1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
অস্ত্রের মজুত হ্রাস ও সরকার পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা | ঢাকা আওয়ার
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা হামের টিকায় গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে লতা-পাতার বিয়ে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি আটক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আরও ৫ হাজার ডাক্তার নেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল : বাণিজ্যমন্ত্রী সীমান্ত হত্যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজের ইমামতি করে পালিয়েও রক্ষা নয়, দুই দিন পর গ্রেপ্তার গোলাম আজম আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা : প্রধানমন্ত্রী জনগণের টাকা পাচার হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

অস্ত্রের মজুত হ্রাস ও সরকার পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য এবং এর ভবিষ্যৎ ফলাফল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্ভবত পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে না। শনিবার সকালে প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি গোপন গোয়েন্দা পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন হামলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও, বর্তমান যুদ্ধপদ্ধতিতে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করা অত্যন্ত কঠিন।

একই সময়ে, ডেমোক্র্যাটিক দলের আইনপ্রণেতারা সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ওপর চালানো বিমান হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে। এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অস্ত্র ঘাটতির এই বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে উঠে আসে।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী কট্টরপন্থীরা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুদ্ধের চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। তারা সতর্ক করছিল যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। গত এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত ছিল। ইরান বারবার বলে আসছে, তাদের এ কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক ব্যবহারের জন্য। গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালায়, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। আলোচনা চললেও গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় আকারের আক্রমণ শুরু করে।

শনিবার ফ্লোরিডায় ডানপন্থী নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এ ট্রাম্প বক্তব্য দেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ক্ষমা চাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানে খুব ভালো করছি, আপনারা ফলাফল দেখতে পাচ্ছেন। এটা অবিশ্বাস্য। আমরা তিন দিনে তাদের ৪২টি নৌযান ধ্বংস করেছি, যার কয়েকটি ছিল বিশাল আকারের। ওটাই তাদের নৌবাহিনীর শেষ। আমরা তাদের বিমানবাহিনীকে ধ্বংস করেছি। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সমস্ত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি।‘

তবে দীর্ঘস্থায়ী এবং আক্রমণাত্মক যুদ্ধ সত্ত্বেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভিন্ন একটি সম্ভাব্য পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হবে না। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের রূপরেখা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই ফলাফল একই থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং তা হলো— ইরানের সরকার দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্বাচনের নিয়মাবলী অনুসরণ করবে।

গত সপ্তাহে খামেনি নিহত হওয়ার পর, ইরান সরকার দ্রুত একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করেছে, যা ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত। এই কাউন্সিলই দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের বিরোধী পক্ষ দেশটির ক্ষমতা দখল করবে—এমন সম্ভাবনা ‘খুবই ক্ষীণ’।

মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে, অনেক ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর উদ্বিগ্ন যে, যেভাবে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে ইউক্রেনের মতো যেসব দেশ মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তারা ভবিষ্যতে নিজেদের কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারবে না।

টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, তিনি ইউক্রেন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। তিনি আরও যোগ করেন, ‘মার্কিন সামরিক সম্পদ ও সরবরাহ সীমিত, এবং আমার মনে হয়, কোনো এক পর্যায়ে আমাদের ইউক্রেনকে কী দেয়া হবে তা নিয়ে বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।‘

এপি’র সঙ্গে কথা বলা অন্য একজন বিশেষজ্ঞ জানান, তাদের মূল উদ্বেগ এখন ইরানের সংঘাত নিয়ে নয়, বরং ভবিষ্যতে হতে পারে এমন সামরিক সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশল বিশেষজ্ঞ রায়ান ব্রবস্ট এপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই সংঘাত চলাকালীন আমাদের অস্ত্র ফুরিয়ে যাবে—তা নিয়ে আমি বিশেষ চিন্তিত নই। মূল বিষয়টি হলো এই সংঘাত শেষ হওয়ার পর চীন ও রাশিয়াকে মোকাবেলা করার সক্ষমতা থাকবে কিনা সেটা।‘

অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এরইমধ্যে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। শুক্রবার লকহিড মার্টিন ঘোষণা করেছে যে, তারা ‘গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন’ চারগুণ বাড়াবে।

সারসংক্ষেপে, ইরান যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি মার্কিন নেতৃত্বের কৌশল ও অস্ত্রসংগ্রহে দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, এবং ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক উত্তেজনা মোকাবেলায় প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ