ভারতের শ্রমবাজারে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটিতে সন্তান জন্মদানের পর বেশিরভাগ নারী চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলেও সংসার জীবনে তারা ঝরে পড়ছেন। বুধবার (১৭ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অশোকা ইউনিভার্সিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ৭৩ শতাংশ নারী সন্তান জন্মদানের পর চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর আবার তারা কাজে ফিরতে হিমশিম খান। দেশটিতে এরপরও কাজে ফেরা নারীদের ৪৮ শতাংশ চার মাসের মধ্যেই আবার চাকরি ছেড়ে দেন।
ভারতের শ্রমবাজারে এমনিতেই দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। তার উপর এ ধরনের সংকট নিয়োগকারীদের জন্য বড় সংকটের দেরি করেছে। এতে করে অভিজ্ঞ কর্মী, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং প্রশিক্ষণের পেছনে ব্যয় করা দীর্ঘ সময়ের বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা দ্য বেনিয়ানের পরিচালক স্বাতী জৈন বলেন, চাইল্ডকেয়ার এখন আর কেবল পারিবারিক বিষয় নয়। এটি এখন অর্থনৈতিক এবং শ্রমশক্তির ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
ভারতে বর্তমানে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের হার ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু দেখভালের দায়িত্ব এবং নির্ভরযোগ্য চাইল্ডকেয়ার সহায়তার অভাব এখন নারীদের ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে প্রায় অর্ধেক নারী ৩০ বছরের আগেই কর্মজীবন থেকে ছিটকে পড়েন। এর প্রধান কারণ হিসেবে শিশু লালন-পালনের দায়িত্বকে উল্লেখ করা হয়েছে।
কো-ওয়ার্কজেনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশাল দত্ত ওয়াধওয়া বলেন, নারীরা কাজ করতে চান বলে আমরা তাদের হারাচ্ছি ব্যাপারটা এমন নয়। আমাদের সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে নারীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ যাতায়াত পথ, অনির্ভরযোগ্য চাইল্ডকেয়ার ব্যবস্থা এবং পুরোনো ধাঁচের অফিস সময়সূচি নারীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করে। এভাবে চাপ আর আপোসের মধ্যে চলতে চলতে তারা একসময় নিজেদের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হন।
তিনি আরও বলেন, অফিসের জায়গার মতোই চাইল্ডকেয়ার সহায়তাকে একটি মৌলিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নারীদের জন্য যাতায়াতের সময় কমানো এবং পরিবারের কাছাকাছি থেকে কাজের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
সূত্র: এনডিটিভি