ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে গতকাল। তাই সকাল থেকে ঢাকার রাস্তায় ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। এর মধ্যে দুপুরে ভারি বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে।
দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে শুধু রাজধানীতেই ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাধারণত কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারি বৃষ্টিপাত হিসেবে ধরা হয়।
বৃষ্টিপাতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। একই সঙ্গে শুরু হয় যানজট। জলাবদ্ধতা ও যানজটে বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চঘাটের দিকে রওনা হওয়া যাত্রীরা পড়েছিল ভোগান্তিতে। বিশেষত শিশু, নারী ও প্রবীণরা বেশি বিড়ম্বনায় ছিলেন।
প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কসংলগ্ন রাস্তার দুই পাশে ছিল হাঁটুসমান পানি। এতে ভোগান্তিতে পড়ে বাসযাত্রীরা। পানি ভেঙে বাসে উঠতে দেখা গেছে অনেককে। কেউ আবার রিকশার জন্য অপেক্ষায় ছিল। তবে বৃষ্টির কারণে রিকশার সংখ্যাও ছিল সীমিত।
সিদ্দিকুর রহমান চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। পরিবার নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে অপেক্ষা করছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটির আগে শেষ দিনের অফিস হওয়ায় আমি আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে গেছি, যেন পরিবার নিয়ে দিন থাকতেই বাড়িতে পৌঁছাতে পারি। কিন্তু বৃষ্টিতে এখন চরম বিড়ম্বনায় পড়েছি। বাচ্চাসহ পরিবার নিয়ে হাঁটু পানিতে ভিজে গেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বৃষ্টির সুযোগ পেয়ে সিএনজিচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে। সায়েদাবাদ কখন যেতে পারব জানি না।’
গ্রিন রোড, আরামবাগ, রাজারবাগ, নিউমার্কেট এলাকা, মিরপুর কালশী রোড, মিরপুর-১০ নম্বর, কাজীপাড়া এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও এলাকায় গতকাল দুপুরে বৃষ্টির পর পানি জমতে দেখা যায়। এতে কোরবানির গরু কিনে ঘরে ফেরাদেরও বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে।
গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় বৃষ্টি ও যাত্রীদের চাপে যানজট তৈরি হয়। অনেককে ভেজা অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গন্তব্যে রওনা হতে হয়েছে।
এদিকে গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচদিনের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিন সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
পূর্বাভাসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
২৬-২৯ মে পর্যন্ত দেশের প্রায় সব বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় আকাশে মেঘ জমা হয়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাজধানীতেও কোথাও কোথাও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ বৃষ্টিপাত কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী তিনদিন দেশের প্রায় সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। তবে অতিভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কোথাও কোথাও নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।