শীত এসেছে, মাঠে মাঠে হলুদ সরিষার ফুল। হলুদ ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে বিস্তৃত প্রকৃতি। এ যেন এক ফুলের রাজ্য, হালকা হাওয়ায় প্রান্ত জুড়ে দোল খাচ্ছে শিশির ভেজা সরিষা ফুলের গাছগুলো। শীতের সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিকি করছে সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুলগুলো। চোখ ধাঁধানো এ দৃশ্য দেখতে দেখতে মনে পড়েই যাবে পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের কবিতা-
দুধারে অথই সরিষার বন
মাঝখান দিয়ে সরু বাঁকা পথখানি,
দোষ নিওনাক ফুলেরা তোমার
ধরিলে আঁচল টানি।

অথবা,
হলুদ বাঁটিছে হলুদ বরণী মেয়ে
রঙিন ঊষার আবছা হাসিতে আকাশ ফেলিল ছেয়ে
মিহি-সুরী গান গুন গুন করে ঘুরিছে হাসিল ঠোঁটে।

মৌমাছিরা গুনগুন শব্দে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ছুটছে। ফুলেরাও যেন মৌমাছিদের জন্যই অপেক্ষা করছে নিজেকে উন্মক্ত করে। বাতাসে মৌ মৌ করছে ফুলের ঘ্রাণ, যেদিকে চোখ যায় দিগন্ত জুড়ে শুধু সোনালি হলুদ সরিষা ফুল। এমন দৃশ্যে আপনার মন ভালো হয়ে যেতে বাধ্য।

ঢাকা থেকে পাটুরিয়া ঘাটের দিকে যেতে মানিকগঞ্জের ঘিওর এলাকায় রাস্তার দুধারে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। এছাড়া রাজবাড়ীর চন্দ্রনী, বালিয়াকান্দী, বাংলাদেশ হাট এলাকাতেও গিয়ে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। অবশ্য শীতে দেশের প্রায় সব অঞ্চলের গ্রাম গঞ্জে গেলেই ছোট বড় মাঠগুলোতে সরিষাফুলের এ সুন্দর দৃশ্যের দেখা পাওয়া যাবে।

সরিষা ফুল:
সরিষা সোনালী হলুদ রঙের ফুল। চারটি পাপড়ির এ ফুলের মধ্যে ছয়টি রেণুদণ্ড থাকে, চারটি বড় ও দুইটি ছোট। সরিষার গাছ সাধারণত এক থেকে তিন ফুট লম্বা হয়। ডালের মাথায় মঞ্জরীতে ফুল ফোটে। সরিষা ফুলের বীজ কালো, তামাটে কালো, সাদা রঙেরও হয়ে থাকে। আমাদের দেশে সাধারণত বীজের জন্যই সরিষার চাষ হয়। সরিষার বীজ থেকে খাবার তেল তৈরি হয়। সরিষার পাতা-ফুলের শাক ও বড়া জনপ্রিয়। এছাড়া সরিষার মধুতে রয়েছে অনেক ওষুধি গুণ।

যে বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন:
১। সরিষা ফুল দেখতে গিয়ে ক্ষেত মাড়াবেন না।
২। মাঠে প্লাস্টিকের বর্জ্য (যেমন-চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল) ফেলবেন না।