গোপালগঞ্জে জাতীয়তাবাদী নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর গাড়িবহরে এক নির্মম হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মুহূর্তেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলার সদর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মওলানা কামরুজ্জামান একটি রাজনৈতিক সভায় যোগ দিতে গাড়িবহর নিয়ে জেলা শহরের দিকে আসছিলেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল আরোহী মুখোশধারী যুবক হঠাৎ করেই গাড়িবহরের উপর ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা বহরের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সামনে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ:
খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টার অভিযানের পর এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, “হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, এনসিপির মহাসচিব ফারুক হোসেন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সরকারি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতে এই হামলা চালিয়েছে। এটা শুধু এনসিপির উপর নয়, দেশের জনগণের উপর হামলা।” তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন। তারা এটিকে একটি ‘ভিত্তিহীন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যায়িত করেন।
চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা জোরদার ঘটনার পর গোপালগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগেই বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এনসিপির উপর হামলা গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে