1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
ঈদযাত্রা শুরু, ঢাকা ছাড়বে দেড় কোটি মানুষ | ঢাকা আওয়ার
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

ঈদযাত্রা শুরু, ঢাকা ছাড়বে দেড় কোটি মানুষ

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

এ ট্রেনের যাত্রার মধ্য দিয়ে রেলপথে শুরু হবে এবারের ঈদযাত্রা। এরপর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস, সকাল ৭টায় চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসসহ পর্যায়ক্রমে দিনের অন্য ট্রেনগুলো ছেড়ে যাবে। রেলপথের মতো সড়ক, নৌ ও আকাশপথেও আজ শুরু হচ্ছে ঈদযাত্রা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ বছর প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে মন্ত্রণালয়গুলো এবার বেশি তৎপর থাকবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

ঈদে যাতায়াতে ঘরমুখো মানুষের পছন্দের শীর্ষে থাকে রেল। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিদিন গড়ে দেড়-দুই লাখ টিকিট ইস্যু করলেও ঈদের সময় যাত্রীদের চাহিদা অন্তত ১০ গুণ বেড়ে যায়। এ বিশাল চাপ সামলাতে প্রতি বছরের মতো এবারো বাড়তি কোচ সংযোজনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে সংস্থাটি। এবার ঈদ উপলক্ষে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে রেল। এর মধ্যে তিন জোড়া ট্রেন চলাচল করবে ঈদের আগে ও পরে। শুধু ঈদের দিন চলাচল করবে বাকি দুই জোড়া ট্রেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের মতোই ঈদের ট্রেনগুলো নির্ধারিত আসনের ২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করা হবে। তবে আসনবিহীন টিকিটধারী কোনো যাত্রীকে এসি কামরা কিংবা প্রথম শ্রেণীর আসনে ভ্রমণ করতে দেয়া হবে না। এছাড়া টিকিটবিহীন যাত্রী শনাক্তকরণ, টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। টিকিটবিহীন কোনো যাত্রী বিশেষ করে কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনের প্লাটফর্মে যেন প্রবেশ করতে না পারে সেজন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ঈদযাত্রার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হলো ঈদের ট্রেনগুলো সময়সূচি অনুযায়ী নিরাপদে পরিচালনা করা। যদিও আমাদের মিটার গেজ লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) সংকট রয়েছে। এ সংকট পূর্বাঞ্চলে ট্রেন পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ কিছুটা তৈরি করতে পারে।’

ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের সবচেয়ে বড় অংশ যাতায়াত করে সড়কপথে। সড়কপথে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদ সামনে রেখে জাতীয় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলো এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব টার্মিনালকে বিআরটিএ ও পুলিশের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। সড়কের পাশে অস্থায়ী ও ভাসমান বাজার অপসারণ এবং পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এবার ঈদযাত্রায় দেশের সড়ক-মহাসড়কের ২০৭টি স্পটে যানজটের আশঙ্কা করছে হাইওয়ে পুলিশ। চিহ্নিত ২০৭ স্পটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৫টি পয়েন্ট রয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি করে, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে নয়টি এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কে ছয়টি স্পটকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্পটে বাড়তি নজরদারির কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

ঈদের সময় দেশের বড় সেতুগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন সরকারের সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তিনি বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথে সেতুর উভয় প্রান্তে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেম অর্থাৎ ইটিসি টোল বুথ চালু রয়েছে। সেতু বিভাগের আওতাধীন সব সেতু/স্থাপনায় সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোর ট্র্যাফিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি এবং মনিটর করা হচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ এর আগে সাতদিন ও পরে পাঁচদিন সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও রেশনিং করে জ্বালানি সরবরাহ করায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ পরিবহনসেবা দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কটি যানজটমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, যাত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক পুলিশ, নৌ-পুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। নৌ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বালিবাহী বাল্কহেড ও ডিঙি নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৭ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ব্যতীত সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ