1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
নৈশভোটে ১০৪১ কুশীলব | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

নৈশভোটে ১০৪১ কুশীলব

ঢাকা অনলাইন ডেস্ক
  • রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫

রাতের ভোটখ্যাত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু ভয়াবহ এই ভোটাধিকার জালিয়াতির কুশীলব কারা? ক্ষমতা ধরে রাখতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ছিলেন মরিয়া। আর গণতন্ত্র হত্যার মতো নির্দেশনাকে মেনে তা বাস্তবায়ন করতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন পুলিশ, প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

রাতের ভোটের কুশীলবদের একটি তালিকা করা হয়েছে। আর এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৬৭৭ জন পুলিশ সদস্য। জেলা প্রশাসক ও ইউএন রয়েছেন ৩৬৪ জন। রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের নামও। এর মধ্যে ১৮৭ পুলিশ কর্মকর্তা আত্মগোপনে রয়েছেন। ১৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন আমেরিকা, লন্ডন, দুবাই ও ভারতে।

শেখ হাসিনাকে খুশি করতেই ‘ভোটকলঙ্কের’ প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন ওই কর্মকর্তারা। ভোট চুরিতে তাদের ভূমিকা এতটায় দানবীয় একটি কেন্দ্রে যত ভোটার রয়েছেন, তার চেয়ে বেশি ভোট কেটেছেন তারা। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠলেও, বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে হাসিনা সরকার। উল্টো ওই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়াসহ পুরস্কৃত করা হয়েছে নানাভাবে। দেওয়া হয়েছে ‘থ্যাংকস লেটার’।

গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের নানা অবিচার সামনে নিয়ে আসছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালে রাতের ভোটের বিষয়টি জোরালোভাবে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা রাতের বেলায় ভোট নেওয়ার কারিগর ও সহায়তাকারী, তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, তালিকায় পুুলিশের নাম সবচেয়ে বেশি। সাবেক আইজিপি, পুলিশের সব কটি ইউনিটপ্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, থানার ওসি, ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টরদের নাম রয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও থানার নির্বাহী কর্মকর্তার নামের তালিকায় আছেন ৩৬৪ জন। তা ছাড়া রাতের ভোটের আরেক কারিগর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের নাম রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তারাও নৈশভোটের আরেক কারিগর হিসেবে পরিচিত। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারের হাইকমান্ড। ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের সহায়-সম্পদের রহস্য উদঘাটন করতে অনুসন্ধান শুরু করেছে। তালিকাভুক্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, দুবাই ও ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। গত বছরের ১ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০১ জন পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১ জন ডিআইজি, ৭ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ২ জন পুলিশ সুপার, ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ৫ জন সহকারী পুলিশ সুপার, ৫ জন পুলিশ পরিদর্শক, ১৪ জন এসআই ও সার্জেন্ট ১৪ জন, ৯ জন এএসআই, ৭ জন নায়েক এবং ১৩৬ জন কনস্টেবল।

তা ছাড়া কর্মস্থলে গরহাজির ৪৯ জন, স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন ৩ জন ও অন্যান্য কারণে ৩৯ জন কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, পুরস্কারের জন্য তাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে পদোন্নতি ও পুরস্কৃত করার পেছনে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক ও ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের পদক তালিকায় বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছেন। তাদের পদোন্নতির পাশাপাশি ভালো স্থানে পদায়ন করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নৈশভোটে যারা সব ধরনের সহায়তা করেছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাটি সরকারের শীর্ষ মহলের কাছে পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া দুদকের কাছেও পাঠানো হয়। রাতের ভোটের কনসেপ্টটি প্রথমে পুলিশের মাধ্যমেই এসেছিল। যারা এসব অপকর্ম করেছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরের বছরের ১ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব কটি ইউনিটপ্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের ‘থ্যাংকস লেটার’ পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক পরিবেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮ সফলভাবে সম্পন্ন করায় আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা, নির্বাচন-পূর্ববর্তী আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন চলাকালে ও পরবর্তী পরিস্থিতি দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করা এবং স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে আপনি সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে অবদান রেখেছেন, তা জনগণের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সর্বোত্তম প্রতিফলন।পরে ৫ ও ৬ জানুয়ারি দেশের সব থানা ও পুলিশ সদর দপ্তরে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। চিঠিটি পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারাই হতবাক হন। প্রতিটি আসনেই রাতের বেলায় ভেট গ্রহণ করা হয়েছে দিবালোকের মতোই সত্য। পুলিশ ও অন্য প্রশাসনের লোকজন ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।

নাম প্রকাশ না করে পুলিশের এক কর্মকর্তা (তিনিও নৈশভোটে সম্পৃক্ত) বলেন, সংসদ নির্বাচনের এক মাস আগেই রাতের বেলায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত নেয়। গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভোটের বিষয় নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিএনপি অংশ নিয়েছিল। রাতের বেলায় ৭০ ভাগ ভোট কাস্ট করতে বলা হয়। বাকি ৩০ ভাগ দিনের বেলায় নিতে বলা হয়। নির্বাচনের আগের দিন রাত ১২টা থেকে ৩টা-সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভোট কেটে ফেলা হয়। এমনও কেন্দ্রে ঘটেছে, ভোটারের চেয়ে বেশি ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। পরে নতুন ব্যালট এনে ঠিক করা হয়। এসব ঘটনায় আইজিপি থেকে শুরু করে সাব-ইন্সপেক্টররা জড়িত।

তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি মহানগর, জেলা, বিভাগীয়, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে নিয়ে নির্বাচনে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকী, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজিসহ জেলা প্রশাসক, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার (এসপি), ওসি, জেলা-উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশ ছিল।

গত ২২ জানুয়ারি দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ, জাল-জালিয়াতি, দিনের ভোট রাতে করা এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পাঁচ সদস্যের একটি টিম এ-সংক্রান্ত কাজ করছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালালেও ওইসব ডিসি-এসপির অনেকেই এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে একটি জরিপ করেছিল কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। জরিপে আওয়ামী লীগের মাত্র ২২ থেকে ৩০টি আসনে জয় পাওয়ার তথ্য উঠে আসে। বাকি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের জয়ের সম্ভাবনা ছিল। পরেই তৎকালীন সরকার রাতের ভোটের ছক সাজিয়ে ফেলে। একাদশ সংসদ নির্বাচন সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢালাওভাবে ৬৪ জেলার এসপি, সব ডিআইজি ও সব পুলিশ কমিশনারকে রাষ্ট্রীয় পদক দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক দুই কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও শফিকুল ইসলাম, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল কাহার আকন্দ, আতিকা ইসলাম, মোজাম্মেল হক, মনিরুজ্জামান, খুলনা রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি দিদার আহম্মেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশিদ হোসেন, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম এবং ৬৪ জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপারদের বিশেষ পদক দেওয়া হয়। কুশীলবদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তারেক আহমেদ সিদ্দিকী ভারত বা লন্ডনে আছেন। ওবায়দুল কাদের পালিয়ে ভারতে আছেন বলে তথ্য মিলেছে। সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী আমেরিকা ও বেনজীর আহমেদ তুরস্কে অবস্থান করছেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম বর্তমানে আমেরিকা, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ভারত, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার বহু বিতর্কিত কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ আমেরিকা, বিপ্লব কুমার সরকারসহ অন্তত ১৫ কর্মকর্তা বিভিন্ন দেশে অস্থান করছেন। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া কারাগারে আছেন। তালিকা অনুযায়ী, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক প্রধান মীর রেজাউল আলম, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল কাহার আকন্দ (তাকে ১০ বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল), ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার গোলাম ফারুক, সিআইডির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া, সিটিটিসির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান, রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবুল বাতেন, রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মনিরুজ্জামান, অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, শেখ রেজাউল হায়দার, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক, ডিআইজি, মারুফ হোসেন, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত ডিআইজি সরকার মোহাম্মদ কায়সার, এসপি কাজী শফিকুল আলম, এসপি মাছুর আহাম্মদ ভূঞা, এসপি মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, এসপি ছাইদুল হাসান, ডিআইজি শাহ আবিদ হোসেন, জামিল হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি রিফাত রহমান শামীম, অতিরিক্ত ডিআইজি কাজী আশরাফুল আজীম, জমীম উদ্দিন মোল্লা, অতিরিক্ত ডিআইজি এসএম শফিউল্লাহ, ঢাকা জেলার সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেল, ঢাকার সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহিদুর রহমান, ওয়ারী জোনের সাবেক এডিসি এসএম শামীম, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, ডিবির সাবেক যুগ্ম কমিশনার খোন্দকার নুরুন্নবী, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এসএম মেহেদী হাসান, রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার উত্তম কুমার পাল, আরপিএমপির উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন, আরপিএমপি ডিবির উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মফিজুর রহমানসহ অনেকের নাম রয়েছে। দেশের সব কটি থানার ওসি ও সাব-ইন্সপেক্টরদেরও নাম আছে তালিকায়।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্চাভিলাষী ও অপেশাদার পুলিশ সদস্যদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তারা রাতের বেলায় ভোট করেছিলেন। তা ছাড়া ছাত্র-আন্দোলনের সময়ও নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ লোকজনকে হত্যা করেছেন। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তারা ৭ম, ৮ম ব্যাচ, ১২তম, ১৫তম, ১৭তম, ১৮তম, ২০তম, ২১তম, ২২তম, ২৪তম, ২৫তম, ২৭তম ও ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাই সবচেয়ে বেশি। তা ছাড়া সাবেক কজন আইজিপি ও পুলিশ কমিশনারের নামও আছে তালিকায়।

তিনি আরও বলেন, পটপরিবর্তনের পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চারটি, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে ১০৫টি, সাবেক ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক, ডিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে চারটি, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৩টি হত্যাসহ ২৫টি, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৮৭টি হত্যাসহ ৮৯টি, সাবেক সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ২৩টি, পিবিআইয়ের সাবেক প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের বিরুদ্ধে হত্যাসহ দুটি, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি কৃষ্ণপদ রায়ের বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ সাতটি, র‌্যাবের সাবেক ডিজি মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে দুটি, অতিরিক্ত আইজিপি সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একটি, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেনের বিরুদ্ধে চারটি, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তারের বিরুদ্ধে ৫০টি, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি, সিটিটিসির সাবেক ডিআইজি আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৯টি হত্যাসহ ১৪টি মামলাসহ অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সবার বিরুদ্ধে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকা ছিল।
সূত্র: দেশ রুপান্তর

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ