1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
আদর্শকে হত্যা করা যায় না: ট্রাম্পের ‘এক শটেই সবাইকে শেষ করা যেত’ মন্তব্যের জবাবে ইরান | ঢাকা আওয়ার
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

আদর্শকে হত্যা করা যায় না: ট্রাম্পের ‘এক শটেই সবাইকে শেষ করা যেত’ মন্তব্যের জবাবে ইরান

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

তেহরানে খামেনির জানাজায় মানুষের বিশাল সমাগমকে একটি সামরিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওরা সবাই সেখানে আছে। এক নিশানাতেই [আমরা ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারতাম], কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ তাহলে আমাদের সাথে আলোচনা করার মতো কেউ থাকবে না।”

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্ব দিয়ে আসা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন। ছবি: এএফপি

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় উপস্থিত দেশটির শীর্ষ নেতাদের ‘এক নিশানায়’ শেষ করে দেওয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরান বলেছে, আমেরিকার ‘না আছে কোনো সভ্যতা, না আছে ইতিহাস’।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান পরিচালনা করে আসছিলেন। রোববার তাঁর জানাজায় বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বাদে তাঁর অন্য তিন ছেলেসহ শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে অংশ নেন।

ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত মন্তব্য

তেহরানে খামেনির জানাজায় মানুষের বিশাল সমাগমকে একটি সামরিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওরা সবাই সেখানে আছে। এক নিশানাতেই [আমরা ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারতাম], কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ তাহলে আমাদের সাথে আলোচনা করার মতো কেউ থাকবে না।”

ট্রাম্প আরও বলেন, খামেনির মৃত্যুতে এত মানুষের শোক প্রকাশ দেখে তিনি অবাক হয়েছেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন অনেক ইরানিই তাঁর বিরোধী ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, ‘হয়তো ওগুলো সব ভুয়া চোখের পানি।’

ইরানের পাল্টা জবাব

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট দেয়। সেখানে বলা হয়, গত ৪ জুলাই স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন করা আমেরিকার পক্ষে খামেনির জন্য এই গণশোক বোঝা সম্ভব নয়। কারণ তাদের ‘না আছে কোনো সভ্যতা, না আছে ইতিহাস, আর না আছে সম্মান’।

দূতাবাস আরও উল্লেখ করে, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে আপনারা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন যার ঘ্রাণ এখন সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। আপনারা এসব বুঝবেন না কারণ আপনাদের না আছে সভ্যতা, না আছে ইতিহাস আর না আছে সম্মান।’

খামেনির শেষকৃত্য ও জানাজা

গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান কয়েক দিন ধরে চলবে। জানাজা উপলক্ষে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আকাশসীমা সীমিত করা হয়েছে। রোববার পুরো ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সোমবার রাজধানীতে বিশাল শোক মিছিলের আগে খামেনির মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

খামেনির কফিনটি ইরানের জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢাকা ছিল এবং এর ওপর রাখা ছিল তাঁর ব্যবহৃত কালো পাগড়িটি। তাঁর কফিনের পাশেই রাখা ছিল গত ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তাঁর আরও চার নিকটাত্মীয়ের কফিন, যাদের মধ্যে খামেনির এক শিশু নাতনিও রয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, তেহরানের এই শোকাতুর আয়োজনে ১ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন। রাজধানীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে খামেনির মরদেহ ইরানের অন্যান্য শহর এবং প্রতিবেশী দেশ ইরাকেও নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ