যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি প্রকাশিত “ফিসকাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট ২০২৫”-এ জানিয়েছে, বাংলাদেশ এখনও সরকারি রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ন্যূনতম আন্তর্জাতিক মান পূরণে সক্ষম হয়নি। এ তালিকায় বাংলাদেশসহ ৬৯টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যারা আর্থিক স্বচ্ছতার নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তবে প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে যে, নতুন সরকার এ খাতে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাজেট তৈরি ও অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশে বাংলাদেশের কিছু অগ্রগতি থাকলেও বছর শেষে আর্থিক প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ না হওয়াসহ বেশ কিছু ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া বাজেট দলিলগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি হয়নি এবং সরকারের ব্যয় সম্পর্কিত তথ্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ও মালদ্বীপও একই তালিকায় রয়েছে। ১৩৯টি দেশের মধ্যে ৭১টি দেশ আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মান অর্জন করতে পেরেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কিছু ফলাফল প্রকাশ করলেও তা পূর্ণাঙ্গ নয় এবং প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন নয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন চুক্তি করেছে সেগুলোর তথ্য জনসাধারণের জন্য সীমিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগের প্রশাসনের কিছু প্রকল্প স্থগিত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদের চুক্তি বিষয়ে উন্মুক্ততা বাড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বাজেটে নির্বাহী দপ্তরের ব্যয়ের স্বচ্ছ অন্তর্ভুক্তি
পূর্ণাঙ্গ রাজস্ব ও ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরা
নিরীক্ষা সংস্থাকে স্বাধীন ও দক্ষ করে তোলা
বাজেট ও আর্থিক প্রতিবেদন সময়ে প্রকাশ করা
প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য উন্মুক্ত রাখা
এই প্রতিবেদন মূলত স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।