1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
ইতিহাসের কালো অধ্যায়: আওয়ামী লীগ আমলের পাঁচটি ‘গণহত্যা’ | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

ইতিহাসের কালো অধ্যায়: আওয়ামী লীগ আমলের পাঁচটি ‘গণহত্যা’

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব দেওয়া এই দলটি ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে বারবার কর্তৃত্ববাদী শাসনে ফিরে গেছে। ইতিহাস বলছে, আওয়ামী লীগ বিশাল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জনসমর্থন হারিয়েছে প্রতিবার। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যে দলটি যে জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলে তা স্পস্ট হয় পরবর্তী স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে।

ক্ষমতা সুসংগঠিত করতে আওয়ামী লীগ প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় রদবদল ও কলাকৌঁশল করতে থাকে। ভিন্নমত দমনসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দমন পিড়ন বাড়াতে থাকে। কর্তৃত্ববাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচনে পর্যন্ত কারচুপি করে। এই সবকিছুর মধ্যেও ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী শাসনামলে সংঘটিত কিছু ঘটনা ইতিহাসের কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। মর্মান্তিক এসব ঘটনা দেশের জনগণের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যেগুলো অনেকের মতে গণহত্যার ন্যায় ভয়াবহ।

এখানে আমরা আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত এমন পাঁচটি ঘটনা তুলে ধরব, যেগুলোকে অনেকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এসব ঘটনা শুধুমাত্র নৃশংসতার কারণে নয় বরং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার কারণেও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড

পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার পিলখানায় অবস্থিত বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে। এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নাম শোনা যায়। এই ঘটনাকে অনেকে সামরিক গণহত্যাও বলে থাকে।

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, জামায়াতে ইসলামী নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণার পর, প্রতিবাদে সারাদেশে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জেলায় জেলায় রাস্তা অবরোধ করে ভিক্ষোভকারীরা। অচল হয়ে পড়ে পুরো দেশ। সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদ বিক্ষোভে সরকারের নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালায় র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা। এতে অসংখ্য মানুষ নিহত হয়, যা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গণহত্যার চিত্র বহন করে।
তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ঘটনা শুরুর চারদিন পর সংসদে দেওয়া বক্তব্যে জানান, এ ঘটনায় তখন পর্যন্ত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় তখন পর্যন্ত ২৩৫টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ৭২ জনকে। তবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের ও পরের ৮ দিনে সারাদেশে হত্যা করা হয় মোট ১৪৭ জনকে। তবে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিসংখ্যান মতে মৃতের সংখ্যা ১৫৫। এছাড়া পুলিশের গুলিতে আহতসহ মোট আহতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। নিখোঁজের সংখ্যাও ছিলো অনেক। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সে সময় ২৮ ফেব্রুয়ারিকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

শাপলা চত্বরে গণহত্যা

ব্লগারের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ এনে ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি দেয় হেফাজতে ইসলাম। ওই কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা শুরু করে হেফাজতকর্মীদের ওপর। বিকেল থেকে শাপলা চত্বরের সমাবেশস্থলে লাশ আসতে থাকে। অবস্থার প্রেক্ষিতে সংগঠনটির নেতারা ওই রাত শাপলা চত্বরেই অবস্থান করার কথা জানান। এ ঘোষণার পর সমাবেশ এলাকার সব লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয় সমাবেশ এলাকার মাইক। সরাসরি সম্প্রচার করায় বন্ধ করে দেওয়া হয় দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টিভি।
রাত পৌনে ৩টায় ‘অপারেশন শাপলা’ বা ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ বা ‘অপারেশন সিকিউর শাপলা’ নামে পুলিশ, র‌্যাব এবং বিজিবির হাজার হাজার সদস্য অভিযান শুরু করে। গুলি, টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে শাপলা চত্বর এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। আহত নিহত হন শতশত হেফাজতকর্মী। পরদিন ৬ মে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরলে, সেখানেও যৌথবাহিনীর গুলিতে অনেক নেতাকর্মী নিহত হন।
ওই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৫ ও ৬ মে দুই দিনে সারাদেশে ২৮ জন নিহত হন। তবে বিভিন্ন সংগঠনের দাবি ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। যদিও নিহতের সংখ্যার বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু বলা না হলেও বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জানিয়েছে আহত নিহতের সংখ্যা প্রচলিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।

মোদী বিরোধী আন্দোলন

২০২১ সালের মার্চের শেষ দিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। অনেকেই এটিকে ২১ -এর মোদী-বিরোধী আন্দোলন বলে আখ্যায়িত করেন। গুজরাত সহিংসতা, বাবরি মসজিদ ইস্যুর পাশাপাশি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এবং হিন্দুবাদী দৃৃষ্টিভঙ্গির জন্য মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে আসছিল হেফাজতে ইসলাম। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ, শুক্রবার বাংলাদেশের ৫১তম স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় পৌঁছান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদিন জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু হলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও আইনশৃংখলা বাহিনী সশস্ত্রভাবে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পরলে আওয়ামী লীগের হামলাসহ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর গুলিতে ১৭ জন নিহত হন এবং প্রায় ৫০০ জনের বেশি আহত হন বলে দাবি করেন হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস। এ ঘটনায় অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসায় হামলার ঘটনাও ঘটে।

জুলাই গণহত্যা

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো দমনপীড়ন ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ডকে জুলাই গণহত্যা হিসেবে পরিচিতি পায়। বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি পুনর্বহাল ও ব্যাপক গণঅসন্তোষের জের ধরে গড়ে ওঠা আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, দলটির জোটে থাকা ছোট বড় দল এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবারী বাহিনীর সঙ্গে সরকারের মদদপুষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্রা সশস্ত্র হামলা চালায় আন্দোলনকারীদের ওপর। এই সংঘর্ষের ফলে অসংখ্য মানুষ নিহত হয়, যার মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, দলীয় সদস্য, পথচারী ও শিশুরাও। ধারণা করা হয়, এই ঘটনায় সারা দেশে ৭০০ থেকে ১ হাজার মানুষ নিহত হন, আহত অন্তত ২০ হাজার মানুষ।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ