1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
ঢাকা শহরে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

ঢাকা শহরে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৫

ঢাকা বাংলাদেশে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে একটি। এখানে প্রায় ২ কোটির বেশি মানুষের বাস এবং প্রতিনিয়ত এই শহরের জনসংখ্যা বাড়ছে। শহরের অবকাঠামোও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যেখানে রয়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন, দালান কোঠা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্কুল, রেস্টুরেন্ট এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই শহরে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে যদি একটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে।

ঢাকা শহরের ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং এই শহরের অবকাঠামো নির্মাণের গুণগত মান ভূমিকম্পের ঝুঁকির জন্য উদ্বেগজনক। ফলে, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে শহরের মানুষ কিভাবে রক্ষা পেতে পারে, সে বিষয়ে কিছু কার্যকরী ব্যবস্থা এবং প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

১. ভূমিকম্প প্রতিরোধী নির্মাণ এবং আধুনিক অবকাঠামো

ঢাকা শহরের বেশিরভাগ ভবন এবং দালান কোঠা ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি ব্যবহার না করে নির্মিত হয়েছে। এটি শহরের ভূমিকম্প ঝুঁকির সবচেয়ে বড় কারণ।

নতুন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি: ভবন নির্মাণের সময় ভূমিকম্প সহনীয় স্থাপত্য এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। বিশেষত, বহুতল ভবনগুলোর জন্য ব্রেসিং সিস্টেম, ভূমিকম্প ইনসুলেশন সিস্টেম এবং ডাম্পার সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে।

পুরনো ভবনের সংস্কার: পুরনো ভবনগুলোর জন্য ভূমিকম্প সহনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে দেয়াল শক্তিশালী করা, সিলিং-এর সংযোগ মজবুত করা এবং ভবনের ভিতরের কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা।

২. নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সঠিক প্রশিক্ষণ

ভূমিকম্প প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা: শহরের মানুষকে ভূমিকম্পের সময় কীভাবে সুরক্ষিত থাকতে হবে, সে বিষয়ে ব্যাপক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ভূমিকম্পে উত্তেজিত না হয়ে শান্ত থাকা, সঠিক আশ্রয় নেওয়া এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব।

স্কুল, কলেজ এবং অফিসে ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুতি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসগুলোর জন্য নিয়মিত ভূমিকম্প প্রস্তুতি মহড়া চালানো উচিত, যাতে কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, এবং স্টাফরা ভূমিকম্পের সময়ে দ্রুত এবং নিরাপদভাবে বেরিয়ে আসতে পারেন।

৩. বিশ্বস্ত জরুরি সেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা

জরুরি সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন: ঢাকা শহরের সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভূমিকম্পের পরে দ্রুত উদ্ধারকারী দলের প্রস্তুতি, হাসপাতালে দ্রুত আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা: ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায়ই ভেঙে যায়। তাই, সেলফ-সাসটেইনড টেলিযোগাযোগ সিস্টেমের (যেমন স্যাটেলাইট ফোন) ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যা সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে উদ্ধারকাজে সহায়ক হতে পারে।

৪. আশ্রয় কেন্দ্র এবং দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা

অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা: ভূমিকম্পের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত অঞ্চলে বাস করা মানুষদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আশ্রয় কেন্দ্র থাকা উচিত যাতে বিপর্যয়ের শিকার মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে।

জল, খাবার, এবং চিকিৎসাসেবা সরবরাহ: ভূমিকম্পের পরের সময়ে জরুরি খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসাসেবা দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেন বিপর্যস্ত মানুষের প্রাণ বাঁচানো যায়।

৫. কর্মস্থলে এবং বাড়িতে ভূমিকম্প প্রতিরোধী ব্যবস্থা

কর্মস্থলে সেফটি প্ল্যানিং: কর্মস্থলে (অফিস) ও বাসাবাড়িতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানোর জন্য সেফটি প্ল্যান তৈরি করা উচিত। ভবনগুলোর আঙ্গিনায় পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে যাতে ভূমিকম্পের সময় নিরাপদভাবে মানুষ বেরিয়ে আসতে পারে।

অবস্থানগত নিরাপত্তা: ঢাকা শহরের যেসব স্থান ভূমিকম্পের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোর পুনঃনির্মাণ এবং অবকাঠামোর অবস্থান ঠিক করা উচিত। শহরের যে এলাকাগুলো ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে নির্মাণ কাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা এবং পূর্ব প্রস্তুতি

ঢাকা শহরের জন্য ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস সিস্টেম এবং প্রযুক্তির সাহায্যে শহরের মানুষকে প্রাথমিক সতর্কবার্তা দেওয়া যেতে পারে, যার মাধ্যমে তারা দ্রুত প্রস্তুতি নিতে পারে।

৭. মজবুত রাজনৈতিক ইচ্ছা ও বাজেট বরাদ্দ

ঢাকা শহরের ভূমিকম্প ঝুঁকি কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই পরিকল্পনার আওতায়, বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ এবং বাস্তবায়ন করা উচিত।

ঢাকা শহর ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, সঠিক প্রস্তুতি এবং সচেতনতার মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় দক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পেশাদার প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে একত্রিতভাবে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য কাজ করতে হবে।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ