রাজবাড়ীতে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার মো.মাসুম বিল্লাহকে প্রকাশ্যে ধারালো রাম দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় জিল্লুর রহমান ওরফে লালু (৬০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার জিল্লুর রহমান ওরফে লালু ভাজনচালা এলাকার ফজলুল রহমানের ছেলে। তিনি এই মামলার ২নং আসামি। মামলার ১নং আসামি লালুর ছোট ভাই সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান পলাশ (৫০) পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গত ৭ জুন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারে এফ এন টাওয়ারের আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পার্কিং এ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. মাহবুবুর রহমান পলাশ (৫০) ও তার ভাই জিল্লুর রহমান ওরফে লালু (৬০) ধারালো রামদা দিয়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. ইয়াসিন মন্ডল (৩৮) বাদী হয়ে মাহবুবুর রহমান পলাশ (৫০) ও তার ভাই জিল্লুর রহমান ওরফে লালুকে (৬০) আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগটি থানা আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ড করে।
আহত মাসুম বিল্লাহ যশোর জেলার সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নাটুয়া পাড়া এলাকার মৃত নওশের আলী বিশ্বাসের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭জুন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ব্যাংকের বেজমেন্টে পার্কিং এর স্থানে পলাশ ও লালুর সঙ্গে ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড পিয়াসের কথা কাটাকাটি হয়। এই কথা কাটাকাটির পর লালু দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে গিয়ে পুনরায় তার ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান পলাশকে সঙ্গে করে ব্যাংক ভবনের পার্কিংয়ে ফেরত এসে সিকিউরিটি গার্ড পিয়াসকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। তার চিৎকারে ব্যাংকের ফিল্ড সুপারভাইজার সোহেল রানা এগিয়ে এলে তাকেও কিল-ঘুষি মেরে জখম করে তারা। ফিল্ড অফিসার মো. মাসুম বিল্লাহ গিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে লালু তাকে এলোপাথারি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। তখন পলাশ উত্তেজিত হয়ে একটি ধারালো রামদা নিয়ে পার্কিংয়ের স্থানে এসে মাসুম বিল্লাহকে হত্যার উদ্দ্যেশ্য কুপিয়ে জখম করে। পরে ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মাথায় ১০টি সেলাই লাগে।
রাজবাড়ী আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনায় ব্যাংক থেকে পলাশ ও তার ভাইকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহত ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি এই ব্যাংকে প্রায় ৫ বছর যাবৎ চাকরি করি। পলাশের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্ব নেই। গত ৭ জুন বিকেলে পলাশ ও তার ভাই লালু আমাদের ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড ও আরেক স্টাফকে মারধর করে। আমি ঠেকাতে গেলে পলাশ আমাকে কুপিয়ে জখম করে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের হলে মামলার ২নং আসামি জিল্লুর রহমান ওরফে লালুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল আসামি সাবেক কাউন্সিলর পলাশকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।