1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটে কিডনি ডায়ালাইসিসের ওষুধ থেকে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি ডায়ালাইসিসের রোগীদের ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। হার্টের বাইপাস ও স্টেন্টিংয়ে আগে যেখানে সোয়া লাখ টাকা খরচ হতো, তা কমে এখন প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকায় নেমে আসবে। একইভাবে চোখের লেন্সের ওপর থেকেও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা বয়স্ক ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা বাজেটের দিন দেখলাম। বাজেটের পরেও দেখলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেগুলো আছে সেখানে দেখলাম। বিভিন্ন সংবাদ দেখলাম। বিভিন্ন ভিডিও দেখলাম। কী দেখলাম? কতগুলো রাজনৈতিক দল তারা বিএনপি সরকার যে বাজেট দিয়েছে, এই বাজেটের বিপক্ষে তারা প্রতিবাদ জানালো। তারা বলল এই বাজেট হচ্ছে গণবিরোধী বাজেট। এখন বিএনপি সরকার এই ওষুধপত্রের ওপরে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপরে ট্যাক্স কমিয়েছে, যাতে করে মানুষ একটু শান্তিতে, স্বস্তিতে থাকতে পারে। কিন্তু বিএনপি সরকার এই বাজেটে কিসের ওপরে ট্যাক্স বাড়িয়েছে বলেন তো ভাই? সিগারেটের ওপরে ট্যাক্স বাড়িয়েছে। মদের ওপরে ট্যাক্স বাড়িয়েছে। এখন যেই রাজনৈতিক দলগুলো ‘মানি না, মানবো না’ বলছে, তাহলে কী আমরা ধরে নেব তারা সিগারেট এবং মদের ওপরে কেন ট্যাক্স বাড়ালো সেই জন্য ‘মানি না, মানবো না’ করছে? তাহলে যারা মদের ওপরে ট্যাক্স বাড়ানোর প্রতিবাদ জানায়, সিগারেটের ওপরে ট্যাক্স বাড়ানোর প্রতিবাদ জানায়, তারা কি জনগণের জন্য রাজনীতি করে? জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের আগেও দেখেছি, এরা গিয়ে জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করতো। শুনেছেন না, দেখেছিলেন না? এখন আর টিকিট বিক্রি করে? এখন আর টিকিটের কথা বলে? না। কেন বলে না? কারণ ওই টিকিট দেওয়ার কোনো মালিক বা ক্ষমতা তাদের নেই। তারা জনগণকে ঠকিয়ে শুধু জনগণের ভোটটা নিতে চেয়েছিল, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। এখন এই যে যারা মদের ওপরে ট্যাক্স বাড়ানোর জন্য বিক্ষোভ মিছিল করে, যারা সিগারেটের ওপরে ট্যাক্স বাড়ানোর জন্য বিক্ষোভ মিছিল করে, এরা তো জনগণের বন্ধু না। যারা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিরোধিতা করে, তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের স্বার্থের পক্ষে নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় বলেছিলাম যে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা এবং সেজন্যই আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমি যখন বিদেশ থেকে ১৭ বছর পরে এই দেশে ফিরে আসি, সেই সময় আমি আপনাদেরকে বলেছিলাম—‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। আজকে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য, আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য, আমাদের মা-বোনদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য, আমাদের কৃষক ভাইদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য, এই দেশে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার জন্য, এই দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য, এই দেশের মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য যে সকল পরিকল্পনা—এগুলোই হচ্ছে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর অংশ।

তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমরা দেখেছি, যখনই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছে, যখনই শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে, যখনই বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে, যখনই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে ১৯৮১ সালে শহীদ জিয়াকে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে মাসের পর মাস হরতাল আহ্বান করে এই দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। অতীতের মতো এখনো কিছু মহল দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তবে জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাবে।

তারেক রহমান বলেন, কক্সবাজার এলাকার চারটি আসনে সব সময় কক্সবাজারের মানুষ ধানের শীষকে জয়যুক্ত করছে। সেজন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কক্সবাজার এলাকার মানুষের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমি যখন আজকে কক্সবাজার এয়ারপোর্ট থেকে নেমে ঈদগাঁওতে যাচ্ছিলাম, সেই সময় পথে আমি সালাহউদ্দিন সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলাম। আমরা যখন মূল সড়ক থেকে অন্য একটি সড়কে গেলাম, তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এই সোজা রাস্তাটা কোথায় গেছে? তিনি বললেন, এই রাস্তাটা সোজা চট্টগ্রাম চলে গেছে। তখন আমি তাকে বললাম, এই রাস্তা তো আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগে আমি যেমন দেখে গিয়েছিলাম, আজও তো একই রকম রয়ে গেছে। তাহলে গত ২৫ বছরে কোনো পরিবর্তন হয়নি? তিনি বললেন, না, আপনি যে রাস্তা দেখে গিয়েছিলেন, আজও সেই রাস্তা একই রকম আছে। গত ২৫ বছরে রাস্তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে ২৫ বছর ধরে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মাতারবাড়ী বন্দর কয়েকদিন পরে চালু হবে। বর্তমান সরকার মাতারবাড়ী থেকে আনোয়ারা-পটিয়া-বাঁশখালী-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, এই যে সামনে যে সড়কটি রয়েছে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই রাস্তাটি অন্তত চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত হওয়া উচিত। ইনশাআল্লাহ, আমরা দ্রুতই এই সড়কের কাজ হাতে নেব। যাতে করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের প্রধান সড়কটিকে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করা যায়।

লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই এলাকার বহু মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কেউ ধান চাষ করেন, কেউ মাছ চাষ করেন, আবার অনেকেই লবণ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কয়েকদিন আগে আমি পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন পড়লাম। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে বিষয়টি জানলাম। যখন জানলাম যে লবণচাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না, তখন আমি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি আপনারা বসে বের করেন, কীভাবে আমরা কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য দিতে পারি। ইনশাআল্লাহ, আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা একটি মূল্য নির্ধারণ করব, যাতে করে লবণচাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পায়।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সংরক্ষিত সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মাতামুহুরী উপজেলা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সন্ধ্যায় জনসভায় আসেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি পেকুয়ায় নতুন পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ করেন।

সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ইউএস বাংলার ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে পাতলী খাল পুনঃ খনন উদ্বোধনের পর দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনও করেন তিনি।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ