1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
রাজমিস্ত্রি থেকে ইউরোপের স্বপ্ন, ভূমধ্যসাগরে অনাহারে প্রাণ গেল যুবকের | ঢাকা আওয়ার
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

রাজমিস্ত্রি থেকে ইউরোপের স্বপ্ন, ভূমধ্যসাগরে অনাহারে প্রাণ গেল যুবকের

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে থাকতে ছিলেন রাজমিস্ত্রি। তার আয়েই চলত পুরো সংসার। একটি সুন্দর ও সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার যুবক মুহিবুর রহমান। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভূমধ্যসাগরের মাঝেই অনাহার ও তৃষ্ণায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুহিবুর রহমান ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল আমিনের ছেলে। তিন ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে মহিবুর ছিলেন সবার বড়।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার বারবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু দালাল তাঁর ‘ভালো–মন্দ’ খবর নিশ্চিত করেনি।

পরে সোমবার (৩০ মার্চ) একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে নিশ্চিত করে। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ আহমদ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। মারুফ আহমদের ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলো মাঝ সমুদ্রেই ফেলে দিতে বাধ্য হন জীবিতরা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবাবারে হাল ধরতে ও ভবিষ্যত সুন্দর করার আশায় দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা গ্রামের দালাল নবীর হোসেনের সঙ্গে চুক্তিতে মুহিবুর সহ কয়েকজন যুবক এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জমান।পরে ঐ চক্র লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে গ্রিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক একই পথে রওনা দেন।

মুহিবুরের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম, পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। ছোট ভাই হাফিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মা মহিমা বেগম শয্যাশায়ী ও বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। বাবা নুরুল আমিন দিশেহারা ছেলের এমন নির্মম পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। তারা দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রা থেকে যুবসমাজকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগেই এই মর্মান্তিক খবরটা শুনলাম। আমি খোঁজ নিচ্ছি এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ