1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
কাওয়ালি অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে জানা জরুরি পাঁচটি বিষয় | ঢাকা আওয়ার
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল আফগানিস্তান এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা পরীমণি ইস্যুতে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম চলছে, দিল্লিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি দেশের সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে : শিক্ষামন্ত্রী ঢাকার ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান রাজধানীর বাস টার্মিনাল সরানোর পরিকল্পনা সরকারের : সেতু মন্ত্রী কাঁঠাল দিয়ে হচ্ছে সিঙ্গারা-সমুচা-কাবাব, পুষ্টিগুণও অনেক বেশি: কৃষিমন্ত্রী

কাওয়ালি অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে জানা জরুরি পাঁচটি বিষয়

সারোয়ার
  • মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সারাদেশে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাওয়ালি অনুষ্ঠান জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিভিন্ন কারণে প্রতিবাদের সাংস্কৃতিক রুপ হিসেবে সামনে আসছে কাওয়ালি। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাওয়ালি ছড়িয়ে পড়েতে দেখা যাচ্ছে। এর আগে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাওয়ালি অনুষ্ঠানে হামলা করে ছাত্রলীগ। সেটাই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবার কাওয়ালি আয়োজন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাওয়ালি আয়োজন করেন। ধারণা করা হয় সেই ঘটনাই কাওয়ালিকে প্রতিবাদের সাংস্কৃতিক রুপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

কাওয়ালি অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছুটা জানা থাকা দরকার। এতে আপনার মানুষিক ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে। যে কোনো বিষয়ে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে সে বিষয়ে কিছুটা ধারণা নিয়ে গেলে খাপ খাওয়াতে এবং নিজেকে উপস্থাপন করা সহজ হয়।

বকশীবাজারের আগেরভি শরীফের কাওয়ালির আসর

১। কাওয়ালি
চিশতিয়া তরিকার সুফি সাধক আমির খসরু পার্সিয়ান, আরবি, তুর্কি এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের মিশ্রণ ঘটিয়ে প্রথম কাওয়ালি সঙ্গীত তৈরি করেন। মধ্য এশিয়া ও তুরস্কে এ সঙ্গীতকে ‘সামা’ বলা হয়। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে কাওয়ালি সঙ্গীতের অনুষ্ঠানকে বলা হয় ‘মেহফিল-ই-সামা’।
কাওয়ালি সুফি ইসলামী ভক্তিমূলক সঙ্গীতের একটি ধরণ। আধ্যাত্মিকতার সাথে মিশে তৈরি হওয়া সাংস্কৃতি। এ ধরণের সঙ্গীত শুরুতে সুফি মাজারগুলোতে পরিবেশিত হতো। গায়কী শৈলীর দিক থেকে বাংলা বাউল সঙ্গীতের সঙ্গে কাওয়ালির অনেক মিল পাওয়া যায়।
কাওয়ালির মূল বিষয়বস্তু হলো প্রেম, ভক্তি এবং আল্লাহর প্রতি আকাঙ্ক্ষা। কাওয়ালি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া যেসব সুফি কবিদের কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা দুনিয়াবি চিত্র ব্যবহার করে আধ্যাত্মিক প্রেমের মর্ম বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

২। জনপ্রিয় কয়েকজন কাওয়াল
কাওয়ালি গানের শিল্পীদের ‘কাওয়াল’ বলা হয়। বিভিন্ন সুফি মাজার বা দরবারে বংশানুক্রমিকভাবে কাওয়ালরা ঐতিহ্যবাহী ও ভক্তিমূলক পরিবেশে কাওয়ালি পরিবেশন অব্যাহত রেখেছেন। তারাই মূলত এ সঙ্গীতের মূল ধারা। তবে জনপ্রিয় কয়েকজন কাওয়াল আছেন, যারা আধুনিক কাওয়ালিকে আন্তজাতিকভাবে পরিচিত করাতে ভূমিকা রেখেছেন।
যেমন- নুসরাত ফতেহ আলী খান, আজিজ মিয়া, সাবরি ব্রাদার্সের, ফরিদ আয়াজ, আবু মুহাম্মদ, রাহাত ফতেহ আলী খান, বদর মিয়াঁদাদ, রিজওয়ান, মোয়াজ্জম যুগল, কুত্বি ব্রাদার্স, আমজাদ সাবরি, ওয়াদালি ব্রাদার্স, নিজামী বান্ধু, বাহাউদ্দিন কুতুবুদ্দিন, আজিজ নাজা।

৩। বাংলাদেশে কাওয়ালি
ঢাকার নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে বহু সুফির মাজার। বাংলার সুফীগণ অধিকাংশই চিশতিয়া তরীকার অনুসারি। চিশতিয়া দরবারের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল কাওয়ালি। সে হিসাবে এসব মাজারেও কয়েক শতক ধরে কাওয়ালি সংঙ্গীত প্রচলিত আছে। আবার, ঢাকার নবাবদের বিনোদনের অন্যতম উৎস ছিল কাওয়ালি। শুরুতে নবাবের অনুরোধে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাওয়ালরা বাংলাতে আসতেন। নবাবরা তখন কাওয়ালির ভক্ত হয়ে যান। ঢাকার লোকজন তখন কাওয়ালি চর্চা শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঢাকার কাওয়ালগণও নবাবদের আসরে কাওয়ালি পরিবেশনের সুযোগ পান। নবাবরা নানা সময় কাওয়ালদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। এভাবে, ঢাকার সংস্কৃতির ইতিহাসে কাওয়ালি বিশেষ জায়গা দখল করে নেয়।
ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন কাওয়াল মোহাম্মদ নাদীম এহতেশাম রেজা খাঁ। তিনি নাদীম কাওয়াল নামেই পরিচিত। বর্তমান ঢাকায় কাওয়ালি চর্চার প্রধানপুরুষ বলা যায় তাকে। তার দাবি, বাংলাদেশে কাওয়াল সংঙ্গীতের প্রবেশ তার পূর্বপুরুষদের হাত ধরেই।

কাওয়ালি পরিবেশন করছেন নুসরাত ফাতেহ আলী খান

৪। কাওয়ালি অনুষ্ঠানে আপনার ভূমিকা
হাততালি, শরীর দোলানো, কণ্ঠ মিলিয়ে একসঙ্গে গাওয়া সবই কাওয়ালি নাইটের অংশ। পরিশুদ্ধ অন্তরে কাওয়ালি নাইটের পরিবেশ ও গানের আদ্ধাতিকতা আপনার মধ্যে মাদকতা তৈরি করতে পারে। চেষ্টা করতে হবে নিজেকে মানুষিকভাবে অনুষ্ঠানের মধ্যে রাখতে। কাওয়ালি সঙ্গীত উপভোগ করতে হবে। সঙ্গীতের সঙ্গে আপনার তাল দেওয়া পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তুলবে।

৫। ধর্মীয় বিধিনিষেধ
প্রথমদিকে, কাওয়ালিতে সঙ্গীতযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। তখন কাওয়ালি গ্রহণযোগ্য হওয়ার কিছু শর্ত ছিল। গায়ক হতে হবে প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু ও মহিলা নয়। শ্রোতাকে কেবল আল্লাহর স্মরণে সমস্ত কিছু শুনতে হবে। গাওয়া শব্দগুলি অশ্লীলতা এবং অশালীন হওয়া যাবে না।নিজামুদ্দিন আউলিয়া, যিনি বিখ্যাত সুফি গায়ক আমির খসরুর শিক্ষক ছিলেন, তিনিও সঙ্গীতযন্ত্রের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট ছিলেন।
সঙ্গীতযন্ত্র হারাম।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ