1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
যে পেক্ষাপটে গঠিত হয়েছিল বিএনপি | ঢাকা আওয়ার
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

যে পেক্ষাপটে গঠিত হয়েছিল বিএনপি

শহিদুল ইসলাম
  • মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। এর জন্ম হয়েছিল এক বিশেষ রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যখন দেশ এক নতুন স্বাধীনতা-উত্তর সংকটকাল অতিক্রম করছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়টি ছিল চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং সাংবিধানিক দ্বন্দ্বে পরিপূর্ণ। এই পটভূমিতেই গড়ে ওঠে বিএনপি, যার সূচনা হয়েছিল মূলত একটি বিকল্প রাজনৈতিক ধারা ও জাতীয়তাবাদের নতুন ব্যাখ্যার মাধ্যমে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ মোড় নেয়। এরপর একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে দেশ অস্থির হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক বৈধতা ও জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য প্রয়োজন ছিল একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক দলের। এই ভাবনা থেকেই ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বিএনপি গঠনের পেছনে অন্যতম মূল কারণ ছিল মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের একক রাজনৈতিক আধিপত্যের বিকল্প সৃষ্টি করা। আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) ও কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের মধ্যে যে অসন্তোষ জন্ম নিচ্ছিল, সেই অসন্তোষকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার কৌশল হিসেবেই বিএনপির জন্ম।

বিএনপির মূল আদর্শ ও দর্শন ছিল ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ -যা ছিল পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পাল্টা ধারণা। জিয়াউর রহমান এই মতবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন যেখানে ধর্মীয় সহনশীলতা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তার মতে, ‘বাঙালি’ পরিচয়ের বদলে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং এর মাধ্যমে দেশের সকল জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মাবলম্বীদের এক ছাতার নিচে আনা সম্ভব।

অন্যদিকে, তৎকালীন সময়ে দেশে বিরাজ করছিল অর্থনৈতিক দুর্দশা, দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি। সাধারণ জনগণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছিল। এই পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ, রাষ্ট্রবাদী এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা তুলনামূলকভাবে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করে।

১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে, যা প্রমাণ করে যে জনসাধারণের একটি বড় অংশ এই নতুন দলটিকে স্বাগত জানিয়েছে। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর এবং জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যদিও ১৯৮১ সালে তাঁর হত্যাকাণ্ড দলটির জন্য এক বড় ধাক্কা ছিল, তবে বিএনপি পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) -এর জন্ম এক জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে হয়েছিল, যেখানে দেশের মানুষ পরিবর্তন ও বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধানে ছিল। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলটি যে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ভিত্তি রচনা করেছিল, তা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করে। বিএনপির জন্ম কেবল একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ নয়, বরং তা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের প্রতীক।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ