1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, দিল্লি অভিমুখে শত শত কৃষক | ঢাকা আওয়ার
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, দিল্লি অভিমুখে শত শত কৃষক

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে মহাসমাবেশে অংশ নিতে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করেছেন ভারতের শত শত কৃষক। পাঞ্জাব থেকে যাত্রা করা এসব কৃষককে হরিয়ানায় প্রবেশের পথে শম্ভু সীমান্তে আটকে দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে ব্যারিকেড দেওয়ার এ ঘটনা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় কৃষকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক এবং কয়েক স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে সীমান্তটিকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল।

এনডিটিভি জানিয়েছে, যাতায়াতের সুযোগ না পেয়ে কৃষকেরা শম্ভু সীমান্তে সমাবেশ করেন। এ সময় তারা দিল্লিতে সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের জন্য হরিয়ানা ও পাঞ্জাব উভয় সরকারকেই অভিযুক্ত করেন।

বিকেইউ শহীদ ভগৎ সিংয়ের নেতা তেজভীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভূখণ্ডের ভেতরে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। পাঞ্জাব সরকার এই পদক্ষেপ প্রতিহত না করে ‘নীরব দর্শকের’ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের কনভয়গুলো থামিয়ে দেওয়া হলেও আম্বালা, কুরুক্ষেত্র ও পার্শ্ববর্তী জেলাসহ হরিয়ানার কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত মহাসমাবেশে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানাতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের কৃষক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়েছে।

কিষাণ মজদুর সংগ্রাম কমিটি (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, শম্ভু সীমান্তে থামার আগে কেএমএসসি, কিষাণ মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব অধ্যায়), আজাদ কিষাণ মোর্চা এবং বিকেইউ একতা সংগ্রামের বহরগুলো রাজধানী অভিমুখে রওনা দেয়।

পান্ধের বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি একটি প্রচলিত বাণিজ্য চুক্তির চেয়েও অনেক বেশি। এটি কৃষি, দুগ্ধ, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, মেধাস্বত্ব অধিকার এবং সেবা খাতের মতো বিষয়ে আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।

কৃষক নেতারা বলছেন, পূর্ববর্তী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, পোলট্রি ও মৎস্যপণ্যের মতো খাতে কম শুল্ক এবং বিধিনিষেধ শিথিলের মাধ্যমে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধবাজারে আরও গভীর প্রবেশাধিকারের জন্য ধারাবাহিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তারা বলছেন, ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দিলে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ভারতীয় কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। তারা আলোচনাকে ঘিরে স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

সংগঠনগুলো বলেছে, ভারতের শুধু দুগ্ধ খাতই প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকার উৎস। এ খাতে যেকোনো বিরূপ প্রভাব সমগ্র গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে। এতে দুগ্ধ উৎপাদনকারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

দেশ বাঁচাও মোর্চা প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসংক্রান্ত সব নথি অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ