রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়নে রাজউক প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সরকারের দুই সচিব ও রাজউক চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এক মাসের মধ্যে ড্যাপ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করা হবে বলে নোটিশে তিনি উল্লেখ করেছেন।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।
এতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ড্যাপ প্রণয়ন করে। কিন্তু এই মাস্টারপ্ল্যান আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বাড়ছে।
এ বিষয়ে আইনজীবী ইলিয়াস আলী বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করে যে পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থা জানতেই মূলত এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলে হাইকোর্টে রিট করে রুল চাওয়া হবে।
তিনি বলেন, ড্যাপে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ছোট ছোট আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও স্থবির হয়ে আছে।
ইলিয়াস আলী বলেন, পরিকল্পিত ঢাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এত শুনানি ও কর্মশালা করা হলো, ঢাকাকে একটি সেন্ট্রাল পরিকল্পনার আওতায় আনার কথা বলা হলো। বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়? সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। মানুষ বাসা থেকে বের হতে পারে না, মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জনগণকে তো বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ড্যাপ যদি ঠিকঠাক বাস্তবায়ন হতো, তবে তা জনদুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হতো।
তিনি বলেন, ঝড়, বৃষ্টি, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় ড্যাপের প্রস্তাবনাগুলো কাজে লাগানো উচিত। এই পরিকল্পনাগুলো কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০২২ সালের আগস্টে নতুন ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করে। পরে কিছু জায়গায় সংশোধনী এনে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাতে সরকারি-বেসরকারি আবাসন, অপরিকল্পিত এলাকা, ব্লক-ভিত্তিক আবাসন, একত্রীভূত প্লটে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সুবিধা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ভবনের প্রশস্ততা ও উচ্চতা বাড়ানোর সুযোগও বাড়ে। ভবন নির্মাণে সামনের সড়কের প্রশস্ততার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়।