খুলনা মহানগরীতে ছোট বড় প্রায় ২ শতাধিক বিউটি পার্লার রয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করলেও পার্লারগুলো আগের মতোই কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। পার্লারগুলোর বিরুদ্ধে ভোক্তাদের অভিযোগ দিন দিন বাড়লেও সমাধানে এগিয়ে আসছে না কেউ।
সম্প্রতি খুলনা নগরীর নিরালা শেরে বাংলা রোড সংলগ্ন তানিয়া বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করছে ভোক্তারা। মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদেরও।
এর আগে বিভিন্ন অভিযোগে পার্লারটিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করলেও ভোক্তাদের অভিযোগ আগের মতোই পার্লারটি পরিচালনা করছেন সত্ত্বাধিকারী তানিয়া ইসলাম। ত্বকের সৌন্দর্য বর্ধনের নামে মেয়াদোত্তীর্ণ ক্রিম, মেডিসিন ও প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করায় অনেকের শরীরে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ।
শুধু তানিয়া বিউটি পার্লারই নয় নগরীর অধিকাংশ পার্লারে নিম্নমানের প্রসাধনীসহ ভেজাল, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘তানিয়া বিউটি পার্লারের একজন নিয়মিত কাস্টমার আমি। পার্লারটি আগে থেকেই দাম বেশি নেয় তারপরেও মানহীন পণ্য ব্যবহার করে। তার পার্লারে যাওয়ার পর থেকে আমার শরীরে এলার্জিজনিত রোগ দেখা দিয়েছে।’
সিনথিয়া সাথী নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, এই পার্লারে রূপচর্চা করায় আমার ত্বক পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখন আর পার্লারটিতে যাচ্ছিনা।
এদিকে তানিয়া বিউটি পার্লারের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতরাও। কর্মরত নারী কর্মীরা জানান, পার্লারের মালিক তানিয়া তাদের কয়েক মাসের বেতন আটকে রেখেছে। একেতে স্বল্প বেতন তারপর মাসের পর মাস বেতন আটকে থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
প্রতিষ্ঠানটিতে নানা অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলারা জামানের নেতৃত্বে সম্প্রতি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পণ্যের অপ্রাসঙ্গিক মূল্য বৃদ্ধি ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম পাওয়ায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে তানিয়া ইসলামের নিকিট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ সকল তথ্য সব মিথ্যা। আমার প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য ছিল না, আমার ব্যবহৃত শ্যাম্পু ছিল। এছাড়া আমারা পণ্যগুলো সঠিক দামেই বিক্রয় করি।’
সংশ্লিষ্ট পার্লার ব্যবসায়ীরা বলছেন, রূপচর্চার কাজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং কারিগরি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
ফাতেমাতুজ্জোহরা (ছদ্মনাম) নামক এক পার্লার ব্যবসায়ী জানান, ‘পার্লারে রুপচর্চার কাজে নিয়োজিত বেশিরভাগ মেয়েদেরই রুপচর্চা সম্পর্কে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা নেই। যার কারনে কাস্টমারদের নানাবিধ সমস্যায় ভূগতে হয়।’
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান বলেন, কসমেটিকস কিংবা প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রয় করতে হলে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের লাইসেন্স প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক জায়গাতেই লাইসেন্স না নিয়েই গড়ে তোলা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
শুধু তানিয়া বিউটি পার্লার নয়। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে গড়ে ওঠা অধিকাংশ পার্লারগুলোর চিত্র প্রায় একই। কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সুষ্ঠু পদক্ষেপে এ সকল পার্লারগুলোর অনিয়ম কমিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।