1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর: শামা ওবায়েদ | ঢাকা আওয়ার
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর: শামা ওবায়েদ

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা আদর্শিক কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়া যায় না। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বরাবরই শক্ত অবস্থানে। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর হামলায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীতে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সরকারি বাসভবনে হোলি আর্টিজান বেকারি সন্ত্রাসী হামলার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে স্মরণসভা আয়োজন করে ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাস। স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হামলার ১০ বছর পার হয়ে গেছে। এটি ছিল দেশের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। এমন হামলা যেন আর না ঘটে। সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না। বাংলাদেশ কাউকেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দেবে না

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজান হামলা ছিল বাংলাদেশের সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার ওপর একটি পরিকল্পিত আঘাত। কিন্তু বাংলাদেশ ঐক্য ও দৃঢ়তার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। গত এক দশকে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নারী-যুবসমাজ, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সন্ত্রাসবাদ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

এসময় ঢাকাস্থ জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্জন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ১০ বছর আগে সংঘটিত সেই হামলায় অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। নিহত ইতালীয়রা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। আর জাপানি নাগরিকরা জাইকার উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছিলেন, যার অবদান আজও বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান। নিহতরা বিভিন্ন দেশের হলেও অধিকাংশই ছিলেন তরুণ, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় মানুষ। তাদের স্মরণ করা মানে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নকে স্মরণ করা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহতদের স্বজন এবং হলি আর্টিজানে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরা জিম্মিরা। মর্মান্তিক এ ঘটনার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শোক অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংহতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

ইতালির রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলার বার্তা পাঠ করে শোনান। বার্তায় রাষ্ট্রপতি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, কিন্তু তার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সংহতি আরো শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নিরাপদ, উন্মুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, হলি আর্টিজানের দশম বার্ষিকীতে সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত—‘নেভার অ্যাগেইন’ বা এমন ঘটনা আর কখনো ঘটতে দেওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান অ্যালবার্ট সিয়া, বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিহতদের পরিবারের সদস্য, হামলা থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন জিম্মি এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় ২২ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ৯ জন ইতালির নাগরিক, ৭ জন জাপানের নাগরিক, ১ জন ভারতের নাগরিক, পুলিশসহ ৩ জন বাংলাদেশের নাগরিক।

এর মধ্যে একজন বাংলাদেশি বংশ্মভূত আমেরিকান নাগরিক ছিলেন। এ হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীরভাবে শোকাহত করেছিল। ১০ বছর পরও, নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয় এ স্মরণসভায়।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ