1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
শিয়া ও সুন্নির ইতিহাস | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

শিয়া ও সুন্নির ইতিহাস

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

শিয়া ও সুন্নি ইসলাম হলো ইসলামের দুটি প্রধান সম্প্রদায়। ৬৩২ খৃষ্টাব্দে ইসলামী নবী মুহাম্মদ (সাঃ) -এর মৃত্যুর পর হযরত আবু বকর খলিফা নির্বাচিত হলে কয়েকজন দাবি করে নবী মুহম্মদ ঐতিহাসিক গাদীর খুমের ভাষণে তাঁর চাচাতো ভাই ও জামাতা আলী ইবনে আবী তালিবকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মনোনীত করে যান। মুসলিম সম্প্রদায়ের খলিফা হিসেবে মুহাম্মদ (সাঃ) এর উত্তরাধিকার লাভ নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিবাদ ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, ফলশ্রুতিতে জামালের যুদ্ধ ও সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কারবালার যুদ্ধের পর এই বিরোধ কিছুটা কমে গেছে, যেখানে উমাইয়া খলিফা প্রথম ইয়াজিদের অধীনে হুসাইন ইবনে আলী ও তার পরিবার-পরিজন নিহত হন, এবং প্রতিশোধের স্পৃহা প্রারম্ভিক ইসলামী সম্প্রদায়কে দুভাগে বিভক্ত করে দেয়, যা বর্তমানে ইসলামী শিয়াবাদ নামে পরিচিত। (ইসলামী শব্দটি ব্যবহারের কারণ হল যেন একে খ্রিস্টান শিয়াবাদ হতে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়)

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর ইন্তেকালের একশ বছরের কম সময়ের মধ্যে ইসলামের ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। একটি হলো দ্রুতগতিতে আরবের সীমানা ছাড়িয়ে প্রাচ্যে পারস্য হয়ে ভারত এবং পাশ্চাত্যে আফ্রিকা হয়ে স্পেনে ইসলামের প্রসার। অন্যটি হলো মহানবীর উত্তরসূরি হিসেবে ইসলামি শাসনব্যবস্থার নেতৃত্ব প্রদান নিয়ে শিয়া ও সুন্নি -এই দুটি ধারায় মুসলমানদের বিভক্ত হয়ে পড়া।

শিয়াতু আলী বা আলীর দল বা আলীর অনুসারীরা সাধারণভাবে শিয়া নামে পরিচিতি। মুসলিম উম্মাহর এই প্রধান দলটির উদ্ভব ঘটেছিল প্রথমত রাজনৈতিক কারণে। এর সঙ্গে ধর্মীয় তথা আধ্যাত্মিক বিষয় যুক্ত হয়ে মতভেদ প্রবলতর হয়। শিয়াপন্থীরা বিশ্বাস করেন যে হজরত আলী (রা.) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর প্রকৃত উত্তরসূরি এবং এই ধারাবাহিকতায় হজরত আলীর দুই ছেলে হাসান ও হোসেন ইসলামের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের দাবিদার। কিন্তু অন্যরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁদেরকে এই রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব বা ইমামত থেকে বঞ্চিত করেছে। অন্যদিকে সুন্নিপন্থীরা মনে করেন যে মহানবী (সাঃ) তাঁর বংশ পরম্পরার মাধ্যমে ইসলামের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নেতৃত্ব প্রথা প্রবর্তন করেননি। বরং তিনি কাউকে তাঁর উত্তরসূরি মনোনীত না করে তাঁর নিকটতম সহযোগী বা সাহাবায়ে কেরামসহ তখনকার মুসলমানদেরকেই নিজেদের নেতা নির্বাচনের পথ খুলে রেখে গেছেন। সে কারণেই তাঁর ইন্তেকালের পর সর্বসম্মতিক্রমে হজরত আবু বকর (রা.) প্রথম খলিফা বা ইমাম হয়েছেন। এরপর হজরত উমর (রা.) দ্বিতীয়, হজরত উসমান (রা.) তৃতীয় আর হজরত আলী (রা.) চতুর্থ খলিফা হন।

তবে আলীর (রা.) খিলাফতকালে সিরিয়ার শাসক মুয়াবিয়া বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র ও কূটচালের মাধ্যমে আলী (রা.)কে কোণঠাসা করে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বকে দ্বিধা বিভক্ত করেন। এরপর খারেজিরা আলী (রা.)কে হত্যা করলে মুয়াবিয়া নিজেকে মুসলিম বিশ্বের শাসক বা খলিফা ঘোষণা করেন। আর মৃত্যুর আগে নিজ পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকার নির্বাচন করে দামেস্কে উমাইয়া রাজতন্ত্রের সূচনা ঘটান। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে আলীর ছোট ছেলে হোসেন সোচ্চার হলে তাঁকে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনী নির্মমভাবে শহীদ করে। আর হোসেনের এই হত্যাকাণ্ড মুসলিম উম্মাহর মধ্যে চিরকালের মতো বিভাজন তৈরি করে দেয়।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ