1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব নথি জব্দের দাবি | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব নথি জব্দের দাবি

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নথিপত্র জব্দের দাবি জানিয়েছেন তার চিকিৎসকদলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। একই সঙ্গে তৎকালীন চিকিৎসকদল, চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় তিনি এ দাবি তোলেন।

ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর আমরা (বর্তমান মেডিকেল বোর্ড) উনার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, আমাদের তত্ত্বাবধানে ভর্তির সাথে সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও উদ্বেগের সাথে দেখতে পাই—ম্যাডাম লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার ছাড়পত্রে উনাকে মেথোট্রেক্সেট নামের একটি ট্যাবলেট আর্থাইটিসের জন্য নিয়মিত খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া আছে এবং উনাকে ভর্তি থাকা অবস্থায় খাওয়ানো হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক এই ওষুধটি খাওয়ানো বন্ধ করি।

তিনি আরো বলেন, ম্যাডাম রিউমাটয়েড আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রিউমাটলজিস্টদের পরামর্শে এই ওষুধটি তিনি খাচ্ছিলেন। এর পাশাপাশি তার ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ছিল। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ম্যাডামের লিভারের অসুখ নির্নয় করা খুবই সহজ একটি কাজ ছিল। এজন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। মেথোট্রেক্সেট খাওয়ালে নিয়মিত রক্তে লিভার ফাংশনের কয়েকটা উপাদান পরীক্ষা করে দেখতে হয় এবং অস্বাভাবিক হলে ওষুধ বন্ধ করে ন্যূনতম পেটের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে লিভারের অবস্থা দেখতে হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ম্যাডামের লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ দেখার পরও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকরা একটা আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং মেথোট্রেক্সেটও বন্ধ করেননি।

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, তৎকালীন চিকিৎসকদের ওপর আস্থার অভাবে ম্যাডাম ওখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে রাজি হননি কিন্তু অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে উনার আস্থাভাজন চিকিৎসক দিয়ে বেড সাইডে পয়েন্ট অব কেয়ার আলট্রাসাউন্ড সহজেই করা যেতো। নিদেনপক্ষে এমটিএক্স বন্ধ করে দেওয়া ছিল অবশ্য কর্তব্য।

তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন ম্যাডামকে কি স্লো পয়োজন করা হয়েছে? আমার উত্তর হচ্ছে, মেথোট্রেক্সেট ওয়াজ দ্য ড্রাগ দ্যাট এক্সেলেরেটেড হার ফ্যাটি লিভার ডিজিস টু সিরোসিস অব লিভার! ইন দ্যাট কনটেক্সট ইত অ্যাক্টেড লাইক স্লো পয়োজন ফর হার লিভার।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এ ধরনের অবহেলা, লিভার ফাংশন দ্রুত অবনতি উনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা উনাকে হত্যা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া উনার ডায়াবেটিস ও আথ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিকেল বোর্ডের কাছে আছে।

এই বিষয়ে আইনগতভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে ম্যাডামের চিকিৎসা জনিত অবহেলার তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।

বিষয় তিনটি হলো—

ক. সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা ম্যাডামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কিনা।

খ. ভর্তিকালে কোন কোন চিকিৎসক উনার চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা।

গ. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা চলাকালে ম্যাডাম আইনজীবীর মাধ্যমে তার তিনি বলেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন কী কারণে সেটি হয়নি বা কারা বাধা দিয়েছিল।

তিনি বলেন, উল্লেখ করা দরকার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ম্যাডামের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএমইউয়ের সব ডকুমেন্ট আইনগতভাবে জব্দ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ