজমাট লড়াই হচ্ছে।
ময়মনসিংহ-৬: এখানে ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম। এ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শামছ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আখতার সুলতানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী কামরুল হাসানের পাশাপাশি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রচারে ঝড় তুলেছেন দলটির বহিষ্কৃত নেতা জসিম উদ্দিন। এখানে চতুর্মুখী লড়াই হচ্ছে।
ময়মনসিংহ-৯: এখানে বিএনপি প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে তার চাচী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। হাসিনা বিএনপির সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী।
ময়মনসিংহ-১০: এখানে বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হাঁস প্রতীকের আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
ময়মনসিংহ-১১: বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর ধানের শীষের সঙ্গে দলটির সাবেক নেতা মুহাম্মদ মোর্শেদুল আলমের হরিণ প্রতীকের লড়াই হচ্ছে।
নেত্রকোণা-৩: কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী। তার সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দলের ‘বিদ্রোহী’ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার।
কিশোরগঞ্জ-৫: এখানে বিএনপির সৈয়দ এহসানুল হুদার সঙ্গে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ-১: বিএনপির এস এ জিন্নাহর সঙ্গে দলের ‘বিদ্রোহী’ মো. মোজাম্মেল হক তোজার জমজমাট লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারণা।
মুন্সীগঞ্জ-৩: বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতনের সঙ্গে দলের জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
ঢাকা-৭: এখানের বিএনপির হামিদুর রহমান এবং জামায়াতের এনায়েত উল্লাহ লড়ছেন।
ঢাকা-১২: এই আসনে তিন সাইফুলের লড়াই হচ্ছে। বিএনপি আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে। আর দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন সাইফুল আলম নিরব। এখানে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান।
ঢাকা-১৩: বিএনপির ববি হাজ্জাজ এবং জামায়াত জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকা-১৪: এখানে বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলি ও দলের ‘বিদ্রোহী’ আবু বকর সিদ্দিক সাজুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জামায়াতের মীর আহমদ বিন কাসেম; যিনি ব্যারিস্টার আরমান হিসেবেই পরিচিত।
ঢাকা-১৫: জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিএনপির শফিকুল ইসলাম মিল্টনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করছেন স্থানীয় ভোটাররা। ২০০১ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও ২০১৮ সালে ঢাকার এই আসন থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন জামায়াত আমির।
নারায়ণগঞ্জ-৪: বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মনির হোসাইন কাসেমী। তার সঙ্গে লড়াই হচ্ছে বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের।
রাজবাড়ী-২: এখানে বিএনপির ধানের শীষের হারুন অর রশিদের সঙ্গে দলের সাবেক এমপি নাসিরুল হক সাবুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটারদের ধারণা।
গোপালগঞ্জ-১: এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমুজ্জামান সেলিম ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন। তার সঙ্গে তীব্র লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল এবং গণঅধিকার পরিষদের কবির মিয়ার।
মাদারীপুর-১: এখানে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার। তার সঙ্গে তীব্র লড়াই গড়ে তুলেছেন কামাল জামান মোল্লা। তিনি শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। দল প্রথমে তাকে মনোনয়ন দিলেও বিক্ষোভের মুখে বাতিল করে।
সুনামগঞ্জ-২: এখানে বিএনপির প্রবীণ নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতের তরুণ আইনজীবী শিশির মনিরের তুমুল লড়াইয়ের আভাস মিলছে ভোটারদের কথায়।
সুনামগঞ্জ-৩: বিএনপির প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন। এখানে তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন দলের জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪: এখানে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরুল। তার বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই তৈরি করেছেন হাছন রাজার পরিবারের সদস্য জেলা বিএনপির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জুয়েল জাকেরিন।
সিলেট-৫: বিএনপি এই আসনটি তার জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে লড়ছেন। এখানে তার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদের; যিনি ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত।
সিলেট-৬: সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর ধানের শীষ প্রতীকের সঙ্গে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এই আসনে লড়াইয়ের ময়দানের আছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ফখরুল ইসলাম।
মৌলভীবাজার-১: জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নাসিরুদ্দিন আহমেদ মিঠুর ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে আছেন মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের দাঁড়িপাল্লা।
মৌলভীবাজার-২: স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আল-ইসলাহ সংগঠনের নেতা মো. ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ-পিরিচ) এবং বিএনপি প্রার্থী মো. শওকতুল ইসলাম শকুর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারণা।
হবিগঞ্জ-১: এখানে দলে যোগ দিয়ে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন রেজা কিবরিয়া। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। তার সঙ্গে লড়াই হবে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত আলীর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: এখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব। তার বিপরীতে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন দলের সাবেক এমপি রুমিন ফারহানা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫: বিএনপির প্রার্থী মান্নান মিয়ার সঙ্গে লড়াই হবে দলের অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: বিএনপি জোটের পক্ষে এখানে প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তার সঙ্গে জামায়াতের মো. মহসিন মিয়ার তীব্র লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারণা।
কুমিল্লা-৪: এখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। বিএনপি গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিনকে ট্রাক প্রতীকে সমর্থন দিয়েছে। ফলে লড়াই হচ্ছে হাসনাত ও জসিমের মধ্যে।
কুমিল্লা-১১: জামায়াতের নায়েব আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে জিততে হলে হারাতে হবে বিএনপির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদাকে।
চাঁদপুর-৪: এখানে বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ। তার সঙ্গে জামায়াতের বিল্লাল হোসেন সিরাজীর তীব্র প্রতিযোগতিা হবে।
নোয়াখালী-৬: দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। কিন্তু তাকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে নেমেছেন দলের সাবেক এমপি ফজলুল আজিম। এখানে জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ভোটের আভাস দিচ্ছেন ভোটাররা।
চট্টগ্রাম-১৪: ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ বিএনপির দুই ‘বিদ্রোহী’ ছাড়াও জামায়াত জোটের প্রার্থীর সঙ্গে লড়ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রাহী ও মিজানুল হক চৌধুরীর সঙ্গে এখানে জামায়াতের ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ এর প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির ওমর ফারুক। তিনি এলডিপি সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলিরে ছেলে।
কক্সবাজার-৪: সীমান্তের দুই উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফ নিয়ে এ আসনে বিএনপির প্রবীণ নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতের জহিরুল ইসলামের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলছেন ভোটাররা।
সূত্র: বিডি নিউজ২৪