1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
ফুলের রাজ্য গোলাপ গ্রাম | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন

ফুলের রাজ্য গোলাপ গ্রাম

প্রতিবেদকের নাম
  • মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২০

হাঠাৎ কোথাও ঘুরে আসার ইচ্ছে হলো। ঢাকার কাছাকাছি কোথায় যাওয়া যায় ভাবতে ভাবতে সাদুল্লাপুর গোলাপ গ্রামের কথা মনে হলো। এর আগে এ গ্রামের কথা অনেকের মুখে শুনলেও কখনো যাওয়া হয়ে ওঠেনি।

শুনেছি ঢাকা থেকে এতই কাছে যে, সকালে গিয়ে সারাদিন ঘুরে আবার সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি ফেরা যায় গোলাপ গ্রাম থেকে। আরও খোঁজ খবর নিলাম, জানলাম সম্পূর্ণ গ্রামটিই নাকি একটা গোলাপ বাগানের মতো। সারি সারি গোলাপ বাগান, চারিদিকে ফুলের ঘ্রাণ, সেখানে সন্ধ্যায় ফুলের হাট বসে। নদী পাড়ের এই গ্রামের স্থানীয় মানুষগুলোও নাকি অনেক ভালো। তখনই যাওয়ার সীদ্ধান্ত হয়ে গেল।

ঘুরতে যাওয়ার সঙ্গি হিসেবে জুটে গেল ফুয়াদ ভাই ও জুয়েল ভাই। আমাদের যাত্রার দিন ছিল শুক্রবার। সকালে ফার্মগেট থেকে রওনা হলাম আমি (সরোয়ার) ও ফুয়াদ ভাই। আর মিরপুর ১০ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগ হলো জুয়েল ভাই।

তিনজনের যাত্রা শুরু হলো। প্রথমে মিরপুর ১০ থেকে থ্রি-হুইলারে (সিএনজি বলে পরিচিত) করে চলে গেলাম মিরপুর দিয়াবাড়ি ঘাট। এতে আমাদের ১০০ টাকা খরচ হলো।

দিয়াবাড়ি ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় রওনা হলাম সাদুল্লাপুরের পথে। ইঞ্জিন চালিত নৌকায় এতে আমাদের খরচ হয়েছিল মাত্র ২৫ টাকা। গোলাপ গ্রামে যেতে যেতে এত ভালো একটা নৌ-ভ্রমণ হয়ে যাবে বিষয়টা আমাদের কারও জানা ছিল না। দু’পাশে ফসলের মাঠ মাঝ দিয়ে এঁকে বেঁকে বয়ে গেছে তুরাগ নদী। দুরে কৃষকদের ব্যস্ততাও চোখে পরলো।

এমন সুন্দর দৃশ্যে মুখের কথা হারিয়ে যায়। চোখ শুধু বহু দুরে চেয়ে থাকে, যেন চোখ তার দীর্ঘ দিনের পিপাসা মিটাচ্ছে কিন্তু মিটছে না! দুরের পাখিরা দল বেধে মাথার অনেক উপর দিয়ে উড়ে যায় দুরে। মাঝিরা গান গায়তে গায়তে নাও নিয়ে চলে যায় আপন গন্তব্যে ….

দানব আকৃতির বৈদ্যতিক খাম গুলো সারি সারি চলে গেছে কৃষি মাঠ পেরিয়ে। এর মাঝে মন খারাপের দৃশ্যও যে চোখে পরবে না তা কিন্তু না, যেমন; কোথাও কোথাও নদী ভরাট হচ্ছে, নদীর পানিতে প্লাস্টিক ভাসছে, নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা কলখারখানার বর্জ্য ও দূষির্ত পানি নদীতে এসে মিশছে। এগুলো দেখতে দেখতে চোখে পরে সাদুল্লাপুরের বৃহৎ বৃক্ষের উপর উড়ছে লাল নিশানা। যেন ওই নিশানাই জানান দিচ্ছে এটা সাদুল্লাপুর গোলাপ গ্রাম।

জানা যায় আজকের এই গোলাপগ্রাম বা সাদুল্লাপুর একসময় ভাওয়াল রাজার অধীনে ছিল। ১৯৯০ সালের দিকে এ গ্রামে প্রথম ফুলের চাষ শুরু হয়। প্রথমদিকে এখানে শুধু গোলাপের চাষ হলেও বর্তমানে এখানে গোলাপের পাশাপাশি অনেক দেশি বিদেশি ফুলের চাষও হয়। এরমধ্যে অন্যতম জারভারা, গ্লাডিওলাস, জবা, কসমস, ডালিয়া, শিউলি, গাঁদা, জবা, গন্ধরাজ, বেলী, কামিনি, রঙ্গন, বাগান বিলাস, কাঁঠালচাপা, এলামেন্ডা ইত্যাদি। শুধু গোলাপ ফুলই আছে প্রায় ৪০ জাতের।

গ্রামে ঢুকতেই বেশ কয়েকটি ফুলের দোকান চোখে পরবে। এরমধ্যে একটি হলো ছোট্ট মেয়ে খাদিজার ফুলের দোকান। খাদিজা অনেক সুন্দর করে কথা বলে। ফেরার পথে খাদিজার দোকান থেকে রাজধানীর প্রায় তিন ভাগের একভাগ দামে ফুল কিনতে পারবেন।

চোখে পরবে লতিফ ভাইয়ের বার ভাজার দোকান। একটা টেবিলে কয়েক রকমের ভাজা দিয়ে মুড়ি। আমি স্বাদ বোঝার জন্য ১০ টাকার নিয়েছিলাম। আমার কাছে ভালোই লেগেছে। আচ্ছা একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম; নৌকা থেকে নামার পর গোলাপ গ্রাম পৌছাতে অটো বা ভ্যানের প্রয়োজন হয়। জনপ্রতি ওরা ৫/১০ টাকা নেয়।

স্কুল পড়ুয়া আবির হোসেন অভি’র একটা ফুলের দোকান আছে। ও অনেকটা লাজুক মনে হয়েছে কিন্তু বেশ ভালো ছেলে। ওর দোকানেও নানা রঙের, নানা জাতের ফুল আছে। এগুলো আপনি বাগানে যেতে যেতে দেখে নিতে পারেন। সাধারণত ওরা ফুল হাতে নিয়ে বা ওদের সঙ্গে ছবি তুলতে দিতে রাজি হয় না তাবে আপনি ম্যানেজ করে নিতে পারলে ওর ফুলের ঝুড়ি মাথায় নিয়েও ছবি তুলতে পারবেন।

এমন সারি বাধা ফুলের দোকানগুলোয় খুবই কম টাকায় ফুল কেনা যায়। স্থানীয় তরতাজা ফুল আর ফুলের ঘ্রাণে মনের অজান্তেই ভালো লাগা তৈরি হবে। মনে পড়বে ভালোবাসার মানুষের কথাও। তাই নিজের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন। দিনের বেলা জায়গাটা নিরাপদ তবে রাতে খুব একটা নিরাপদ বলে মনে হলো না। তাই সন্ধ্যার আগে আগে ফেরার প্রস্তুতি থাকাই ভালো হবে। ঘুরতে আসা শত শত মানুষের আনাগোনা থাকায় আপনার ভালো লাগবে।

গোলাপ বাগানগুলো বেশ বড় বড়। একাধীক গোলাপ চাষী এ বাগানগুলো তৈরি করেছে। গোলাপ চাষীরাও অনেক আন্তরিক, চাইলে তাদের সঙ্গে কথা বলে অনেক তথ্য জানতে পারবেন। তবে শেষ বিকেল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্ন্ত ফুল চাষীরা অনেক ব্যস্ত থাকে। অন্ধকার হওয়ার আগেই ফুল কেটে শেষ করতে হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে আগ বাড়িয়ে কথা না বলাই ভালো। লাখ লাখ ফুলের মাঝে আপনি যে ডুবে গেছেন এটা একসময় নিজেই আবিষ্কার করতে পারবেন।

বলতে পারি গোলাপ গ্রাম গেলে ভালো একটি দিন কাটাবে আপনার। শত ব্যস্ততার মাঝে চাইলেই লাখ লাখ ফুলের ভেতর থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

গোলপ গ্রামের পার্শবর্তী শ্যামপুর গ্রামে প্রতি সন্ধ্যায় বসে ফুলের হাট। রাজধানী ঢাকার এক বড় অংশ ফুল আসে এ হাট থেকে। সন্ধ্যার আগে থেকেই ফুলের ব্যাপারিরা এসে ভিড় করে এ এলাকায়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠে ফুলের হাট। চাইলে ফুলের হাটও ঘুরে যেতে পারেন।

পাশে জমিদার বাড়ি আছে দিনের আলোয় জমিদার বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে পারবেন। আর দুপুরের খাবারের জন্য মোটামুটি মানের কয়েকটা খাবার হোটেল পেয়ে যাবেন। হোটেলগুলোতে ভর্তা, ভাত, মাছ, মাংস, তরতাজা সবজি দিয়ে কম খরচে খেতে পারবেন।

নৌকায় ফিরতে চাইলে সন্ধ্যার মধ্যে ঘাটে উপস্থিত থাকবেন। দেরি করলে নৌকা না পাওয়ার সম্ভবনা অনেক। পরে ফিরতে হবে অন্য পথে…. আর নৌকায় ফিরলে হাজার বছর আগের যাতায়াত ব্যবস্থার একটা অনুভূতি পাবেন। অন্ধকার কেটে কেটে নৌকা আপনাকে আবার পৌছে দেবে দিয়া বাড়ি ঘাটে।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ