ফ্রান্সের বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ। হেফাজতে ইসলামের দূতাবাস ঘেরাও মিছিল রাজধানীর শান্তিনগর পৌঁছালে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। এ সময় হেফাজত নেতারা শান্তিনগরে মোনাজতের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন। সমাপনি বক্তব্যে হেফাজতের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফ্রান্স দূতাবাস বন্ধ করতে হবে। না হলে আন্দোলন চলবে।
এর আগে পূর্ব ঘোষিত এ ঘেরাও কর্মসূচি সফল করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার হাজার হাজার নেতাকর্মী এ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে। ফজর নামাজের পর থেকেই নেতাকর্মীরা বাইতুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এসে জমায়েত হতে থাকে। সেখানে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আজ (সোমবার) সকাল ১২ টায় ফ্রান্স দূতাবাস অভিমুখে যাত্রা শুরু করে হেফাজত নেতাকর্মীর। নেতাকর্মীরা ধারণা করছে ২০১৩ সালের পর এটাই হেফাজতে ইসলামের সবচেয়ে বড় জমায়েত হতে চলেছে।
ফ্রান্সে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর ব্যঙ্গচিত্র আঁকা, প্রদর্শন ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী এমানুয়েল মাক্রোঁর মুসলিম বিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে ফ্রান্স দুতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলাম। গত শুক্রবার দুতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।
হেফাজতে ইসলামের ঘেরাও কর্মসূচির প্রধান অতিথি ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবু নগরী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। ঘেরাও কর্মসূচির সভাপতিত্ব করছেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহনগরী শাখার আমির আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। সমাবেশ স্থলে নূর হোসাইন কাসেমীও এসে উপস্থিত হয়েছেন।
বাইতুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে নেতাকর্মীদের বক্তব্য চলছে। নেতাদের অভিযোগ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের পথে পথে বাধা দেওয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন, সকল বাধা উপেক্ষা করে সম্প্রতিকালের সবচেয়ে বড় জমায়েত হবে এ কর্মসূচিতে।
বক্তারা বলেন, পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আজকের কর্মসূচি সফল করা হবে। ‘তবে আইনশৃংখলা বাহিনীকে অনুরোধ করছি আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না। কোনো ভাবেই কর্মসূচিকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হলে তা কারও জন্যই ভালো হবে না।’
কর্মসূচিতে উপস্থিত আছেন, আল্লামা জুনায়েদ বাবু নগরী, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, মওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মওলানা মামুনুল হক প্রমূখ।
এদিকে ফ্রান্সের এমন কর্মকাণ্ডে সারা বিশ্বেই মুসলিমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছে। মুসলিম দেশের নেতারা ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়া বিশ্বের সকল মুসলিম দেশগুলোতে চলছে ফ্রান্সের পণ্য বয়কট। আরব দেশগুলোতে ব্যপক আকারে পণ্য বয়কট করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে প্রতিবাদ ও ফ্রান্স বিরোধী হ্যাশট্যাগ ব্যবহার।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, কাতার, সুদানসহ বিভিন্ন দেশে ফ্রান্স বিরোধী জরালো কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এছাড়া রাশিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যর নিন্দা জানানো হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, ‘মুসলিমদের অনুভুতি আমি বুঝতে পেরেছি। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর বঙ্গচিত্র প্রদর্শনের সঙ্গে সরকার যুক্ত নয়।’
মাক্রোঁর এমন মন্তব্য তার আগের জায়গা থেকে সরে আসা হিসেবেই দেখছে মুসলিম বিশ্ব।