1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
শুল্ক বাড়ানোর প্রভাব, ফলের দাম কেজিতে ৫০-৯০ টাকা বাড়তি | ঢাকা আওয়ার
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

শুল্ক বাড়ানোর প্রভাব, ফলের দাম কেজিতে ৫০-৯০ টাকা বাড়তি

ঢাকা অনলাইন ডেস্ক
  • শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি অর্থবছর বিভিন্ন নিত্যপণ্যের সঙ্গে আমদানি করা ফলের দামে দ্বিতীয় দফায় সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে পাঁচটি ফলে প্রতি কেজিতে দাম ৫০ থেকে ৯০ টাকা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ফল কিনে খাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলের নিয়মিত ক্রেতা অনেকে ফল কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও ভাটারা এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শুল্ক বাড়ানোর পর প্রতি কেজি কালো আঙুরের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। একইভাবে মানভেদে আপেলের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৯০ টাকা। কমলার দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, নাশপাতি ও আনারের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ৯ জানুয়ারি আমদানি করা ফলের ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করেছে।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, কালো আঙুর ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সাদা আঙুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি। আফ্রিকার আপেল মানভেদে ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি।

আগে ছিল ২৬০ থেকে ২৯০ টাকা কেজি। সবুজ আপেল ছিল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, এখন ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা। কমলা বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। নাশপাতি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, আগে ছিল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। ছোট আনার ৩৫০ টাকা কেজি, মাঝারিটা ৪৫০ টাকা।

সবচেয়ে বড় আনার ৬০০ টাকা কেজি।
কারওয়ান বাজারের ফল বিক্রেতা মো. আমিনুল হক বলেন, ‘দাম শুনলেই ক্রেতা চলে যায়। বিক্রি অনেক কমে গেছে। কেউ কেউ দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন। ক্রেতা না থাকলে কী করা যাবে? আমার এখানে গতকাল একটা ছেলে কাজ চেয়েছে। আগে সে ফল বিক্রি করত। লাভ হয় না বলে ব্যবসা গুটিয়েছে।’

একই বাজারে ফল কিনতে আসেন পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই চাকরিজীবী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে সরকারকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। ফলের ওপর যে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, এতে আমরা বেশ চাপে আছি। আগের মতো আর কিনতে পারছি না ফল। আগে মাসে পাঁচ কেজি ফল কিনতাম, এখন দেড়-দুই কেজি কম কিনছি।’

জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি ও আনারের ওপর মোট শুল্ককর ছিল ৮৯.৩২ শতাংশ। পরের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে শুল্ককর বাড়ানো হয়। তখন মোট শুল্ক দাঁড়ায় ১১৩.৮০ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাড়িয়ে তা করা হয় ১১৮.৮০ শতাংশ। চলতি অর্থবছর দ্বিতীয় দফায় আবার বাড়ানোর ফলে মোট শুল্ককর হয়েছে ১৩৬.২০ শতাংশ।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফআইএ) সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। হুমকি দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, ফলের ওপর বর্ধিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার না করা হলে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব স্থল ও নৌবন্দরে আমদানিকরা ফল খালাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখবেন।

সংগঠনটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ফলে শুল্ক বাড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। বর্তমানে আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের কাছে বর্ধিত শুল্কের কারণে দাম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলের ওপর বর্ধিত শুল্ক আরোপ হটকারী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই না, যা বাতিল করে দেওয়া আবশ্যক। অন্যথায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে ফল।

তিনি বলেন, আগে প্রতি ট্রাক ফল এক দিনে বিক্রি করা সম্ভব হলেও এখন তিন-চার দিনেও সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য পোর্ট থেকে পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে শিপিং ও পোর্টে জরিমানা দিতে হচ্ছে। উচ্চ শুল্কের কারণে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
সূত্র: কালের কন্ঠ

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ