1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
হাওয়া ভবন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের রহস্যময় অধ্যায় | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

হাওয়া ভবন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের রহস্যময় অধ্যায়

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
হাওয়া ভবন

হাওয়া ভবন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক রহস্যময় অধ্যায়। হাওয়া ভবন নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য। বিতর্ক রয়েছে এই নিয়ে যে- হাওয়া ভবন ‘বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র’ নাকি ‘দুর্নীতির আখড়া’ ছিল। কেউ কেউ বলে থাকেন হাওয়া ভবনকে রাজনৈতিক কারণে ‘অতিরঞ্জিত’ করা হয়েছে, যা শোনা যায় তার বেশির ভাগই গুজব।

হাওয়া ভবন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় ছিল। বাড়িটির মালিক ছিলেন লন্ডনপ্রবাসী সিলেটি ব্যবসায়ী আসেক আহমেদ। তিনি ১৯৯৪ সালে শিল্প ব্যাংকের সাবেক জিএম নুরুল হুদার কাছ থেকে সাড়ে ৫ কাঠার ওপর গড়া বাড়িটি কেনেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে বনানী ১৩ নম্বর রোডের এই বাড়িটি আসেক আহমেদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়।

কেন ‘হাওয়া ভবন’ এত আলোচিত?
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এটি বাংলাদেশে ‘বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র’ হিসাবে আবির্ভূত হয়। তবে ২০০৮ পরবর্তী হাওয়া ভবন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা নিয়ে। অভিযোগ আছে, হাওয়া ভবনেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হয়। আওয়ামী লীগের জনসভায় করা ওই হামলায় ২৪ জন নিহত হয় এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৩০০ জন আহত হয়।
এছাড়া হাওয়া ভবনে সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের যাতায়াত ছিল। অভিযোগ আছে, এখান থেকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রচার, নিয়োগ, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি প্রশাসনিক বিষয় পরিচালনা করা হতো।
হাওয়া ভবনকে দুর্নীতির আখড়া বলে অভিযোগ করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, এই ভবন থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো এবং দুর্নীতির জাল বিস্তার করা হতো। ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি প্রতীক হিসেবেও হাওয়া ভবনকে দেখা হয়। অভিযোগ উঠে যে, এই ভবন থেকেই সরকারের বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা হতো এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও প্রভাবিত করা হতো। বিরোধীরা হাওয়া ভবনকে সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগের কেন্দ্র বলেও অভিযোগ করে থাকে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা এই ভবনেই করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক সংকট সৃষ্টির পেছনে হাওয়া ভবনের যোগসূত্র রয়েছে বলে ধরা হয়।

দুর্নীতির আখড়া
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা, বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতা এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণাধীন হাওয়া ভবনকে বাংলাদেশের ‘ক্ষমতার বিকল্প পাওয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তারেক রহমান এবং তার দুর্নীতিগ্রস্ত সহযোগীরা ‘হাওয়া ভবন’কে বিকল্প ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে ব্যবহার করেন। যেখান থেকে দেশ পরিচালনা ও আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
২০০৫ সালে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে উল্লেখ করে। বিএনপি সরকারের ওই মেয়াদকালে, সরকারি দুর্নীতিকে দায়ী করে বিশ্বব্যাংক তাদের তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল বাতিল করে।

সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি হান্নান, মাওলানা আব্দুর রউফ ও আব্দুল মাজেদ ভাট প্রথমে মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদে বসে সিদ্ধান্তে আসেন, তাদের ‘প্রধান বাধা’ আওয়ামী লীগ, বিশেষ করে এর প্রধান শেখ হাসিনা। তারা মুরাদনগরের এমপি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সহযোগিতায় ২০০৪ সালের প্রথম দিকে হাওয়া ভবনে গিয়ে মামলার অন্যতম আসামি তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তারা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যাসহ বিভিন্ন অপারেশন চালানোর জন্য সহযোগিতা চান। তারেক রহমান উপস্থিত সবার সামনে তাদের কাজকর্মে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ‘রাজনৈতিক সন্ত্রাস’ –এর মূল পরিকল্পনা হয় হাওয়া ভবন থেকে বলে অভিযোগ আছে।

আত্মপক্ষ সমর্থন
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা দাবি করেছেন, মূলত তারেক রহমানের নেতৃত্বে হাওয়া ভবনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের পেছনে হাওয়া ভবনের ভূমিকা ছিল। ওয়ান ইলেভেনের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ সীদ্ধান্ত হাওয়া ভবন থেকেই আসত। তবে, হাওয়া ভবন -এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতার সব অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। বিএনপি নেতারা মনে করেন, হাওয়া ভবন ও তারেক রহমান সম্পর্কে যে কথাগুলো বিরোধীরা বলে থাকে তা রাজনৈতিক অপপ্রচারের অংশ। কোনো প্রমাণ বা নথি কিছুই নেই।
বিএনপির কার্যনির্বাহী পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নিয়মিত ‘হাওয়া ভবন’ অফিসে যেতেন। তবে এই অফিসে অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু ঘটেনি। তার দাবি, ‘এটা মিডিয়ার সৃষ্টি… যারা বিএনপিকে অপছন্দ করে, এটা তাদের অপপ্রচার। এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই।’

সেই ‘হাওয়া ভবন’ এখন ‘অ্যাজোরা’ নামক বহুতল ভবন

হাওয়া ভবনের বর্তমান অবস্থা
ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে তারেক রহমান গ্রেপ্তার হলে হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত সেই ‘হাওয়া ভবন’ এখন ‘অ্যাজোরা’ নামক বহুতল ভবন। ২০১১ সালে হাওয়া ভবন ভেঙে ফেলা হয়। একটি বেসরকারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হাওয়া ভবনের জায়গায় ‘অ্যাজোরা’ নামে একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছে। নিরিবিলি এলাকার এই ভবনটি এখন দেশি-বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন ভবন মালিক।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ