1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
গাজায় অসহনীয় পতন: নীরব দুনিয়া | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

গাজায় অসহনীয় পতন: নীরব দুনিয়া

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৫

গত ১৫ মাসে গাজা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে, আর বিশ্ব চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখেছে।

২০১২ সালে প্রথমবার গাজার অবাসযোগ্য অবস্থার কথা উঠে আসে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (UNCTAD) গাজার জনসংখ্যা তখন ১৮ লাখ ছিল বলে জানায়। ওই সময় ‘গাজা স্ট্রিপ: অর্থনৈতিক অবস্থা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘ। এটি ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য নয় বরং সতর্ক করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল। গাজায় চলমান অবরোধের বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যবস্থা না নিলে মানবিক বিপর্যয় আসন্ন -এটাই ছিল বার্তা।

তবু তেমন কিছুই করা হয়নি। UN বারবার তাদের সতর্কতা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে বড় যুদ্ধের পর।

২০১৫ সালে UNCTAD-এর আরেকটি প্রতিবেদনে গাজার সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে জানানো হয়। 

এর আগের বছরের ভয়াবহ যুদ্ধ ছিল সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক। এই যুদ্ধে শত শত কারখানা ধ্বংস হয়, হাজারো বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যায়, আর লাখো মানুষ গৃহহীন হয়।

২০২০ সাল নাগাদ গাজা ‘অবাসযোগ্য’ হওয়ার কথা ছিল। 

UN-এর নির্ধারিত মান অনুযায়ী, গাজা তখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ততদিনেও কিছুই করা হয়নি। গাজার জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল, অথচ সম্পদ কমে আসছিল। ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান ‘বাফার জোন’ গাজার ভূমি দখল করে নিচ্ছিল। ফলে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বড় খোলা কারাগারের’ অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে।

এতকিছুর পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গুরুত্ব দেয়নি। এক দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, অবরোধ, যুদ্ধ এবং দৈনিক সহিংসতার মধ্য দিয়ে গাজার মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছে যায়। ৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে এটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

প্রশ্ন হলো, যদি বিশ্ব গাজার আর্তনাদ শোনার ন্যূনতম চেষ্টা করত, তাহলে কি এই যুদ্ধ এবং গণহত্যা এড়ানো যেত?

এখন এসবের কোনো অর্থ নেই। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এমনভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা এমনকি সবচেয়ে হতাশাবাদী হিসেবকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আজ গাজা শুধু বসবাসের অযোগ্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও তা বসবাসের অনুপযোগী। গ্রীনপিসের মতে, গাজার বর্তমান অবস্থায় পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা প্রজন্ম ধরে থেকে যাবে।

যুদ্ধের প্রথম ১২০ দিনে পরিবেশগত বিপর্যয়ের চিত্র: 

– ৫,৩৬,৪১০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হয়েছে।

– এর ৯০% ইসরায়েলের বিমান হামলা ও স্থল অভিযান থেকে উৎপন্ন।

– এই কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ এমন কিছু দেশের বার্ষিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের চেয়েও বেশি, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

 

পরিবেশের ওপর আরও ক্ষতিকর প্রভাব:

– জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) ২০২৪ সালের জুন মাসে জানায়, গাজার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

– উপকূলীয় এলাকা, মাটি এবং বাস্তুতন্ত্র ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে পুরো গাজা ধ্বংস হয়ে গেছে। গত ১৫ মাস ধরে আবর্জনা জমছে, কিন্তু তা প্রক্রিয়াজাত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, আর হাসপাতালগুলো হয় বোমায় ধ্বংস হয়েছে, নয়তো পুড়ে গেছে। চিকিৎসা সেবার অভাবে অনেক রোগী তাঁবুর মধ্যেই মারা যাচ্ছেন।

 

স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিপর্যয়: 

– অক্টোবর ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ইসরায়েল ৫১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।

– এতে ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।

– প্রায় ৫ লাখ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন, কিন্তু চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

 

পরিবেশ ও পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ: 

গাজার পুনর্গঠন করতে গিয়ে আরও ৬ কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হবে। এই বিশাল পরিমাণ কার্বন একটি ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত পরিবেশকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিশ্বের যেসব দেশ পরিবেশ রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর কথা বলে, তারাই ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে অথবা যুদ্ধের বিরুদ্ধে নীরব থেকেছে।

এমন দ্বিচারিতা এবং নীরবতার মূল্য দিতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষকে।  এখনই কি সময় হয়নি বিশ্ব একসঙ্গে জেগে উঠবে এবং বলবে- ‘এটাই যথেষ্ট’?

 

ড. রামজি বারউদ, একজন সাংবাদিক, লেখক এবং সম্পাদক। তিনি ছয়টি বইয়ের লেখক।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ