1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
সিরিয়ায় আসাদ যুগের অবসান | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

সিরিয়ায় আসাদ যুগের অবসান

ঢাকা অনলাইন ডেস্ক
  • সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

সিরিয়ার দীর্ঘ সময়কার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতন ঘটিয়েছে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা। সিরিয়া থেকে পালিয়া রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত বিমানে রাজধানী দামেস্ক ছেড়ে গতকাল রাশিয়ার মস্কোতে পাড়ি জমান বাশার। ক্রেমলিনের সূত্রের বরাতে রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাশার ও তার পরিবারের সদস্যরা মস্কোয় পৌঁছেছেন।

মানবিক দিক বিবেচনায় রাশিয়া তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে।

সিরিয়ায় আসাদ যুগের অবসানবিদ্রোহীরা বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে থাকবে। আসাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালি বলেছেন, জনগণের নির্বাচিত নেতৃত্বকে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত।

তবে আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটির পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট আসাদের বাসভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে লোকজন। চুরি করে নিয়ে গেছে অনেক সরঞ্জাম। সেখানে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলতে দেখা গেছে অনেককে। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি ভবনে লুটপাট চালানো হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী দামেস্কে কারফিউ জারি করেছে বিদ্রোহীরা। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ থাকবে।
গতকাল রবিবার সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয়, ‘জালিম আসাদ সরকারের পতন হয়েছে। আমরা দামেস্ক শহরকে মুক্ত ঘোষণা করছি।

’ এর মধ্য দিয়ে পাঁচ দশকের একদলীয় শাসনের অবসান হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে। এদিকে এইচটিএসের নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি বলেছেন, ‘পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই এবং ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে।’
আসাদের পতনের পর গতকাল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের সড়কে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা গেছে। বিদ্রোহীদের আকাশে ফাঁকা গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। কেউ কেউ আনন্দে কাঁদছিল, আবার কেউ ‘আল্লাহু আকবর (ঈশ্বর সর্বশ্রেষ্ঠ)’ বলে চিৎকার করছিলেন। কেউ ট্যাংকে উঠে আসাদের পতন উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে বাকিরা আসাদের বাবা হাফিজ আল-আসাদের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে।

দামেস্কের বাসিন্দা আমের বাথা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে আমি এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে পারছি। এই দিনটার জন্য আমরা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছিলাম। আমরা সিরিয়ার জন্য একটি নতুন ইতিহাস রচনা করছি।’

আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনামলকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএস চ্যালেঞ্জ জানানোর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বাশার আল-আসাদ সিরিয়া ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা। তবে আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সামরিক সহায়তা দেওয়া রাশিয়া বলছে, সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর দেশ ছেড়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাশিয়ার দাবি, মস্কো এই আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। সিরিয়ার দেশটির সামরিক ঘাঁটি হুমকির মুখে না থাকলেও সেখানে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সিরিয়ার বিরোধী সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে মস্কো।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বাথ শাসনামলে ৫০ বছরের নিপীড়নের পর এবং ১৩ বছরের অত্যাচার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির পর আজ আমরা এই অন্ধকার সময়ের অবসান এবং সিরিয়ার জন্য একটি নতুন যুগের ঘোষণা করছি।’

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদেল রহমান বলেন, দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে সিরিয়া ত্যাগ করেছেন বাশার। তবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি এএফপি।

এইচটিএস বলেছে, তাদের যোদ্ধারা রাজধানীর উপকণ্ঠের একটি কারাগারের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্য দিয়ে সেদনায়া কারাগারের নিপীড়নের সমাপ্তি ঘোষণা করা হলো। এই কারাগারেই আসাদের আমলে হাজার হাজার বিরোধীকে বন্দি করা হয়েছিল।

রাজধানী দামেস্ক দখলের আগে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর হোমস দখল করে বিদ্রোহীরা। তবে বিদ্রোহীদের হোমস শহরে প্রবেশের কথা অস্বীকার করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তখন দাবি করে, হোমসের পরিস্থিতি নিরাপদ ও স্থিতিশীল।

হোমস শহর রাজধানী দামেস্ক থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে। গত ২৭ নভেম্বর বিদ্রোহীরা অগ্রযাত্রা শুরু করার পর দেশটির তৃতীয় বৃহৎ শহর হোমস দখলে নেয় বিদ্রোহীরা।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে আসাদকে সমর্থন দিয়ে আসা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা এরই মধ্যে দামেস্ক থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের দূতাবাসে হামলা

গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বলেছে, দামেস্কে ইরানের দূতাবাসে হামলা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের হামলা চালাতে দেখা গেছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস জানিয়েছে, হামলার আগে দূতাবাস ছেড়ে চলে যান ইরানি কূটনীতিকরা। দূতাবাসের সব কর্মী নিরাপদে আছেন। হামলার জন্য বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে ইরান।

এদিকে দামেস্কে ইতালির রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে সশস্ত্র গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। তিনি বলেন, রবিবার সকালে রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুপ্রবেশ করে তিনটি গাড়ি লুটে চলে যায়। তবে কাউকে আঘাত করা হয়নি।

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

আসাদের পতনের পর শিগগির সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিং সিরিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, আসাদ সরকারের পতন আকস্মিক নয়, বরং গৃহযুদ্ধের ফল।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি নজরে রেখেছেন বিদায়ি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আসাদ চলে গেছেন। আসাদের রক্ষক ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়া তাকে আর রক্ষা করতে ইচ্ছুক না।’

ইউক্রেন বলেছে, যেসব কর্তৃত্ববাদী মস্কোর ওপর নির্ভরশীল, তাদের পতন অনিবার্য।

আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় জাতীয় ঐক্য ও পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে মিসর। এদিকে সিরিয়ার জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।

এদিকে ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্তের গোলান মালভূমির একটি বাফার জোন দখল করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সূত্র : এএফপি, বিবিসি

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ