1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঘায়েল’ করছে | ঢাকা আওয়ার
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঘায়েল’ করছে

প্রতিবেদকের নাম
  • শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

জর্ডানে অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পাঁচ মাস পরও মার্কিন বাহিনীতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটানোর ক্ষেত্রে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেল।

গত মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এই প্রথম ইরানের কোনো হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সেনার মৃত্যু হলো। গত শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে।

হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণঘাতী ঘটনাটি ওয়াশিংটনের জন্য এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা সামনে এনেছে। তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক বিমান হামলার পরও একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা এখনো ধরে রেখেছে ইরান।

এ বিষয়ে ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ নামের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সামরিক বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জেনিফার কাভানাফ আল–জাজিরাকে বলেন, ‘ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো বেশ শক্তিশালী। প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে তারা নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে।’

জেনিফার কাভানাফের ধারণা, সম্ভবত রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের এ হামলাগুলো আরও বেশি নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সামরিক বাহিনী কোনোভাবেই যুদ্ধ করার ক্ষমতা হারিয়েছে এমনটা নয়, যেমন পেন্টাগন দাবি করেছিল। এটি সত্যি, তারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে, তবে সময়ের সঙ্গে তারা নতুন শিক্ষা নিচ্ছে এবং নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে।’

অরক্ষিত মার্কিন ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ নিশানা

মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ও সেগুলোর দুর্বল পরিকাঠামোর কারণেই মূলত ইরান এখনো এ অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের নিশানা বানাতে পারছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ এ মন্তব্য করেছেন।

আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছেন। এসব সেনা মূলত এমন কিছু স্থায়ী ঘাঁটিতে কাজ করছেন, যা ইরানের দিন দিন শক্তিশালী হতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বহরের একদম নাগালের মধ্যে রয়েছে এবং বেশ অরক্ষিত।

এ সেনাদের অনেকেই অবস্থান করছেন আধা স্থায়ী কিছু ব্যারাকে। এগুলো মূলত রকেট, মর্টার বা দেশীয় প্রযুক্তির বোমার (আইইডি) আঘাত সামলানোর মতো করে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে ভারী যুদ্ধাস্ত্র বহনকারী নিখুঁত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা এগুলোর নেই। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট আঘাত মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ ডেকে আনছে।

ক্রিগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ঘাঁটিতে আঘাত না হানলেও এর তীব্র বিস্ফোরণের প্রচণ্ড চাপে (ব্লাস্ট ওভারপ্রেশার) সেনারা গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাত বা ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরিতে পড়ছেন। আবার ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হলেও সেটির ভেঙে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতেও সেনারা আহত হচ্ছেন।

সব মিলিয়ে চলমান এ যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অফিশিয়ালি নিহত সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। এর মধ্যে গত ১ মার্চ কুয়েতের একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টার ও সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাত মার্কিন সেনা নিহত হন। জর্ডানের এই তিনজন ছাড়া অন্য সেনাদের মৃত্যু ইরানের সরাসরি হামলায় হয়নি বলে সামরিক বাহিনী দাবি করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চে জ্বালানি নেওয়ার সময় এক বিমান দুর্ঘটনায় ছয় বৈমানিক নিহত হন। আর অতি সম্প্রতি ইরাকে ভূপাতিত করা একটি সশস্ত্র ড্রোনের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর এক সার্জেন্ট প্রাণ হারান।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। ৮ জুলাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম, ভবনসহ প্রায় ২২০টি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বোকা বানাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে ইরান দিন দিন উন্নত করে তোলা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বহরের ওপর নির্ভর করছে।

আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, মার্কিন বাহিনীর ‘প্যাট্রিয়ট’ সারফেস–টু–এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ‘থাড’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান এ কৌশল নিয়েছে।

ইরান এমন কিছু ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সশস্ত্র ড্রোন তৈরি করেছে, যা ভিন্ন ভিন্ন গতি ও ভিন্ন ভিন্ন পথ ধরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে যখন তারা নকল লক্ষ্যবস্তু ও ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা উৎক্ষেপণকেন্দ্র ব্যবহার করে, তখন মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে ক্রিগ বলেন, ‘ধেয়ে আসা অধিকাংশ অস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হলেও প্রতিরক্ষা ঢাল ভেদ করে সামান্য কয়েকটি অস্ত্র ভেতরে ঢুকে পড়লেই তা বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটাতে পারে।’

এদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান মনে করেন, যুদ্ধের শুরুর সপ্তাহগুলোর তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ের হামলাগুলোয় মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত করার ক্ষেত্রে ইরান ‘অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য’ নিয়ে মাঠে নেমেছে।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, ‘আমি মনে করি, এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোয় আঘাত হানার জন্য ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্রতা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এটি তাদের একটি নতুন কৌশল। যুদ্ধের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন এটি অনেক বেশি দৃশ্যমান।’

মোনা ইয়াকুবিয়ান আরও বলেন, সাম্প্রতিক এ ক্ষয়ক্ষতির পেছনে ইরানের নিখুঁত নিশানা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি, মার্কিন প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাওয়া অথবা বিপুল সংখ্যায় হামলার কারণে দু–একটি ‘ভাগ্যের জোরে লেগে যাওয়া আঘাত’ কারণ হিসেবে থাকতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সব কটি কারণই একসঙ্গে কাজ করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান টানা ১২ দিন ধরে একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, অতি সম্প্রতি তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান ও কিং ফয়সাল ঘাঁটিতে মার্কিন এফ–১৫ যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রস্তুতকরণ কেন্দ্র ও হেলিকপ্টার রাখার হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

একই সময় বাহরাইনের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে যে তারা ইরান থেকে ধেয়ে আসা বেশ কয়েকটি ড্রোন মাঝপথেই আটকে দিয়েছে।

অন্যদিকে এ উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বারবার বিমান হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত মঙ্গলবার বলেছে, মার্কিন বাহিনী মূলত ইরানের সামরিক অপারেশন সেন্টার, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমানের হ্যাঙ্গার, ড্রোন মজুত রাখার কেন্দ্র ও সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলাগুলো পরিচালনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভ্রান্তিকর দাবি

এদিকে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে একহাত নিয়েছেন। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সামরিক বাহিনী ‘কার্যত ধ্বংস’ হয়ে গেছে বলে তিনি যে দাবি করেছিলেন, তা নিয়ে সিনেটে তীব্র জবাবদিহির মুখে পড়েন তিনি।

সিনেটর জন অসফ সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘আপনি এই সংঘাতের ১৪তম দিনে অর্থাৎ যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে দাবি করেছিলেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুদ্ধ করার ক্ষমতা হারিয়েছে। আপনার সেই বক্তব্য কি সঠিক ছিল, নাকি না?’

জবাবে হেগসেথ অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। এ যুদ্ধকে একটি ‘ঐতিহাসিক সামরিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও তাদের প্রতিরক্ষাশিল্পের ভিত্তি পুরোপুরি অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।

তবে সুর কিছুটা নরম করে হেগসেথ স্বীকার করেন, ‘ইরান যে একদমই গুলি বা হামলা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে, তা আমরা কখনো আশা করিনি। প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি পরাশক্তির বিরুদ্ধে তারা কতটা বড় পরিসরে টিকে থাকতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঘায়েল’ হওয়ার নেপথ্যে

প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা ও মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো জেসন ক্যাম্পবেল অবশ্য হেগসেথের যুক্তির ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, মার্কিন হামলা সত্ত্বেও ইরান যে শুধু তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে, তা–ই নয়; বরং তারা এমন কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে, যা আগে কখনো করেনি।

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জেসন ক্যাম্পবেল বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই জানতাম যে ইরানের হাতে এমন কিছু যুদ্ধাস্ত্র বা “টুলস” আছে, যা তারা যুদ্ধের শুরুতে ব্যবহার না করে পরের জন্য জমিয়ে রেখেছে। এখন তারা সেগুলোরই একটি অংশবিশেষ করে বড় ও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে।’

ক্যাম্পবেলের মতে, মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্ব প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের বিষয়টি হয় অনেক বাড়িয়ে বলেছে, নয়তো ইরানের শক্তির এমন কিছু দিকের ওপর নজর দিয়েছে, যা তাদের মূল কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথের জ্যেষ্ঠ সহযোগী অধ্যাপক ও ন্যাটোর সাবেক গবেষণা বিশ্লেষক প্যাট্রিক ব্যুরিও এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের বিশাল সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও নিকট ভবিষ্যতে ইরান মার্কিন সেনা ও স্থাপনার ওপর এমন প্রাণঘাতী আঘাত অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।

আল–জাজিরাকে প্যাট্রিক ব্যুরি বলেন, ‘মার্কিন সামরিক শক্তির সামনে আসল সমস্যা হলো ব্যয়ের চরম অসংগতি। এটি এখন প্রমাণিত যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং উৎক্ষেপণের খরচ, সেগুলো মাঝ আকাশে ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত আধুনিক সরঞ্জামের খরচের চেয়ে অনেক গুণ কম।’

এ বিশাল খরচের পার্থক্যের কারণেই ইরান কৌশলগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘায়েল করতে পারছে। ফলে এ সমস্যার সমাধান এত সহজে হচ্ছে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্যাট্রিক ব্যুরি।

নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতেও বিষয়টি ঠিক তা–ই। তাঁর সহজ বিশ্লেষণ, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পরাজিত করার কোনো প্রয়োজন ইরানের নেই। মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির উপস্থিতির ওপর মানবিক, সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ঢাল ভেদ করে মাঝেমধ্যে কয়েকটি নিখুঁত আঘাত হানতে পারাটাই ইরানের জন্য যথেষ্ট।’

 

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ