মুসলিম বিশ্ব শুধু সংস্কৃতি ও সভ্যতায় নয়, সামরিক শক্তিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০ মুসলিম দেশের সামরিক সক্ষমতা, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে জানুন এক নজরে।
সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার (GFP) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ১৪৫টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যেও বেশ কয়েকটি দেশ উল্লেখযোগ্য স্থান অর্জন করেছে।
সংস্থাটির তালিকা অনুযায়ী মুসলিম বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:-
১) তুরস্ক
তুরস্ক ২০২৫ -এর গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ৯ম এবং মুসলিম বিশ্বের মধ্যে শীর্ষে আছে। দেশের বড়-সামরিক শক্তি হলো উন্নত এয়ার ফোর্স (F-16 ডকটরাইন ও স্থানীয় জেট উন্নয়ন), সিনিয়র ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ও স্ট্র্যাটেজিক টার্কি-নেভাল ফোর্স। সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ও ডোমেস্টিক সামরিক উৎপাদন তুরস্ককে দ্রুত আধুনিকায়ন করছে।
২) পাকিস্তান
পাকিস্তান গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ১২তম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয়। এটি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে স্পষ্টভাবে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ; সঙ্গে শক্তিশালী মিসাইল আর্ম, যুদ্ধবিমান এবং সাবমেরিন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।
৩) ইন্দোনেশিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ১৩তম। তবে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় শক্তিধর মুসলিম দেশ। বৃহৎ জনসংখ্যা ও প্রচুর সামরিক জনশক্তি, বিস্তৃত নৌবাহিনী (কমপ্যাক্ট করভেট/পেট্রোল বহর) এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিমান ও নৌ আধুনিকায়নে বরাদ্দ বাড়ানোর নীতি এটিকে শক্তিশালী করেছে।
৪) ইরান
ইরান গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ১৬তম অবস্থানে। মুসলিম বিশ্বের চতুর্থ সামরিক শক্তিধর দেশ। দেশটি গুরুতর জিরো-টু-সোনা প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামে বিনিয়োগ করেছে এবং সাম্প্রতিক বছরে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি ও কেন্দ্রিফিউজ উন্নয়ন-কাজ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে। ফলে ‘প্যারামিটারাল’ পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ ও আলোচনা চলছে।
৫) মিশর
মিশরকে আফ্রিকার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে দেখা হয়। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিং ২০২৫-এ বিশ্বে ১৯তম অবস্থানে আছে। দেশটির নৌবাহিনী, ট্যাংক ও বিমানবাহিনী ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী। বিদেশি অস্ত্র আমদানি ও স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ মিশরকে অঞ্চলীয় শক্তির দিকে ঠেলে রাখে।
৬) সৌদি আরব
সৌদি আরব গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ২৪তম সামরিক শক্তিধর দেশ। দেশটি মুসলিম বিশ্বের ছষ্ঠ সামরিক শক্তিধর দেশ। ব্যাপক প্রতিরক্ষা বাজেট, অত্যাধুনিক বিমান বাহিনী ও সমসাময়িক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে।
৭) আলজেরিয়া
উত্তর আফ্রিকার আলজেরিয়া গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ২৫তম সামরিক শক্তিধর দেশ। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সপ্তম সামরিক শক্তিশালী দেশ এটি। ২০২৪-এ সৈন্যসামর্থ্য ও উচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যয় (হাইড্রোকার্বন আয়ের কারণে) এর শক্তি বাড়িয়েছে। আলজেরিয়ার নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সামর্থ্য উল্লেখযোগ্য।
৮) নাইজেরিয়া
আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ৩১তম। দেশটি মুসলিম বিশ্বে অষ্টম সামরিক শক্তিধর দেশ।
৯) বাংলাদেশ
বাংলাদেশ গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ৩৫তম সামরিক শক্তিশালী দেশ এবং মুসলিম দেশের মধ্যে নবম। “Forces Goal 2030” কৌশল, সাবমেরিন অধিগ্রহণ, নৌবাহিনী ও এয়ারবেস ক্ষমতা বাড়ানো -এসব ধারাবাহিক আধুনিকায়ন দেশের সামরিক প্রোফাইলকে শক্তিশালী করেছে। সক্রিয় সৈন্য সংখ্যা, নৌ ও বিমান উপাদান এবং দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া আইটেমগুলোর কারণে অঞ্চলে বিশ্লেষকরা বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য বলছেন।
১০) মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়া গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে ৪২তম। তবে মুসলিম বিশ্বে সমরিক শক্তিধর দেশের তালিকায় দশম। দেশটি ক্ষুদ্র-মধ্যম আকারের কিন্তু আধুনিকায়িত বাহিনীর ওপর গুরুত্ব, বিশেষত নৌ নিরাপত্তা ও চৌকস টেকনিক্যাল ইউনিট। সাগরপথ রক্ষা এবং আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সামরিক সক্ষমতা রাখে।
সূত্র: গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার রিপোর্ট ২০২৫