1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
চট্টগ্রামের বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে নগরবাসী | ঢাকা আওয়ার
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামের বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে নগরবাসী

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে। নিচু এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, আকমল আলী সড়ক, মুরাদপুর, হাজি পাড়া, লালদিঘির পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড, গোলপাহাড় কাজিরহাটসহ নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে।

নগরীর বাকলিয়া এলাকায় দেখা যায়, অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হয়েছে। বাসিন্দারা আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখছেন। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

চকবাজারের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, বৃষ্টির পানি আর ড্রেনের পানি এক হয়ে গেছে। টয়লেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না, পানি নামছেও না। ঘরের ভেতর দুর্গন্ধে থাকা দায় হয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার সঙ্গে এখন স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

আগ্রাবাদের বাসিন্দা রেহানা বেগম বলেন, ঘরের নিচতলায় কোমর সমান পানি। রান্নাঘরেও পানি ঢুকে গেছে। চুলা জ্বালাতে পারছি না। সকাল থেকে পরিবারের সবাই শুকনো খাবার খেয়ে আছে। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে নগরের নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত যেতে পারেনি। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলোশহর এলাকায় আটকে পড়ার পর প্রায় ১১ ঘণ্টা অপেক্ষার শেষে রাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ।

ট্রেনে থাকা প্রায় এক হাজার যাত্রী, যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন, দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে স্টেশনে আটকে থাকেন। পরে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেনটি আর কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, রেললাইনের ওপর অতিরিক্ত পানি থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বিকল্প কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাদের যাত্রা বাতিল হয়েছে, তাদের টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ