1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
সাংবাদিকের লালসার শিকার তরুণী | ঢাকা আওয়ার
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

সাংবাদিকের লালসার শিকার তরুণী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫

অল্প বয়সে বিয়ের পর বিচ্ছেদ ঘটলেও ভালোই চলছিল তরুণীর। কিন্তু সেটাও অবশিষ্ট নেই। কারণ, সরলতা আর অসহায়ত্বের সুযোগে লালসার শিকার হন এক সাংবাদিকের। সাংবাদিকের লালসার শিকার হয়ে এখন বিচারের জন্য আদালত আর মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু কোথাও পাচ্ছেন না কোনো প্রতিকার। বিচারহীনতার চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ভুক্তভোগী তরুণীর।

অভিযুক্ত সাংবাদিক দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের পাবনা প্রতিনিধি সৈকত আফরোজ আসাদ। আসাদ পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চান্দাই গ্রামের আশরাফ হোসেনের ছেলে এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি সময় টিভি ও দেশ টিভির পাবনা প্রতিনিধি ছিলেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্বশুরবাড়ি পাবনায় হওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনায় সাংবাদিক আসাদের দ্বারস্থ হন ওই তরুণী। আসাদ অবিবাহিত পরিচয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তরুণী ঢাকায় থাকাবস্থায় তার সরলতা আর অসহায়ত্বের সুযোগে কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতায় ভুয়া কাজী ও ভুয়া কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন এবং শারীরিক সম্পর্কে জড়ান আসাদ। একপর্যায়ে গর্ভবতী হয়ে পড়লে কাবিন এবং স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করেন ওই তরুণী। এতে ক্ষিপ্ত হন আসাদ। ধরা পড়ে ‍ভুয়া কাবিনের বিষয়টি। সুকৌশলে ঢাকার একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করিয়ে বাচ্চা নষ্ট করেন আসাদ। এরপর থেকেই সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভ্রুণ হত্যার মামলা করেন তরুণী। সেই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও ক্ষমতার দাপটে চলাচল করতেন আসাদ।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাংবাদিক আসাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পাবনায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের কিছু নেতার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন আসাদ। পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় প্রেসক্লাবের নামেই মেলা বসিয়ে লটারির জুয়া দিয়ে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন। প্রেসক্লাবের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করে হিসাব দিতে ব্যর্থ হন। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের খাবারের দায়িত্ব নিয়েও অনেক টাকা আত্মসাত করেন। এটিএন নিউজের পাবনা প্রতিনিধি রিজভী জয়সহ কট্টর আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলেন। অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে গণপূর্ত এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ফাঁসিয়েছেন তারা। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সময় টিভি ও দেশ টিভির চাকরি চলে গেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে ঢাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়ে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। আমার বাচ্চাকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আদালত, ঢাকার মিডিয়া প্রতিষ্ঠান, পাবনা প্রেসক্লাব, পরিবার কোথাও গিয়ে প্রতিকার পাচ্ছি না। উল্টো আমিই প্রতিনিয়ত হুমকি পাচ্ছি। এখন কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। এভাবে একটা মেয়ে বেঁচে থাকতে পারে? আমার সামনে আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ দেখতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাংবাদিক সৈকত আফরোজ আসাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ