1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হতে এনওসি পেলেন আবেদুর রহমান সিকদার | ঢাকা আওয়ার
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হতে এনওসি পেলেন আবেদুর রহমান সিকদার

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথে আর কোনো বড় বাধা রইল না।

সোমবার (২৯ জুন) বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবেদুর রহমান সিকদারকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে নতুন ব্যাংকটির এমডি হিসেবে তার যোগদানের পথ প্রায় চূড়ান্ত হলো।

এখন প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে চলতি সপ্তাহেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন এমডির যোগদানের মাধ্যমে পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকের (এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক) একীভূত কার্যক্রম, আমানত ফেরত এবং পুনর্গঠনের কাজ গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় আবেদুর রহমান সিকদারকে এমডি হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করা হয়।

এ বিষয় জানতে চাইলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ঢাকা পোস্টেকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আজ অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। আশা করছি চলতি সপ্তাহেই নতুন এমডি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এমডি হিসেবে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করেই নতুন দায়িত্বে যোগ দেব। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করব।

এদিকে দীর্ঘদিন এমডি না থাকায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম অনেকটাই ধীরগতিতে চলছিল। পাঁচটি সংকটে থাকা ব্যাংকের সম্পদ, দায়, জনবল ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এগিয়ে নিতে একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহীর প্রয়োজন হলেও পদটি শূন্য ছিল।

বিশেষ করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম, বড় অঙ্কের লেনদেন অনুমোদন, পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজে বিলম্ব হচ্ছিল। অনেক গ্রাহক সময়মতো আমানত উত্তোলন করতে না পারার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), জনবল ও শাখা কার্যক্রম একীভূত করার কাজও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছিল না। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এমডি দায়িত্ব গ্রহণ করলে এসব কাজের গতি বাড়বে এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

দেশের ব্যাংক খাতে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সম্পদ ও দায় একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার।

এর আগে জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫’-এর আওতায় এনে তাদের সম্পদ ও দায় নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি জানান,’আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর আওতায় এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে কোম্পানি সেক্রেটারি, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদানের মাধ্যমে ব্যাংকটির পুনর্গঠন, গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে। বিশেষ করে আমানত ফেরত, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনায় তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটিতে সরকারের অংশীদারিত্ব রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমার বিপরীতে শেয়ারে রূপান্তর করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ