গাজা উপত্যকার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
শনিবার ভোরে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি পুলিশ পোস্টের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছেন গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল।
চিকিৎসা সূত্র আল জাজিরাকে জানায়, বুরেইজের “ব্লক ৯” এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর এই হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন নিহত এবং অনেকেই গুরুতর আহত হন।
আহতদের হাসপাতালে নেওয়া এবং মরদেহ সরিয়ে নিতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকর্মীরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
মধ্য গাজার আল-আকসা হাসপাতাল জানায়, তারা ছয়টি মরদেহ এবং সাতজন আহতকে গ্রহণ করেছে, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। পাশের আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা একজন নিহত এবং দুইজন আহতকে পেয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে বানি সুহেইলা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স।
মাঠপর্যায়ে থাকা আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, বানি সুহেইলা ও গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ ও ট্যাংকের ভারী হামলাও হয়েছে।
হতাহতের সামগ্রিক চিত্র
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও অন্তত ৭৩৮ জন নিহত হয়েছেন।
শুধু এপ্রিলের শুরু থেকেই অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহও রয়েছেন- যিনি চলতি সপ্তাহে গাজা সিটির পশ্চিমে এক হামলায় নিহত হন।

জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক শুক্রবার গাজায় সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “অবিরাম হত্যাকাণ্ডের এই ধারা ইসরায়েলের ব্যাপক দায়মুক্তির প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১০ দিন ধরে ফিলিস্তিনিরা তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র, বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু, রাস্তা, যানবাহন, এমনকি চিকিৎসাকেন্দ্র ও শ্রেণিকক্ষেও নিহত ও আহত হচ্ছেন।”
পশ্চিম তীরে অভিযান ও গ্রেপ্তার অব্যাহত
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘরবাড়িতে হামলা এবং গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়: কালকিলিয়ার পূর্বে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেনিনের কাছে বির আল-বাসা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাসিন্দাদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
বেথলেহেমের দক্ষিণ-পূর্বে আল-মানিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে বাড়ির ভেতরে আলো ফেলে বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করে।
নাবলুসের দুমা গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের আরেকটি দল একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
নতুন বসতি স্থাপন নিয়ে বিতর্ক
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে নতুন ৩৪টি অবৈধ বসতি স্থাপনের গোপন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোট ৬৮টি বসতি অনুমোদন পেয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক, সুইডেন এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।