সারাদেশে বছরে কত হত্যাকাণ্ড হয় তার সঠিক তথ্য জানা যায় না। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের ওয়েবসাইটে ২০১৫ সালে সারাদেশে হওয়া হত্যাকাণ্ডের তথ্য দেওয়া আছে। ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে সারাদেশে ৪ হাজার ৩৩৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশে ঘটা হত্যাকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোনো না কোনোভাবে ওই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতি জড়িত। অনেক সময় রাজনীতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নাও থাকতে পারে, তবে রাজনৈতিক প্রভাব হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশে কিছু কিছু হত্যাকাণ্ড বৈশিষ্ট্যগত কারণে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে টানা ১৬ বছর তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে। এই সময়ের আলোচিত ১১টি হত্যাকাণ্ড তুলে ধরা হলো, যেসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য রাজনৈতিক প্রভাবের যোগসূত্র পাওয়া যায়।
১। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড
আবরার ফাহাদ ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) -এর তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের একটি কামরায় আটকে রাতভর পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহ করে যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তাকে হত্যা করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। আবরার ফাহাদের বন্ধুরা সে সময় জানিয়েছিল, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তাকে ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। এই ঘটনাটি দেশবাসীর মনে গভীর আঘাত হানে এবং দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ সৃষ্টি করে।
২। বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ড
বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ড ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে ঘটে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্বজিৎ দাসকে বিনা কারণে প্রকাশ্য-দিবালোকে শত শত মানুষ ও আইনরক্ষা বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকদের সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেদিন সকাল থেকে ঢাকায় বিরোধী দলের ডাকা অবরোধ চলছিল। বিশ্বজিৎ দর্জির কাজ করতেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে হেঁটে তার কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে কিল-ঘুষি-লাথি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয় এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। বিশ্বজিৎ বারবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া করতে থাকে। এক সময় অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হত্যকারীরা চলে যায়। তখন তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
৩। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংঘটিত একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড। সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি তাদের নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন। এ হত্যাকাণ্ডর সঙ্গে তৎকালীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগসূত্র আছে বলে ধারণা করা হয়।
সাগর সরওয়ার ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক, আর মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার একজন সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন। সেই রাতে তাদের রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ফ্ল্যাটে পাঁচ বছর বয়সী ছেলের সামনে হত্যা করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং বাকস্বাধীনতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। সরোয়ার জার্মানিতে থেকে ডয়চে ভেলের সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করতেন বলে জার্মানির আগ্রহও প্রকাশ পায়। ফলে মামলাটি নিয়ে সাংবাদিক সহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংস্থাগুলিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। ঘটনার পরপরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিলেও, তদন্ত প্রক্রিয়া ক্রমাগত ধীরগতির কারণে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় । এই দম্পতির হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলিকেও এক মঞ্চে নিয়ে আসে।
৪। সাত খুন
নারায়ণগঞ্জের সাত খুন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বর্বর ও আলোচিত হত্যাকাণ্ড। ২০১৪ সালের এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এই হত্যাকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাত জনকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের শিকার সাতজনের মধ্যে নজরুল ইসলামের পাশাপাশি ছিলেন তার ড্রাইভার, দুই সহযোগী এবং একজন আইনজীবী চন্দন সরকার। এই অপহরণ এবং হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন ২৭ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) -এর সদস্যরা এবং র্যাব ১১ -এর তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের সাথে মেয়র ড. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি তার তিন সহযোগী এবং চালকসহ ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। তার আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার যিনি নজরুল ইসলামের গাড়ি অনুসরণ করছিলেন, তিনিও একই দিন তার ড্রাইভারসহ একই জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে, শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখা গিয়েছিল। খুনের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের যোগসূত্র আছে বলে যোগসূত্র পাওয়া যায়।
৫। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড
বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে ২০১৯ সালের ২৬ জুন রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ালে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল।
ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাতকে কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করছে। এ সময় তার স্ত্রী আয়েশা মিন্নি তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এই মর্মান্তিক দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রচারের কারণে পুলিশ দ্রুত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, হত্যার মূল হোতা ছিল নয়ন বন্ড নামের একজন যুবক। নয়ন বন্ড ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ড নিহত হন।
এই মামলায় আয়েশা মিন্নিকেও অভিযুক্ত করা হয়। কারণ তদন্তে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মূল মামলায় মিন্নিসহ আরও বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয় এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে, আদালত মিন্নিসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়, তবে মিন্নি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করেন।
৬। সিনহা হত্যাকাণ্ড
সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে খুন হল বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টায় কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হন। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী ৪ টি গুলি করে তাকে হত্যা করেন। লিয়াকত আলী পুলিশের বিশেষ দল সোয়াটের সদস্য। তাকে গুলি করার আদেশ দেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন মেজর সিনহা। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে পরবর্তীতে ওসি প্রদীপ কুমারও ২টি গুলি করেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর একটি ট্রাকে করে তাকে হাসপাতাল নেওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে।
৭। তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সুধীজন পাঠাগারে প্রতিদিনের মতো সেদিনও যাচ্ছিল তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পথ থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় তাদের টর্চার সেলে। বহুজন মিলে এই কিশোরের ওপর অনেকভাবে ক্রমাগত নির্যাতন করেছে। একসময় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী নিহত হলে তাকে ভাসিয়ে দেয় শীতলক্ষ্যা নদীতে। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ত্বতীর পরিবার নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমানকে দায়ি করে।
৮। জাহিদুল ইসলাম টিপু ও সামিয়া আফনান প্রীতি
জাহিদুল ইসলাম টিপু ও প্রীতী হত্যাকাণ্ড একটি আলোচিত দ্বৈত হত্যাকাণ্ড। ২০২২ সালের ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০টার দিকে শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শো-রুমের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা সামিয়া আফনান প্রীতি নামে এক কলেজছাত্রীও নিহত হন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হন টিপুর গাড়িচালক মুন্না। টিপু ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন এবং একটি রেস্টুরেন্ট থেকে বাসায় ফেরার পথে ছিলেন। প্রীতি তখন রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন এবং ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থায় গুলির শিকার হন। টিপুর গাড়ি শাহজাহানপুর এলাকায় একটি ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়লে, মোটরসাইকেল আরোহী এক বন্দুকধারী তার গাড়ির পাশে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। গুলিতে টিপু ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং এ সময় কাছাকাছি থাকা প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। প্রীতি একজন নিরীহ পথচারী ছিলেন এবং ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
৯। নুরুল ইসলাম ফারুকী
নুরুল ইসলাম ফারুকী ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামী পণ্ডিত, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং ইসলাম প্রচারক। ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট তাকে অজ্ঞাত হামলাকারীরা হত্যা করে। তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি মেঘনা ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একটি হজ এজেন্সি, ফারুক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক ছিলেন। ফারুকীকে তার রাজাবাজারের বাসায় একদল অজ্ঞাত হামলাকারী হত্যা করে। তার পরিবারের দাবি, বেশ কয়েকজন যুবক হজ নিয়ে কথা বলতে বাড়িতে এসে তাকে জবাই করে হত্যা করে। তবে তার পরিবারের কিছু হয়নি। এই হত্যার জন্য তার ছেলে আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ি করে।
১০। তনু হত্যাকাণ্ড
সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তনু ছিলেন ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী এবং নাট্যকর্মী। ১৯ বছর বয়সী তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে চাকরিরত ছিলেন। প্রাইভেট টিউটরের কাছে এক বাসায় পড়তে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ২০শে মার্চ তনুর মরদেহ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে পাওয়া যায়। মৃতদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
তনু হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে বহুল আলোচিত ঘটনা, যা বাংলাদেশে নারীদের নিরাপত্তা এবং বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে।
১১। মিতু হত্যাকাণ্ড
মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ড ২০১৬ সালে চট্টগ্রামে সংঘটিত একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড। ওই বছর ৫ জুন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে চট্টগ্রামের ব্যস্ত রাস্তায় ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি খুন হওয়ার সময় সঙ্গে তার ছয় বছরের ছেলে ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার, মামলা ও তদন্ত আদালতে চলমান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল তিনি জঙ্গিদের দ্বারা হত্যার শিকার হয়েছেন। এই খুনের দায় ভারতীয় আল কায়েদার উপশাখা আনসার-আল-ইসলাম স্বীকার করেছিল। পরে জানা যায়, বাবুল আক্তার নিজেই তার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করিয়েছেন।
মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ড ২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া একটি বহুল আলোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যা বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল।