1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ৫টি মসজিদ | ঢাকা আওয়ার
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ৫টি মসজিদ

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

ইসলামে মসজিদকে শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং মুসলিম সমাজের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হয়। আল্লাহর ঘর হিসেবে মসজিদে নামাজ আদায় করা সর্বোত্তম আমলগুলোর একটি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদ।” তাই মসজিদ মুসলমানদের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি, আল্লাহর ইবাদত ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলার জায়গা। প্রাথমিক ইসলামি যুগ থেকেই মসজিদ শিক্ষা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক কার্যক্রমেরও কেন্দ্র ছিল। বাংলাদেশেও মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়, বরং এটি মানুষের ধর্মীয় জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে হাজারো মসজিদ। এগুলো শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং ইসলামি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। আজকের আলোচনায় থাকছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাঁচটি মসজিদ।

১। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ। মসজিদটি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র পল্টনে অবস্থিত। ১৯৬৮ সালে মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। তৎকালীন পাকিস্তানের বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তার ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানির উদ্যোগে এই মসজিদ নির্মাণের পদক্ষেপ গৃহীত হয়। মসজিদে একসাথে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। ফলে ধারণক্ষমতার দিক দিয়ে এটি বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম মসজিদ।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় মসজিদ জমিয়াতুল ফালাহ

২। জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক মসজিদ। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় মসজিদ হিসাবেও পরিচিত। ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিল-২০১৩ পাসের মাধ্যমে এই মসজিদ ও কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় আনা হয়। এটি অনেকগুলি খিলানসহ চমৎকার স্থাপত্যে নির্মিত। মূল ভবনটি পাঁচতলা মসজিদ। প্রায় ১০০০০ মানুষ এখানে একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে। মূল ভবনের সামনে একটি বিশাল জায়গা রয়েছে সেখানে ঈদ উল ফিতর এবং ঈদ উল আযহার সময় ঈদের নামায অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের সময় এখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ একত্রে জড়ো হন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ

৩। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি মসজিদ। এটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের নামাজের ব্যবস্থা স্বরুপ নির্মাণ করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ ও যে কোনো ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সবচেয়ে বৃহত্তম মসজিদ। চারতলা বিশিষ্ট মসজিদের মূল অংশে মোট সাত হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবে। এছাড়া মসজিদের সামনের অংশের পেডমেন্টে আরো ১০ হাজার মুস্ললি নামাজ পড়তে পারবে। ক্যাম্পাসের ২.২৫ হেক্টর স্থান জুড়ে নির্মাণ হচ্ছে মসজিদটি। মসজিদটি চারতলা বিশিষ্ট বর্গাকৃতির সিরামিক ও শ্বেতপাথরে নির্মিত হয়েছে।

দেশের চতুর্থ বড় মসজিদ বাইতুল আমান

৪। বাইতুল আমান জামে মসজিদ

বাইতুল আমান জামে মসজিদ দেশের চতুর্থ বড় মসজিদ হিসেবে ধরা হয়। মসজিদটি গুঠিয়া মসজিদ কমপ্লেক্স নামেও পরিচিত। বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় অবস্থিত একটি মসজিদ। এখানে ২০ হাজার অধিক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহ্ ময়দান রয়েছে। চাংগুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ এটির নির্মাণ ব্যয় বহন করেন। কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশপথের ডানে বড় পুকুর। পুকুরের পশ্চিম দিকে মসজিদ অবস্থিত এবং এর মিনারটির উচ্চতা প্রায় ১৯৩ ফুট। এর প্রতিষ্ঠাতা দানবীর এস সরফুদ্দীন আহমেদ।

বাংলাদেশের পঞ্চম বড় মসজিদ হিসেবে ধরা হয় ২০১ গম্বুজ মসজিদকে

৫। ২০১ গম্বুজ মসজিদ

২০১ গম্বুজ মসজিদ হলো বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে অবস্থিত একটি মসজিদ।এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গম্বুজ এবং দ্বিতীয় উচ্চতম মিনার বিশিষ্ট মসজিদ হিসাবে স্বীকৃত। মসজিদটির নকশা করা হয়েছে ২০১টি গম্বুজ ও ৯টি মিনার দিয়ে সজ্জিত একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ কমপ্লেক্স হিসেবে। মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। ধারণা করা হয় এটি বাংলাদেশের পঞ্চম বড় মসজিদ।

মসজিদটির ছাদে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি গম্বুজ রয়েছে। এই বড় গম্বুজের চারপাশে ছোট ছোট গম্বুজ আছে ২০০টি। প্রত্যেকের উচ্চতা ১৭ ফুট। মূল মসজিদের চার কোণায় রয়েছে ৪টি মিনার। প্রত্যেকের উচ্চতা ১০১ ফুট। পাশাপশি ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার আছে। সবচেয়ে উঁচু মিনারটি মসজিদের পাশে অবস্থিত, যার উচ্চতা ৪৫১ ফুট। মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ১৪৪ ফুট ও প্রস্থে ১৪৪ ফুট। মসজিদের দেয়ালের টাইলসে পূর্ণ কোরআন শরিফ অঙ্কিত রয়েছে। মসজিদের প্রধান দরজা নির্মাণে ব্যবহার করা হবে ৫০ মণ পিতল। ১৫ বিঘা জমির ওপর বিশাল মসজিদ ও মসজিদ কমপ্লেক্স অবস্থিত। মিহরাবের পাশে মৃতদেহ রাখার জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে। এছাড়া মসজিদের পাশে নির্মাণ করা হবে আলাদা ভবন, যেখানে থাকবে দুঃস্থ নারীদের জন্য বিনামূল্যের হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ