জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় আজ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিকালে তিন দিনব্যাপী মূল অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন তিনি। এছাড়া তিনি খাল পুনঃখনন ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। এ উপলক্ষে ত্রিশাল উপজেলা সেজেছে নতুন সাজে। সর্বত্র বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। রয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, আজ সকাল ৯টায় সড়কপথে ঢাকা থেকে ত্রিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ১২টায় উপজেলার বালর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। বেলা ২টায় ত্রিশালের নজরুল ডাকবাংলোতে বিরতি শেষে বেলা ৩টায় নজরুল মঞ্চে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। বিকাল ৫টায় ত্রিশালের নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামী ১১ জ্যৈষ্ঠ ২৫ মে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী হলেও ঈদুল আজহার ছুটির কারণে এবার ২৩-২৫ মে তিনদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি (কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর হাইস্কুল) মাঠে অবস্থিত নজরুল মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মাঠের উত্তর পাশে ও সিএনবি গোডাউনে বসছে তিন দিনব্যাপী নজরুল মেলা। এছাড়া মঞ্চের কাছে মাঠের একাংশে বসানো হয়েছে নজরুল বইমেলা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নানা দাবি-দাওয়ার কথা বলছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষ। ত্রিশাল মহিলা ডিগ্রি কলেজসহ কবির নামে প্রতিষ্ঠিত ত্রিশাল নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের দাবি উঠেছে। অন্যদিকে ত্রিশালে একটি ইপিজেড, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ময়মনসিংহের বিশিষ্ট সংগঠক ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক মোখলেছুর রহমান সবুজ বলেন, ‘ত্রিশাল থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শ্রমিক সহজলভ্যতার কারণে ত্রিশালে একটি ইপিজেড স্থাপন করা হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’
ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বহু বছর পর জাতীয় পর্যায়ে কবি নজরুলের জন্মজয়ন্তী ত্রিশালে পালিত হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।’
তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের বিশেষ ভূমিকার কারণে এবার জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজন ত্রিশালে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ বইছে। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই ময়মনসিংহবাসীরও তার কাছে কিছু প্রত্যাশা ও দাবি রয়েছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।’